বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৯ মে ২০১৫ / 
বাংলার পথে প্রান্তে ছরিয়ে রয়েছ অগনিত প্রাচীন নিদর্শনঢাকা হতে ২৪ কিলো দূরত্ব হবে সোনারগাঁও মোগড়াপাড়ামোগড়াপাড়া হতে সোনারগাঁও উপজেলা প্রায় দুই কিলো দূরত্ব হবেউপজেলা পরিষদ হতে এক-দুই কিলো হবে বিষ্ণুপদ ব্যানার্জী সেই বাড়িটি (মধু ঠাকুরের বাড়ি) ঐতিহ্যবাহী স্থানটির নাম হাড়িয়া চৌধুরীপাড়াএলাকাটি মন্নারবাগ নামে সকলেরই পরিচিত
ইউনিয়ন বৈদ্যেরবাজারব্যানার্জী,চেটার্জী,চক্রবর্তী এই গোত্রকে সংক্ষেপে সম্মান করে ঠাকুর বলে ঢাকেব্যানার্জীর বসত বাড়িটি এখনো আছেবাড়িটি চতুভূর্জচারদিকে বারান্দা আছেতাই সৌন্দর্যের কমতি নেইবাড়ির ভিতরে-বাহিরে আসা-যাওয়া করার জন্য তিন দিকে রাস্তা আছেপূর্বদিকে বাড়ির গেইটের সামনে একটি কাঁঠাল গাছ আছেগাছে বিস্তর কাঁঠাল ফলন হয়কাঁঠাল গাছটি বহুকাল আগের
২০১১/২০১২ সালের ব্যবস্থাপনা কমিটি বিদ্যালয়ের তহবিল হতে সৌন্দর্য় বৃদ্ধি জন্য কাঁঠাল  গাছের গোড়ায় গোলাকার করে বসার স্থানঠি তেরী করা হয়ব্যানার্জী বাড়ি হতে ২০ গজ দূরত্ব তিনটি লিচু গাছ দেখা  যাচ্ছেবহু পুরাতনপ্রতি বছর লিচু ভাল ফলন হয়এতে দূরের মানুষকে আকৃষ্ট করেঠাকুর বাড়ির পশ্চি-পূর্ব দক্ষিণে তিনটি পুকুর আছে
পূর্বদিকের পুকুরটি ছিল বিধায় বাড়ির আঙিনাকে আলোকিত করেছে ব্যানার্জীর দুইটি ঘাটলা ছিল এখন আর নেইপশ্চিম কোনে পুকুর ছিল পরিবারের সকলে ব্যবহার করতোতাতে একটি ঘাটলা ছিল,সেই ঘাটলাটিও নেইএখন যে ঘাটলাটি দেখা যায়,নতুন করে তৈরী করা হয়েছে
দক্ষিণ বরাবর যে পুকুরটি ছিল-তা বালু দ্বারা ভরাট হয়েছেউত্তর দিকে লম্বা-লম্বী খালের মতো ছিলযা বাহিরের লোক ঠাকুর বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারেঠাকুরের বাড়ির পশ্চিমে ১টি  হাম্মাম খানা ছিল,উত্তরে ছিল দুইটিএখন আর হাম্মাম সেই হাম্মামখানা নেই
আশ-পাশে সবুজে সবুজে ভরামনোমুগ্ধ কর চার পাশের পরিবেশ অনেক ভালদেখতে মন্দ না-মনকে আনন্দ দেয়
বিষ্ণুপদ ব্যানার্জীর পরিবারে স্ত্রী,একমাত্র অসামান্য মেয়ে বিভাবতী,ভাই সত্যেন ব্যানার্জী,সোনারগাঁও পৌরসভা অন্তগত উত্তর ষোলপাড়া গ্রামের সুবুধের জেঠা ভূবন মোহন দাসপাহারাদার ভূবন মোহন দাসকে নিয়ে বসবাস করতেনকথিত আছে একর ৪০ শতাংশ ভূম নিয়ে বসবাস করতেন ব্যনার্জীব্যানার্জীর বিশাল সম্পদের মালিক,মান-মর্যাদাও সমাজপতি ছিলেন
বর্তমনে ঠাকুরের বাড়টি সুনামধন্য চারটি বিদ্যালয়ে পরিনিত হয়েছেএকটি হাড়িয়া সরকারী  প্রাথমিক বিদ্যালয়আরেকটি বৈদ্যবাজার এন,,এম,পাইলট উচ্চবিদ্যালয়বৈদ্যেরবাজার এনএএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের আওতায় পরিচালিত দুইটি হলো ভোকেশনাল কারিগরিও এসএসসি প্রোগ্রাম(বাওবি)কথিত আছে তৎকালিন ১৯৪৭ সনের ১৪ আগষ্ট মাস পযন্ত নাম ছিল বৈদ্যেরবাজার পাক হাই স্কুলতার পর নামকরন করা হয় ১৯৫৭ সালে বৈদ্যেরবাজার এন,,এম,মেমরিয়াল ইনষ্টিটিউশনতার পর সিদ্ধান্ত মতে গৃহিত হয়,বৈদ্যেরবাজার এন,,এম,পাইলট উচ্চবিদ্যালয়
অত্রবিদ্যালয়ে দাতা হয়ে জমিদান করেন- ভূবন মোহন দাস ০৪/০৯/১৯৬২ইং দলিল নং ৮২৯৯,পরিমান২ একর৩৭ শতাংশ উত্তরাধীকারীসুত্রে নেকবর আলীর কাছ থেকে পুত্র হাজী লাল মিয়া সরকার দান করেন ১৫/১০/১৯৯৪ইং দলিল নং ৬১৯৬,পরিমান ৪একর ২৪ শতাংশসোনারগাঁওয়ের গর্বের-গৌরবের স্থান বৈদ্যেরবাজার এন,,এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়এই বিদ্যালয়ে এস,এস,সি পিরীক্ষা ওঅষ্টম শ্র্রেনীর বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল বিধায় পরীক্ষার্থী,অভিভাবক দর্শনার্থী অত্রবিদ্যালয়কে অলংকিত করেছে যা গৌরবের বিষয়তার মান এখনোও আছে
সাবেগ প্রধান শিক্ষক মোসলেউদ্দিন,মরহুম মোহাম্মদ আলী,মরহুম হেদায়েদউল্লাহ্ হুজুর স্যারদের কথা বলতে গেলে বলতে হয়-বিদ্যালয়ের বটগাছের ছাঁয়ার মতো
বতর্মানে স্যারেরা বিদ্যারমান বৃদ্ধি করতে দেখা যাচ্ছেযাতায়তের সুব্যবস্থা আছে বলে শিক্ষার্থীওশিক্ষক আনন্দিতএক সময় নারায়ণগঞ্জ গিয়েএস,এস,সিওঅস্টম শ্রেনীর বৃত্তি পরীক্ষা দিতে হতোএখন আর যেতে হয় না এই বিদ্যালয় হতে অনেকেই উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেভাগ্যকর্মে এই বিদ্যালয়ে আমিও লেখাপড়া করেছি
এই সেই ঠাকুরের বাড়ির উত্তর কোনে সুবিশাল মাঠ আছেমাঠে আন্তজেলা খেরাদুলা হতে দেখা যাচ্ছেযা গর্বের ধন ছিল বিএনসিসিএখনও আছে কি না জানি নাথাকলে ভালো
সুনামধন্য বিদ্যালয়টি সামনের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যাচ্চে চারটি বিদ্যালয়ে ২৬০০/২৭০০ মতো শিক্ষার্থী হতে পারেপুরো বিদ্যালয়ে 80 জনের মত শিক্ষক আছেন অত্র বিদ্যালটিতে প্রায় ১০ বছরের মতো প্রধান শিক্ষক নেই জরুরী ভাবে প্রধান শিক্ষকও সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রয়োজন
সোনারগাঁওয়ের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন র্নিদশন যা সরকারী প্রচারনার অভাবে মানুষের নিকট ঠিকমত পৌছায়নাসরকারী ভাবে যদি প্রচার-প্রচারনা বৃদ্ধি করা হতোএতে মানুষ পুলকিত হতো
ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরবাড়িটির র্পূব-পশ্চিমে একতালা লম্বা লম্বি হলুদ বিল্ডিংটি মূল বিদ্যালয়কিন্ত এই স্মৃতি বিজরিত বাড়িটি খসে-খসে পড়ে যাচ্ছেদেখারমত কেউ নেই
হাড়িয়ে যাচ্ছে অযত্নে অবহেলায়হয়ত একদিন ইতিহাস হয়ে থাকবে স্মৃতি খোঁজে পাওয়া যাবে না
খসে যাওয়া বাড়িটি মাঝা-মাঝি এই সেই কাঁঠাল গাছের পাশেই ভারপ্রাপ্ত প্রধানের কার্যালয়স্মৃতিকে ধরে রাখতে প্রত্নতাত্ত্বিক ও গর্বেষক, র্বিশ্লেষন করে ব্যানার্জী বাড়িটি অথাৎ ঠাকুর বাড়িটি সরকারী ভাবে আজও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি সংরক্ষন করা প্রয়োজন অবশিষ্ট কামরাগুলো অযত্ন অবহেলায় থাকতে দেখা যাচ্ছে
এতে লেখাপড়া করার মতো  শাখা করা হতো তাহলে কিছুটা হলেও পরিষ্কার পরিছন্ন থাকতো
প্রাগৈতিহাসিক নৈসর্গিক ও প্রৌরানিক উপখ্যান কিংবদন্তির উপরই বেশি র্নিভরশীল হতে হয়
সোনারগাঁওয়ে ভাওয়ালের রাজপরিবারের সাথে আত্মীয় পরিচয় মিলেছে বিধায় ব্যানার্জীর বাড়ি(মধুঠাকুরের বাড়ি) মেরামতের মাধ্যমে ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব যা দশর্নার্থীদের মন মোহিত করবে (চলবে)





                                                                                                      লেখক ও শিক্ষানুরাগী : হাজী মোহাম্মদ মহসীন ।

Post a Comment

Disqus