
বর্তমান বার্তা ডট কম / ধর্ম / স্বাগতম মাহে রামাজান। সকল মুসলিমের জন্য বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের কারণ হোক এই মহিমান্বিত মাস। আমলের সর্ববৃহৎ এই মওসুমের প্রতিটি মুহুর্ত কাজে লাগিয়ে আমরা সবাই যেন নেক আমলের সফল প্রতিযোগী হিসেবে শামিল হতে পারি, সেই তাউফীক লাভ হোক সবার।
রকামারি নেক আমলের বারতা নিয়ে আগত এই মহিমান্বিত মাসে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের রজমান পূর্বক আয়োজন দেখে বুঝা দায় যে, এটি কোন সংযমের মাসের প্রস্তুতি নাকি খাদ্যবিলাসের বারতার মাস ! বানিজ্য মন্ত্রনালয় ও তদসংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভোগ্য পণ্য আমদানীর ব্যবস্থা করে, ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার জন্য মাল মজুদ করে, টিভি সিনেমা কতৃপক্ষ ঈদের অনুষ্ঠান ও নাটক-সিনেমা নির্মান করে, রাজনৈতিক দলগুলো ইফতার পার্টির আবরণে রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতির ছক আকে, সাধারণ মানুষ ছোলা-চিনি-বেগুন-বেসন ইত্যাদি কিনে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করচ্ছে।
যে মাসে আল্লাহ তা'আলা বৈধ খাদ্যগ্রহণের পরিধিও কমিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন, সে মাসে যেন আমরা উল্টো আরো বেশি ভোজনবিলাসিতার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ি। আমাদের প্রস্তুতি দেখে মনে হয় সংযম নয়, রমজান যেন খাদ্যবিলাসের বারতা নিয়েই আগমন করেছে।
সঠিক প্রস্তুতি মানেই কাজের অর্ধপূর্ণতা। যেকোন কাজের পূর্বে উপযুক্ত প্রস্তুতি কাজটির প্রতি সদিচ্ছা, নিষ্ঠা, গুরুত্বারোপ ও দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ তাআ'লা বলেন-তারা (মুনাফিকরা) যদি (যুদ্ধে) বের হওয়ার ইচ্ছা থাকতো তবে সেজন্য অবশ্যই তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করতো (তাওবা,৪৬)।
ইবনুল ফজল বলেন-সালফে সালেহীনের অনেকে রমজানের পূর্বেই ৬ মাস রমজানকে স্বাগতম জানানোর অপেক্ষায় থাকতেন। আর পরের ৬মাস রমজানে কৃত নেক আমল কবুলের দুআ করতেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- আল্লাহর পছন্দ হলো-তোমাদের কেউ কোন কাজ করলে সে যেন সেটাকে সর্বোত্তম ও নিখুঁতভাবে সম্পাদ করে। (তাবরানী) আর যথাযথ প্রস্তুতি যেকোন কাজকে সুদৃঢ় ও সুন্দর করতে সাহায্য করে।
Post a Comment
Facebook Disqus