বার্তা নিউজ / ২৩ জুলাই ২০১৬/  মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দিয়েছেন কিন্তু ট্রেনিং জমা দেননি জঙ্গী ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় প্রয়োজনে আবারো মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় নামবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমান। 
শনিবার ২৩ জুলাই দুপুর ১২টায় শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় ১ হাজার মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্যের বক্তব্যে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা সকলে দুই হাত তুলে জঙ্গী ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় আবারো রাস্তায় নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ আগে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী সহ অন্যদের সাথে নিয়ে ফলক উম্মোচন করে কমপ্লেক্সের নির্মান কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন সেলিম ওসমান।
সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মানের জন্য সরকারের পক্ষ ১ হাজার ১ টা টোকেন মানিতে ৮ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও নারায়ণগঞ্জে একই টোকেন মানিতে সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি বরাদ্দ প্রদান করেন। ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৩তলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ঠিকাদার ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় টেন্ডার গ্রহন করেছেন। কমপ্লেক্সের প্রবেশ পথে থাকবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মোড়েল, কমপ্লেক্সের সামনে থাকবে খোলা মঞ্চ। যেখানে বিভিন্ন সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে। দ্বিতীয় তলায় অডিটরিয়াম এবং তৃতীয় তলায় মুক্তিযোদ্ধাদের বসার জন্য অফিস নির্মান করা হবে। থাকবে ৯টি দোকান ঘর।
সরকারী অর্থায়নে ভবনটি তৃতীয় তলা পর্যন্ত সম্পূর্ন করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় কমপ্লেক্সটি ৫ তলা সম্পূর্ন করার ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে সরকারী অনুমোদনের জন্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার মোহাম্মদ আলীকে অনুরোধ করেন।
সেলিম ওসমান তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জন্য দ্বিগুন জমি বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বরাদ্দকৃত জমি মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝিয়ে দিতে সহযোগীতা করার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ও বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমডোর মোজ্জামেল হককে ধন্যবাদ সহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভেতরে নাম ফলকে নারায়ণগঞ্জের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের অর্ন্তভূক্ত করার অনুরোধ করেন সেলিম ওসমান বলেন, নাম ফলকে নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার নাম থাকতে হবে। ফলকে জায়গা না হলে প্রয়োজনে দেয়ালে খুদাই করে নাম অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলাম তাদের মধ্য থেকে নাসিম ওসমানের মত অনেকেই চলে গেলে। আজকের এই দিনে আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমানকে গভীর ভাবে স্মরন করছি। এখন ভয় করে কবে যেন আমরাও চলে যাই। সবাইকেই চলে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের সবাইকে বেঁচে থাকতে হবে। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কাজ করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে না পারবো ততদিন পর্যন্ত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থকতা আসবে না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমাদের সবাইকে একত্রে উন্নয়ন কাজ করে যেতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে কোন প্রকার ভেদাভেদ থাকলে চলবে না।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এম এ  সাত্তার, নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন, সদর উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুর রহমান, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি চন্দন শীল,মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কমান্ডার শাহজাহান ভূঁইয়া জুলহাস সহ নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারবৃন্দরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিনুর রহমান।


Post a Comment

Disqus