বার্তা নিউজ / ৪আগষ্ট ২০১৬/ পুলিশের হাতে নিহত মতিন মিয়ার বাড়ি রাইজদিয়ায় তার বড় মেয়ে শিউলী আক্তার আত্মচিৎকার করে বলতে ছিলেন. আমার বাবা মাদক ব্যবসায়ী না, বাবা পানের ব্যবসা করেন। আদমপুর পুলের পাশে দোকানে পান বিক্রি করেন। পুলিশ আমার আব্বারে মারে ফেলছে। আমার আব্বা নির্দোষ।’
উল্লেখ্য সোনারগাঁ পৌরসভার রাইজদিয়া এলাকায় ৩ আগষ্ট বুধবার বিকেলে পুলিশের ধাওয়ায় পানিতে ডুবে নিহত মতিন মিয়ার (৫০) বড় মেয়ে শিউলি আক্তার বাবার বাবার জন্য পাগলের মতো প্রায়।
শিউলি তার বাবার বিবরণ দিতে গিয়ে আরও বলেন, আমার বাবা-মা আমাদের বাড়ির পাশে একটি খড়ের স্তূপ থেকে গরুর জন্য খড় আনতে যায়। তখন একটি মটরসাইকেলে করে সাদা পোশাকে দুই জন বাবাকে বলে হাতের ব্যাগে কি? মাদক আছে নাকি। এ কথা বলে বাবাকে ধাওয়া দেয়। এসময় বাবা ভয়ে দৌড়ে পাশে নয়ামাটির চকে পানিতে পড়ে যায়। ওই সময় দুজনের একজন নৌকায় করে লাঠি দিয়ে বাবাকে মারতে থাকে। এতে বাবাকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে পুলিশ এসে লাশ নিয়ে গেছে।’
মতিন মিয়ার (৫০) মৃত্যুতে বিক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনিতে পুলিশ সদস্য আরিফুরও (৩৫) মারা যান ।
এঘটনায় সোনারগাঁ পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর (৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড) কাউন্সিলর জাহেদা আকতার মনি বলেন, মতিন মিয়া একজন পান ব্যবসায়ী । তার বউ গরু পালন করে। কখনও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাইনি। সত্যিকার ভাবে তিনি খুব ভালো লোক ছিল।
সোনারগাঁ থানার অফিসার্স ইনচার্জ(ওসি) শাহ্ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের পিপি এম এর ভাষ্যমতে, মতিন মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বিকেল ৬টায় এএসআই ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সোনারগাঁ পৌরসভার রাইজদিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী মতিনকে ধরতে অভিযানে যায়। এ সময়ে মতিন দৌড়ে পালাতে গিয়ে একটি পুকুরে পড়ে যায়। তখন তাকে ধরতে পুলিশের কনস্টেবল আরিফুর রহমানও পুকুরে যায়। পুকুরে ডুবে আবদুল মতিনের মৃত্যু ঘটে। পরে আরিফুর রহমান তীরে উঠার সময়ে এলাকার লোকজন ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এছাড়া তাকে পিটুনিও দেয় লোকজন। এতে আরিফুর মারা যায়।

Post a Comment
Facebook Disqus