বার্তা নিউজ / ৪আগষ্ট ২০১৬/  কানধরে উঠবস করানোয় এমপির
সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ হাইস্কুলের সেই আলোচিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় স্থানীয় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের কোন সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ।    বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরীর ভিত্তিতে তদন্ত করে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার তদন্ত প্রতিবেদন নায়ায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করেছেন। বৃহস্পতিবার হাতে লেখা ওই প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নিয়ে আসে পুলিশ। প্রতিবেদনটি টাইপ করে এফিডেবিট আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ৭ আগস্ট রোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ পুনরায় তাদের প্রতিবেদন জমা দিবেন। পরে প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে দাখিল করা হবে বলেন মোতাহার হোসেন।

এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী ৭ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।উল্লেখ, গত ১৩ মে ইসলাম ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে জনসম্মুখে এমপির নির্দেশে তাকে কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য করা হয়। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর আদালতের নজরে আনেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ। এরপর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়। 
পরে গত ৯ জুন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরীর প্রেক্ষিতে চলমান তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসিকে আদেশ দেন। 
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্কুলে স্বপদে বহাল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ বাতিল, সব ধরনের নিরাপত্তার বিষয় তুলে দরা হয়েছে।

Post a Comment

Disqus