বার্তা প্রতিবেদক / ১৯ জুলাই ২০১৬ /দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আমি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেব না। যা বলব ইশারা-ইঙ্গিতে বুঝে নেবেন। স্বাধীনতার পর স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি। দ্বিতীয়বার যাতে ওই ধরনের ঘটনা ঘটতে না পারে, সে জন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, গুপ্তহত্যা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে জাতীয় নির্বাহী কাউন্সিল সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। পঁচাত্তরের পুনরাবৃত্তি রুখতে সবাইকে ‘সজাগ’ থাকার আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা নিশ্চিত মৃত্যু জেনে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, যার ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করেছি স্বাধীনতার কয়েক বছরের মাথায় তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। দেশে যাতে পঁচাত্তরের মত এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এর জন্য সবার সজাগ থাকার প্রয়োজন আছে। আপনাদের সব সময় মনে মনে একটা প্রস্তুতি রাখা দরকার। তিনি বলেন, ঝড়-বৃষ্টি নাই, গাছের পাতা নড়ছে না, তখন বুঝতে হবে একটা কিছু হতে পারে। তাই আমি ইঙ্গিত দিয়ে বললাম সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে উদ্দেশ করে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বাংলাদেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চ গঠন করে মক্তিযুদ্ধের ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরি করি। তিনি বলেন, এরই মধ্যে জাতির কয়েকজন ‘কুলাঙ্গার সন্তান’ একত্রিত হয়ে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে যা ইচ্ছা তাই বলে যাচ্ছে। এদের মধ্যে একজন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক জাফরুল্লাহ চৌধুরী। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, জাফরুল্লার এই পরামর্শের উদ্দেশ্য, কোনো সৎ উদ্দেশ্য নয়; এই উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নষ্ট করা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে ধংস করা। আর আমরা তখন এই প্লাটফর্মে মুক্তিযুদ্ধের সৈনিকরা এগিয়ে আসছিলাম তখন উনি লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে শাজাহান খান বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উন্মাদ হয়ে গেছেন।
পাকিস্তানি গোয়েন্দা বাহিনী, আই এস ও মোসাদের সাথে যোগাযোগ করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইবলিশের সাথেও হাত মেলাতে দ্বিধা বোধ করবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের এই সভায় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের কোনো দাবির কথা শুনলে আর না বলেন না। আপনাদের দাবি অনুযায়ী বোনাসের কথা আমি তুলে ধরেছি। সামনে আপনারা দুই ঈদের পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে বোনাস পাবেন। প্রত্যেক উপজেলায় শতকরা ৫ ভাগ মুক্তিযোদ্ধারে জন্য একটি করে আবাসিক সুব্যবস্থা সম্পন্ন কমপ্লেক্স করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জান মন্ত্রী। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খানের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা বক্তব্য দেন। বক্তব্য রাখেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, সংগঠনের সহ-সভাপতি ইসমত কবির গামাও। আলোচনা সভা শেষে মিছিলসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে গিয়ে শপথ নেন মুক্তিযোদ্ধারা। এর আগে সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জাতীয় নির্বাহী কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে সংসদদের গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা-উপধারা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সংসদের কমিটির মেয়াদ তিন বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা।

Post a Comment
Facebook Disqus