বর্তমান বার্তা ডট কম / ৩ জুলাই ২০১৫ / পবিত্র মাহে রমজানের ১৫ দিন। এরই মধ্যে ঈদকে সামনে রেখে জমে ওঠেছে রাজধানীর বিপণীবিতানগুলোয় বেচা-কেনা। নগরীর বিভিন্ন মাকের্ট,রাস্তা, বিপনীবিতান সবখানে ক্রেতা ও পথচারীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। গত তিন দিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে একই চিত্র। সড়কগুলোতেও এ কারণে লেগে আছে প্রচ- যানজট। আবার অনেকেই ঈদ করতে গ্রামে যাবেন বলে একটু আগেই সেরে নিচ্ছে কেনাকাটা। সব মিলিয়ে এবার অনেকটা আগেই মাকের্ট ও বিপনীবিতানগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের শাড়ি মিউজিয়ামের বিক্রেতা বলেন, রোজার প্রথম সপ্তাহে বেচা-কেনা কম হলেও যতোই দিন যা”েছ বিক্রি ততোই বাড়ছে। আরও বাড়বে সরকারি বেসরকারি আফিসের বেতন হলে। এছাড়া এবার রাজনৈতিক পরি¯ি’তি শান্ত থাকার কারণে বিক্রি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
বসুন্ধরা সিটিতে ঈদের কাপড় কিনতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ফারজিনা আহসান বলেন, রাস্তায় প্রচ- যানজট। আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও ভারতীয় শাড়িতে ছেয়ে গেছে বাজার। রেবন সিল্ক, কাটওয়াক, ডুপিয়ান সিল্ক, চেন্নাই কাতান, অ্যান্ডি সিল্ক, তেরে চুমকি, পঙ্খিরাজ, র সিল্ক, রেনডি সিল্ক বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তানি শাড়িও ভালো চলছে।
মিরপুর-১৪ থেকে আসা এক দম্পতি জানান, বাজারে এবার ইন্ডিয়ান শাড়ি বেশি এসেছে। গতবারের তুলনায় এবার একটু দাম বেশি। তারপরও ঈদে শাড়িতো কিনতেই হবে।
গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে। এ বছর থ্রি পিসের চাহিদাও ভালো। আশা করছি সামনে বিক্রি আরও বাড়বে। ছোটদের পোশাকের চাহিদাও কম নয়। রমজানের শুরুতে বাবা-মায়েরা ছোটদের পোশাক কিনেছে সবার আগে। প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন দেশি ব্রান্ড ছোটদের জন্য বিশেষ আয়োজন করেছে।
ছোটদের পোশাক তৈরির অন্যতম দেশীয় ব্রান্ড শৈশব-এর এড়িয়া ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ বলেন, রোজার শুরু থেকেই ছোটদের কাপড় ভালো বিক্রি হচ্ছে। এবারের ঈদে ২৫০টির বেশি নতুন ডিজাইনের পোশাক এসেছে। সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
ধানমন্ডি থেকে আসা এক দম্পতি জানান, বাড়ির ছোটদের কাপড়ই সবার আগে কিনতে হয়। তবে বাচ্চাদের পোশাকের দাম একটু বেশি। রাজধানীর নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, ধানম-ির রাপা প্লাজা, এ আর সেন্টার, আনাম রাংকস প্লাজা, সীমান্ত স্কয়ারেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়। বিদেশি পোশাকের পাশাপাশি দেশি ব্রান্ডের ফ্যাশন হাউসগুলো ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন পোশাক এনেছে। তাদের বিক্রি-বাট্টাও বেশ ভালো।
এদিকে ফুট পথের দোকানে ও বাড়তে শুরু করেছে ক্রেতার ভিড়।
গুলিস্থানের ফুটপথের বিক্রেতা জামাত আলী জানান, শূণ্য থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের পোশাক আছে তার দোকানে। অন্যবারের চেয়ে এবার আগাম কেনাবেচা শুরু হয়েছে। তবে বড়দের চাহিদা অনুযায়ী এখনো কেনাবেচা শুরু হয়নি। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য জামা-কাপড় কেনার কাজটি অভিভাবকরা আগে থেকেই সেরে নিচ্ছেন। শিশুদের মধ্যে শূণ্য থেকে ১ বছর এবং ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। দামও মাঝামাঝি। ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যায় শিশুদের পোশাক।
মতিঝিলের রমজান আলী জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, পুলিশ ফুটপাতে দোকান বসাতে দিচ্ছে না। এর মধ্যেই যতদুর সম্ভব দোকান খোলা রাখা হচ্ছে। দোকানগুলোতে মধ্যম আয়ের মানুষগুলো বেশি কেনাকাটা করছে বলে তিনি জানান।
বেলী রোডেও জমে উঠেছে ঈদ মাকের্ট। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্রেতারা বেশি ভিড় জমায় বললেন দোকানীরা। সেখানে অধিকাংশ দোকানে টাংগাইল শাড়ি, লেহাঙ্গা, পাঞ্জাবী ও ছোটদের জামা কাপড় বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের চেয়ে দাম হাকাচ্ছে দিগুণ বলে মাকের্ট করতে আসা আনিতা ও রহমান মিয়া এ প্রতিবেদককে জানালেন।

Post a Comment
Facebook Disqus