বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৬ জুন ২০১৫ /  মাদক প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মাদকের ভয়াল থাবায় যুব সমাজ ধ্বংসের দারপ্রান্তে। ক্রমেই মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রাম অঞ্চলে। মাদক বিক্রেতা এবং পাচারকারীর কোনো বাধাঁই মানছেনা। তারা সমাজের প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় দেদার চালিয়ে যাচ্ছে মাদকদ্রব্য ব্যবসা। যেখানে সেখানে গড়ে উঠেছে মাদক স্পট। মাঝে-মধ্যে মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে বেরিয়ে এসে আবার সেই মাদক কেনা-বেচার কাজটিই করছে তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে মাদক সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, পিতা-মাতা, অভিভাবকসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মাদকের অবাধ বিস্তার রোধে মাদকবিরোধী আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি মাদক নিরোধ-শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি এবং ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা। মাদকের চোরাচালান ও অপব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা ও দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়। তিনি বলেন, তার সরকার মাদকের করাল গ্রাস থেকে দেশও জাতিকে রক্ষা করতে এ সংক্রান্ত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করেছে। মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

মাদকাসক্তির প্রধান শিকার তরুণ ও যুব সমাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেশার কবলে পড়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ কর্মশক্তি, মেধা ও সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলে, যা যে কোন দেশ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সুস্থ ও সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ, মা-বাবা, আত্মীয় স্বজনের দায়িত্বশীল আচরণ, যত, সহানুভূতি এবং ধর্মীয় অনুশাসন মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে পারে বলে তিনি তার বাণীতে বলেন।

এদিকে আজ শুক্রবার মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়েছে সারা বিশ্বেই। বাংলাদেশেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিবসটি পালিত হয়েছে। সরকারের প্ক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মানবপাচারকারী যে দলের হোক যত প্রভাবশালী হোক তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা থাকার কারণে অনেক মামলায় অপরাধীরা কম সাজা পায় অথবা খালাস পেয়ে যায়। কিন্ত বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে প্রমাণস্বরূপ অপরাধীদের শাস্তির বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবার কারখানা রয়েছে এবং কক্সবাজারের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বারবার একজন স্থানীয় সংসদ সদস্যের নামে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বজলুর রহমান বলেন, মাদকের চোরাচালান ও অপব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা ও দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মাদকের অবাধ বিস্তার রোধে মাদকবিরোধী আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি মাদক নিরোধ-শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি এবং ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে ৫শ’র বেশি মাদক স্পট গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে বস্তিগুলোতে মাদক বিক্রি হচ্ছে। সেখান থেকে মাদক সেবীরা সংগ্রহ করছে নানা জাতীয় মাদকদ্রব্য। মাদক সেবনে বাড়ছে খুন ও পারিবারিক কলহ। সমাজের অসংখ্য যুবক-যুবতী, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়েছে মাদক নেশায়। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। একই সাথে মাদক স্পটগুলো এবং মাদক বিক্রেতাদের প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে বলে মাদক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

Post a Comment

Disqus