বর্তমান বার্তা ডট কম / ১৮ মে ২০১৫ / মাত্র ৬ মাস বয়সেই নিয়তি বেঁকে বসে জেলার দলদলী ইউনিয়নের পঞ্চানন্দপুর গ্রামের লাল চাঁনের ছেলে সেলিমের ওপর। তখন বাবা-মায়ের বিয়ে বিচ্ছেদের পর তার ঠাঁই হয় বজরাটেক সবজার স্কুলপাড়া গ্রামের দরিদ্র নানার বাড়িতে। এখানে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা শুরু তার। এমনকি প্রয়োজনীয় খাবারও সেলিমের ভাগ্যে জুটেনি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সেলিম ধীরে ধীরে বাড়ির গণ্ডি পেরিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ও হাট-বাজারে ঠিকানা খুঁজে নেয়। সে ক্ষুধা মিটাতে হাট-বাজারের কুকুরের স্তনে মুখ দিয়ে দুধ খেয়েছে। বেশ কয়েকটি কুকুর কোন ঝামেলা না করায় সে প্রতিনিয়ত দুধ খেতে থাকে। কুকুরও তার অন্য সন্তানের মত দুধ খাওয়াতে থাকে তাকে। এতে কেউ খুব মজা পায় কেউ বা অদ্ভূত তাকিয়ে রহস্য খুঁজে কিন্তু দু’মুঠো খাবার দিতে কেউ এগিয়ে আসেনি।
শনিবার সকালে উপজেলার মেডিকেল মোড়ে এ প্রতিবেদক এক দোকানে চা খেতে বসলে সেলিম দৌড়ে এসে ২টাকার আবদার করে। এ সময় উপস্থিত লোকজন জানায়, সেলিম কুকুরের দুধ খেয়ে বড় হয়েছে। বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে সেলিম অকোপটে সত্যতা স্বীকার করে।
জানা গেছে, দরিদ্র নানা নিজ সংসার চালাতে গিয়ে হিমসিম খাওয়ায় সেলিমের খোঁজ রাখার সাধ্য হয়নি। আর আধা পাগল বাবা লালচাঁন ছেলে কোখায় কি করে সেটাও ভাবেনি কোন দিন। মায়ের ভালোবাসাহীনতা, বাবার অনাদর আর নানার সংসারের অভাব অনটন ঠেলে দিয়েছে বর্তমান ৮ বছর বয়সী সেলিমকে কঠিন পরীক্ষায়। এখন সেলিমের অবলম্বন এলাকার মা কুকুরগুলো।
সেলিম কান্নাজরিত কণ্ঠে বলে, মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা চাইলে কুকুরের দুধ খাই বলে অনেকেই তিরস্কার করে পাশ থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমার কি কোথায়ও জায়গা হবে না?
দরিদ্র সেলিমের পাশে অবলম্বন হয়ে যদি কুকুর দাঁড়াতে পারে তবে বিশ্বের কোথাও কি স্বহৃদয় ব্যক্তি নাই তার পাশে দাঁড়ানোর।
কুকুরের দুধ খাওয়া শিশুটির কোন শারীরিক বা মানুষিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে কি-না ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পাগলা কুকুর জলাতংক জীবানু বহন করে। সেসব কুকুরের দুধ খেলে সমস্যা হওয়ার কথা কিন্তু শিশুটি যেহেতু দীর্ঘদিন যাবত কুকুরের দুধ খেয়েও কোন ক্ষতি হয়নি ফলে ঐসব কুকুর জলাতংক বহনকারী ছিল না।
Post a Comment
Facebook Disqus