Tamim-1425564019



÷vd wi‡cvU©i / বর্তমান বারতা / 7 gvP©© ২০১৫ /সম্প্রতি সময়টা মোটেই ভাল যাচ্ছিল না তামিম ইকবালের। বার বার নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। তার মধ্যে বিশ্বকাপের আগে ইনজুরির কারণে দলে সঙ্গে অনুশীলনও করতে পারেননি। এমনকি বিশ্বকাপ খেলতে দলের সঙ্গে নয়, একাই অস্ট্রেলিয়া যেতে হয় তাকে।


বিশ্বকাপে খেলতে নেমেও প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটে আলো ছড়াতে ব্যর্থ হন তামিম। দুই ম্যাচ মিলে সংগ্রহ করেন ১৯ রান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৯ আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘ডাক’ মারেন তিনি। এ জন্য তামিমকে সমালোচনার আগুনেও পুড়তে হয়েছে। এসব সমালোচনা যেন আর সইতে পারছিলেন না তিনি। বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটে হাতে জ্বলে উঠলেন এই ওপেনার। স্কটিশদের করা ৩১৮ রান টপকে দলকে জেতাতে তিনি খেললেন ৯৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।
স্কটল্যান্ডের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করে জেতা প্রসঙ্গে ম্যাচ শেষে তামিম বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে নামার আগে আমাদের একটা টিম মিটিং হয়েছিল। সেখানে কোচ আমাদের বলেছিলেন, টার্গেট নিয়ে চিন্তা না করতে। আমরা আগে ব্যাট করলে যেভাবে খেলতাম, সেভাবেই ব্যাট করতে বলেছিলেন তিনি। ২-৩ বছর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমরা এমন লক্ষ্য তাড়া করেই জিতেছিলাম। সুতরাং আমরা স্কোরবোর্ড নিয়ে চিন্তা করে আলাদা চাপ নেইনি। বরং আমরা ক্রিকেটটা উপভোগ করেছি।’
নিজেকে নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আসলে সমালোচনা হবেই। পেশাদার ক্রিকেটার যেহেতু হয়েছি, কম-বেশি সমালোচনা শুনতেই হবে। তবে আমার একটা অনুরোধ, আপনারা ধৈর্য ধরুন। আমিও সব সময় ভালো খেলতে চাই। খারাপ সময়েও আপনাদের সমর্থন চাই।’
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেসহ বাংলাদেশ ওয়ানডেতে ৩০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে মোট ৩ বার। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, এই তিনটির দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তামিম। অন্য ম্যাচটিতে তিনি ছিলেন না। এ ছাড়া বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতা ম্যাচের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তামিম!
বাংলাদেশ প্রথমবার ৩০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জেতে ২০০৯ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বুলাওয়েতে সে ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩১২ রানের বড় স্কোর গড়ে জিম্বাবুইয়ানরা। সে ম্যাচেই ১৯৪* রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যান চার্লস কভেন্ট্রি।
জিম্বাবুয়ের স্কোর দেখে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি বুঝি বাংলাদেশ হেরেই যাবে। কিন্তু কে জানত, বাংলাদেশ দলেও ‘বিধ্বংসী’ রূপ ধারণ করতে অপেক্ষা করছেন এক ব্যাটসম্যান। সেই ব্যাটসম্যানটি অন্য কেউ নন, তিনি তামিম। তার ১৫৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংসের সুবাদে প্রথমবারের মতো ৩০০ রান তাড়া করে জেতার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। ৪ উইকেট ও ১৩ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেন টাইগাররা। কভেন্ট্রির সঙ্গে যৌথভাবে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তামিম।
এরপর ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ৩০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জেতে বাংলাদেশ। ফতুল্লায় নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ৩০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে সিরিজে কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি গড়েন টাইগাররা। অবশ্য সে ম্যাচে দলে ছিলেন না তামিম। তবে সে মাচেও বাংলাদেশের জয়ের নায়ক এক ওপেনারই। দলকে ৯৬ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন শামসুর রহমান।
aaa
আর এবার বিশ্বকাপে এসে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের করা ৩১৮ টপকে বাংলাদেশ জিতল ৬ উইকেটে। এটা বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। আর বাংলাদেশের জয়ের নায়ক তামিম। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে দেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসও খেললেন এই ওপেনার। ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মোহাম্মদ আশরাফুলের করা ৮৭ রানের রেকর্ডটি তামিম ভেঙে দিলেন ৯৫ রান করে।
এদিন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির কীর্তিও প্রায় গড়তে যাচ্ছিলেন তামিম। কিন্তু এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে তা আর হয়নি। সেঞ্চুরি করলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিততে পারতেন তামিম। কিন্তু ১৫৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন স্কটল্যান্ডের কাইল কোয়েটজার। তবে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক তো তামিমই!
index
বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতা ম্যাচেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তামিম। ২০১২ সালে এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ সে ম্যাচে ভারতের করা ২৮৯ রান টপকে ৫ উইকেটের দারুণ এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন তামিম। অবশ্য ৩১ বলে ৪৯ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সাকিব আল হাসান। তবে এশিয়া কাপের সে আসরটি কখনোই ভুলবেন না তামিম। তিনি টানা ৪ ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন!

Post a Comment

Disqus