সোনারগাঁ ২৪ ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আবার অভিযান চালালে সংসদীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ। অভিযানের বিরুদ্ধে রাজপথে নামারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে এসব হুমকি দেন তিনি।
জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য লিয়াকত হোসেন (খোকা) গতকাল উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের সোনাখালী এলাকায় একটি খাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ দিয়েছেন। অসাধু সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা এসব গ্যাস-সংযোগ বৈধ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা খেয়েছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘যাঁরা অবৈধ গ্যাস-সংযোগ দিয়ে টাকা খেয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি জ্বালানিমন্ত্রী ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছি।
সাংসদ লিয়াকত আরও বলেন, ‘আমাকে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু আমি তদবির করে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হয়েছি। উপজেলার সর্বত্র যেহেতু গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই থাকবে। আমি মন্ত্রীকে বলেছি, আমার এলাকায় আর অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেওয়া হবে না। এসব গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালালে আমি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করব।
গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এলে তা প্রতিহত করার হুমকি দিয়ে সাংসদ বলেন, ‘আসুক, এবার দেখি কে গ্যাস-সংযোগ কাটতে আসে।’ উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এলে আপনারা আমার পাশে থাকবেন। আমি আপনাদের সঙ্গে থেকে রাজপথে আন্দোলনে নামব। জনগণের আন্দোলনের মুখে কিছুই থাকবে না।’
বক্তব্যের বিষয়ে অনুষ্ঠান শেষে জানতে চাওয়া হলে সাংসদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যা বলেছি, তা বুঝে শুনেই বলেছি, কোনোভাবেই অবৈধ এসব গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে গত ১২ মে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সাংসদ লিয়াকত বলেছিলেন, তিনি অবৈধ গ্যাস-সংযোগগুলো বৈধ করতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন। ফলে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না। তবে সাংসদের ওই আশ্বাসের পরও গত জুন মাসে দুই দফায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালানো হয়। অবশ্য, বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া সেসব সংযোগ অভিযানের পরপরই আবার চালু করা হয়েছে।

Post a Comment
Facebook Disqus