নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা সেতু ঝুঁকিতে ফেলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাঁদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকিন্তু থানায় আটজনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে শুধু নদীর তীর দখল করে পাথর-বালু ব্যবসা করার অভিযোগেবালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে পুলিশ বলছে, তাঁদের হাতেনাতে ধরা যায়নি। 
 
যোগাযোগমন্ত্রী গত শুক্রবার মেঘনা সেতু পরিদর্শন করেনএ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, সেতুর পিলারের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে মাটি সরে গিয়ে ৬ নম্বর পিলারটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের নিচেও মাটি সরে গেছে
পরে বালু তোলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করার জন্য নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী
মন্ত্রীর নির্দেশের পর শুক্রবার রাতে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিনএতে আসামি করা হয় আটজনকেতাঁদের বিরুদ্ধে নদীর তীরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে পাথর-বালুর ব্যবসা করার অভিযোগ করা হয়েছে
আসামিরা হলেন সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মমতাজ বেগমের ছেলে মাহবুব মিয়া, সাবেক সদস্য আলী আকবরের ছেলে জসিম উদ্দিন, সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিনের ছেলে সুমন মিয়া, সাবেক সদস্য জয়নাল প্রধানের ছেলে আরিফ প্রধান ও যুবলীগের কর্মী স্বপন মিয়া, ইসমাইল হোসেন, বাবু হোসেন ও বাবুল মিয়াএঁদের মধ্যে শুক্রবার ঘটনাস্থল থেকে আটক স্বপন মিয়াকে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে
কিন্তু সেতুর পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের কারও বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তার করেনি পুলিশঅভিযোগ আছে, এ কাজে জড়িত ব্যক্তিরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীএ জন্য রাজনৈতিক চাপের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারছে নাতবে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া গত শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন
বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক চাপে নয়, বালু উত্তোলনকারীদের হাতেনাতে ধরতে না পারার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি

Post a Comment

Disqus