নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের খুন, চাঁদাবাজির কথা যাতে না বলি এ কারনে আমাকে এভাবে অপমান করা হচ্ছে।
তবে আমি তথাকথিত নারী নই, আমি নাজমা রহমান, এস এম আকরাম নই যে তার কথা শুনে দল ছেড়ে চলে যাবো বা ইনএকটিভ হয়ে যাবো। আমি আওয়ামীলীগে আছি, আওয়ামীলীগে থাকবো।
আওয়ামীলীগে থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো। আজমীর ওসমান যে আঠারোটা খুন করেছে সে কথা আমি বলে যাবো। এতে আমার মৃত্যু হলে হবে।
সোমবার দুপুরে নগরীর বন্দরের দড়িসোনাকান্দা এলাকায় মদনগঞ্জ থেকে নবীগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত একশ’ ফুট প্রশস্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সিটি’র ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র ওবায়েদউল্লাহ, কাউন্সিলর ফয়সাল আহম্মেদ সাগর, রেজওয়ানা হক সুমী, হান্নান সরকার, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল মজুমদার।
আইভী বলেন, এলজিইডি, ড্রেজার, ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট, পিডব্লিউডি সকল সরকারি কাজের নিয়ন্ত্রন নারায়ণগঞ্জের গডফাদারের দখলে। সেখানে টেন্ডার কেনা তো দূরের কথা তার লোকের বাইরে কাউকে সেখানে যেতেও দেয়া হয়না।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার নিয়ে এসব কখনও হয়না। কারন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে স্বচ্ছ টেন্ডারের মাধ্যমে যে কাজ পায় সে-ই কাজ নেয়। যদি কোন কাজের সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে আমি এলাকাবাসির জুতা নেয়ার জন্য মঞ্চে দাড়িয়ে থাকবো।
আমার কাউন্সিলরদের মধ্যে বিভেদ তৈরী করার জন্য, আমি যাতে খুন, চাঁদাবাজির কথা যাতে না বলি এ কারনে আমাকে এভাবে অপমান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি জানতে চাই যে গডফাদার তার একজন নারীকে এভাবে লাঞ্ছিত করছে সে কি কোন মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয়নি ?
তার কি কোন মেয়ে নাই ? তার কি কোন বউ নাই, বোন নাই ? তাহলে কিভাবে একজন নারীকে সে বেইজ্জতি করছে এইভাবে ? তাকে যে মা জন্ম দিয়েছে সেই মা যদি সেদিন সামনে থাকতো তাহলে সে লজ্জায় মুখ লুকাতো।
তবে আমি তথাকথিত নারী নই যে তার কথা শুনে দল ছেড়ে চলে যাবো বা ইনএকটিভ হয়ে যাবো। আমি নাজমা রহমান নই যে তার কথা শুনে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যাবো। আমি এস এম আকরাম নই যে তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দল ছেড়ে চলে যাবো।
আমি গিয়াস উদ্দিন সাহেব যাকে বাধ্য করা হয়েছে অন্য দলে চলে যেতে। কামাল মৃধাকে মারা হয়েছে, মামলা দেয়া হয়েছে, দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। আমি আরাফাত নই। আমি আনোয়ার সাহেব নই যে আমাকে নানান ধরনের কথা বলা হবে লোভ দেখানো হবে আর আমি অন্য দলে চলে যাবো।
আমি আওয়ামীলীগে আছি, আওয়ামীলীগে থাকবো। আওয়ামীলীগে থেকেই চাঁদাবাজির, সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করবো। আজমীর ওসমান যে এই অল্প বয়সে আঠারোটা খুন করেছে তার হত্যাকান্ডের বর্ননা আমি অবশ্যই তুলে ধরবোই। এতে যদি আমার মৃত্যু হয় তবে আমি মৃত্যুকেই বরন করে নেবো।
আমার জানাজা দিতে যাবেন। আমার মৃত্যুর পর আমার লাশটা যাতে আমার বাবার পাশে দাফন করা হয়। সেটাও আমি বলে গেলাম। আমার বাবা যেমন অন্যায়ের সাথে আপোষ করে নাই আমিও তার মেয়ে হয়ে অন্যায়ের সাথে আপোষ করবো না।
আমাকে যতই বলেন না কেন আমি দুশ্চরিত্রের নারী আমি দুশ্চরিত্রের নারী হয়েই নারায়ণগঞ্জ শহরে কাজ করবো আপনার মতো গডফাদারের কাছ থেকে আমার চরিত্রের সার্টিফিকেট নিতে হবেনা। যতটা খারাপ কথা আপনি আমাকে বলবেন ততটা খারাপ কথা আপনার মেয়ের উপরে বলবে।
আমারও সন্তান আছে তাই আমি আপনার মেয়েকে কিছু বলবনা। আমার বাপকে নিয়ে আপনি যেসব কথা বলেছেন আমি আপনার বাপকে নিয়ে সে কথা বলবো না। আপনি আমার দাদাকে নিয়ে যেসব কথা বলেছেন আমি আপনার দাদাকে নিয়ে সেসব কথা বলবো না।
তিনি বলেছেন আমার রক্ত খারাপ। মানলাম আমার রক্ত খারাপ। আর আপনার রক্ত রাজকীয়। আপনি রাজকীয় রক্ত নিয়ে এই শহরের মানুষের টাকা শোষন করে, নারায়ণগঞ্জের শত শত ছেলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে, চাঁদাবাজ বানিয়ে সন্ত্রাসী বানিয়ে আবার তাদের ক্রস ফায়ারে হত্যা করে তিনি সুন্দর সুন্দর কথা বলেন,
নিজেকে রাজকীয় রক্তের লোক দাবী করেন তাহলে এমন রাজকীয় রক্ত আমার দরকার নেই। দাউদকান্দি থেকে তারা কিভাবে এসেছিলো, কিভাবে শত কোটি টাকার মালিক হলো তা নারায়ণগঞ্জবাসি জানে। আমি এটা বলতে চাইনা।

Post a Comment
Facebook Disqus