বার্তা নিউজ/১ আগষ্ট ২০১৬/ হলি আর্টিজান বেকারীর ঘটনার মত যে কোন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তাৎক্ষণিক ইন্টারনেট সেবা বন্ধের মহড়ার অংশ হিসেবে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা (আইএসপি) ঢাকা নগরীর কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করতে যাচ্ছে।
গুলশানের ক্যাফেতে বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপটে ইন্টারনেট সেবা বন্ধে তাদের সামর্থ প্রমাণের লক্ষে বাংলাদেশে টেলিকম্যুনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)-এর নির্দেশনায় আইএসপি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
এ ধরনের মহড়া বাংলাদেশে এটাই হবে প্রথম।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, ‘আজ (সোমবার) বিকেল ও মধ্য রাতের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর কিছু এলাকায় এই মহড়া হবে।’ তবে এলাকার নাম বলতে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা (ফিক্সড ও তারবিহিন) এই মহড়ার আওতায় আসবে। মহড়া চলবে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট।
রাজধানীসহ বর্তমানে সারাদেশে ৪৯০টি আইএসপি ফিক্সড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে। এছাড়া দুটি মোবাইল ফোন অপারেটরও সুবিধা দিচ্ছে মোবাইল ব্রডব্রান্ডের। বাংলাদেশ আইএসপি’র (আইএসপিবি) তথ্য অনুযায়ী ১০০টি আইএসপি ঢাকায় প্রায় ৩৫ লাখ ফিক্সড সংযোগ দিয়েছে। এর আবার ৭৫ ভাগই পরিচালনা করে ২০ থেকে ২৫টি আইএসপি।
বিটিআরসি’র এই মহড়াকে ইতিবাচক উদ্যোগ বলে অভিহিত করে আইএসপিবি’র সেক্রেটারি ইমদাদুল হক বাসসকে জানান, ‘এই মহড়া গ্রাহকদেরকে ইন্টারনেট প্রদানে আমাদের ব্যবস্থাপনা সামর্থ পরীক্ষায় আমাদেরকে সহায়তা করবে।’
বর্তমানে দেশে মোট ২৭টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটর রয়েছে। তারা আইএসপি ও অন্যান্য অপারেটরদেরকে আইপি ট্রানজিট ও অন্যান্য সেবা প্রদান করছে।
একটি আইআইজি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাব্বির জানান, ‘এ ধরনের মহড়া মাঝে মাঝে হওয়া দরকার। এটা বিভিন্ন অপারেটরের দক্ষতা বাড়াবে।’
বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী দেশে এখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬.৩২ কোটি। এর মধ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি।গ্রাহকদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এক প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, মহড়া সম্পর্কে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জানানো সম্ভব হবে না। ‘কোন কোন সময় বৃহত্তর স্বার্থে ছোটখাট অসুবিধা মেনে নিতে হবে।’

Post a Comment
Facebook Disqus