বতমান বাতা / বিনোদন / ১৩ ফেব্রুয়ারিঃ বাঙালি প্লেব্যাক গায়িকাশ্রেয়া ঘোষাল বিয়েকরেছেন শৈশবের বন্ধুশিলাদিত্যকে। ১০ বছরআগে যেদিন তাঁরহবু স্বামীর সঙ্গেপ্রথম দেখা হয়েছিল, কাকতালীয়ভাবে সেই তারিখেই বিয়েকরলেন তিনি! শিলাদিত্য মুখপাধ্যায় পেশায়ব্যবসায়ী ,’রেজিল্যান্ট টেক’-এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি।হিপক্যাস্ক আর পয়েন্টেশেলফ বলেদুটি অ্যাপ তৈরিরকোম্পানির সঙ্গেও যুক্ত।বিয়ের পর কোনআড়ম্বর ছাড়াই টুইটারে জানানসবাইকে
বছরদশেক ধরেই শ্রেয়ার আলাপশিলাদিত্যর সঙ্গে। সুরকারশান্তনু মৈত্র বলেন,আমি যখনমুম্বাইতে এসেছি, তখনথেকেই তো শিলাদিত্যকে চিনি।জানতাম শ্রেয়ার জীবনে সে খুবস্পেশাল। একসঙ্গে কলেজেপড়ত দুজনে।শ্রেয়া তখনও এতসাফল্য পায়নি। সেসময় থেকেই ওদেরপ্রেম। ওদের বোঝাপড়াটাও খুবভালো
এতবছরের প্রেম কিন্তু মিডিয়াতে কোনোদিন একটাশব্দও বলেননি কেন? শ্রেয়া মানুষটাই অন্যরকম। তাইকাউকে কিছু বলেননি। আমরাওযারা ব্যাপারটা জানতাম, কিছু বলিনি। তবেএক সময় আমিওদের বলেছিলাম অনেকতো হলো, বার বিয়েটা করেফেলো। আমার মনেহয় এক বছরআগে থেকেই ওরাবিয়ের দিনটা ঠিককরে ফেলেছিল, বলেনশান্তনু

  ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এমনকোনো পরিচালক নেইযাঁর ছবিতে শ্রেয়াগান করেননি। কিন্তুবিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেনএকমাত্র তিন বাঙালিসঙ্গীত পরিচালক। মুম্বাই থেকেবিয়েবাড়িতে পৌঁছলেন সস্ত্রীক শান্তনু আরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কলকাতাথেকে উড়ে গেলেনসংগীত পরিচালক জয়সরকার। বলিউডে এতসেলিব্রিটির ভিড়েও মাত্রতিনজন সুরকারকে কেনবেছে নিলেন শ্রেয়া? উত্তরে জয় বলছেন, সংগীত পরিচালক হিসেবেনয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জোরেইশ্রেয়া আমাদের ডেকেছেন। আমারসঙ্গে ওর পরিচয়১৯৯৯ থেকে। শ্রেয়াকে বিয়েতেএকটা ঘড়ি দিলাম।শিলাদিত্যকে একটা কলম।জিৎ বলছেন, দুইবছর আগে শ্রেয়াওর ফ্ল্যাটে ঘনিষ্ঠদের ডেকেছিল। ওইঅনুষ্ঠানেও শিলাদিত্য এসেছিল। দুজনকেএকসঙ্গে মানিয়েছে দারুণ।ওদের ঘড়ি উপহারদিলাম


 এইগোপনীয়তাই কি সেলিব্রিটি বিয়েরনতুন ট্রেন্ড? বিদ্যাবালনের বিয়ের সময়রেখা ছাড়া আরতেমন কোনো কেউআমন্ত্রণ পাননি। জনআব্রাহাম তো সুদূরআমেরিকাতে গিয়ে বিয়েকরে তারপর খবরটাটুইটারে ফাঁস করেছিলেন। রানীমুখার্জীও কম যাননা। ইতালিতে গিয়েআদিত্য চোপড়ার সঙ্গেবিয়েটা সেরে ফেললেন। করনজোহর আর বৈভবীমার্চেন্ট ছাড়া কাউকেইদেখা যায়নি সেইবিয়েতে। একই ঘটনারপুনরাবৃত্তি দিয়া মির্জাআর সোহা আলিখানের বিয়েতেও। এমনকীটলিউডের সুদীপ্তা চক্রবর্তীও নিজেরবিয়ের খবর জানিয়েছিলেন ফেসবুকে। গোপনীয়তা রেখেঘনিষ্ঠদের সামনে বিয়েকরার রেওয়াজে নতুনসংযোজন শ্রেয়া
এঁদেরসবারই একটাই ইচ্ছে।মূল অনুষ্ঠান থেকেযেন নজরটা নাসরে যায়। পেশারখাতিরে লাইমলাইটে ঝলসেযেতে অভ্যস্ত এঁরা।কিন্তু জীবনের অন্যতমগুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটিকে তাঁরাপর্দানশিন করে রাখতেচান। আত্মীয়স্বজন আরপেশাগত জীবনের হাতেগোনা কিছু মানুষছাড়া কারও প্রবেশাধিকার থাকেনা। কেউ কেউবিয়ের পরে গোটাইন্ডাস্ট্রির জন্য একটারিসেপশন দিয়ে থাকেন।যেমনটা হয়তো করবেনশ্রেয়াও

৩০জানুয়ারি শ্রেয়া অবশ্যএকটা হাল্কা আভাসদিয়েছিলেন ফেসবুকে। লিখেছিলেন, জানিনা, আমি সুপার-নার্ভাস নাসুপার-এক্সাইটেড। রকম এর আগেকোনও দিন অনুভবকরিনি। কী করতেচলেছি, তা আপনাদের পরেজানাব। আপনাদের শুভেচ্ছা চাই সাত পাকঘুরে গত ফেব্রুয়ারি শুক্রবার টুইটারে বিয়েতেশিলাদিত্যের সাথে সেলফিসহ খবরটা দিলেননিজেই
বাঙালিমতে মন্ত্র পড়েবিয়ে। ছিমছাম অনুষ্ঠানে শ্রেয়ার পরিবারছাড়াও অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ঘোষালপরিবারের বন্ধুবান্ধব। কোনও বলিউডি আদবকায়দা নেইছিল না বললেইচলে সেখানে। এমনকীযে শ্রেয়ার কণ্ঠেবলিউড মেতেছে রোম্যান্টিক গানে, তাঁর বিয়েতে বাজেনিফিল্মি গান। শোনাযায়নিডোলা রেকিংবাজাদু হ্যায়নশা হ্যায়বাযাও পাখিবাসর ঘরে বাজেনি সাথিয়াশুধু উলুধ্বনি, শঙ্খেফুঁ, সানাইয়ের মায়াবীসুর

 কিন্তু শ্রেয়াথাকলে সঙ্গীতের ছায়াকেকি একেবারে অস্বীকার করাসম্ভব? বিয়ের আগেশ্রেয়াকে বসানো হয়েছিলএকটা ঘরে। অন্যঘরে ছিলেন শিলাদিত্য। কিন্তুবিয়ের মণ্ডপে নিয়েযাওয়ার আগে বেশখানিকটা অপেক্ষা করতেহচ্ছিল শ্রেয়াকে। ইয়ার্কি করেশ্রেয়া তখন নাকিবলেন, ‘কত বড়মুখড়া! গানটাই শুরুহচ্ছে না!
পানপাতা দিয়ে মুখঢাকার আগেও সেইঠাট্টা। শ্রেয়ার হাতেচারটা পান পাতা।মুখ ঢাকার আগেশ্রেয়া নাকি হেসেবলেছিলেন, ‘রিহার্সাল

চাই!’ রেকর্ডিংয়ের আগে যেভাবে ওয়ান, টু, থ্রিবলে গানশুরু হয়, ঠিকসে ভাবেই শান্তনুকিউদিলেন। তারপরই পিঁড়িধরার গুরুদায়িত্ব পড়লশান্তনু, জিৎ আরজয়-এর উপর।ওঁদের সঙ্গে ছিলেনশ্রেয়ার কাকা আরভাই। চার পাকঘুরিয়ে শান্তনু ক্লান্ত। শেষঅবধি পিঁড়ি ধরেথেকে ঘাম ঝরিয়েফেললেন জিৎ আরজয়। তখন প্রায়মধ্যরাতের কাছাকাছি। পাশথেকে এক আমন্ত্রিত বললেন, এত দিন সুরকাররা শ্রেয়াকে দিয়েখাটিয়ে খাটিয়ে গানরেকর্ড করেছে। বিয়েরপিঁড়িতে বসে শ্রেয়াসব খাটনি উসুলকরে নিল। মোবাইলক্যামেরা ছিল। কিন্তুতিন জনেই সমস্বরে বললেন, উৎসবের পরিবেশটাকে সম্মানজানিয়ে আমরা ছবিতুলিনি
বিয়েরঅনুষ্ঠানের পর পুরোদস্তুর বাঙালিমতে ভূরিভোজ। মাছ, মাংস, মিষ্টি। অনুষ্ঠান শেষহতে প্রায় ভোর।শুক্রবার সকালে শ্রেয়াগেলেন শিলাদিত্যর সান্তাক্রুজের ফ্ল্যাটে। মুম্বাই থেকেফিরে সকাল সাড়েএগারোটা নাগাদ কলকাতাএয়ারপোর্টে জয়ের সঙ্গেদেখা সুনিধি চৌহ্বানের। ওকেবললাম যে, শ্রেয়ার বিয়েথেকে ফিরছি। অবাক। বলল, সবেটুইটারে খবরটা জেনেছে, হেসে বললেন জয়।হনিমুনে শ্রেয়া আরশিলাদিত্য যাচ্ছেন ইউরোপ।আগামী এক মাসকাজ রাখছেন না।ওকে বলেছি এইসময়টা ইনজয় করতে। সেটা ভালোবেসেই মানছে, বলছেন শান্তনু। কোনওরেকর্ডিং বা শোনয়। কিছু দিনমন দিয়ে শ্রেয়াগৃহবধূর মননি করবেনযে!



Post a Comment

Disqus