
কাজি রোমান/ বার্তমান বার্তা ডট কম / ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ঃপ্রতিবছরের ন্যায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ বছরও অনুষ্ঠিত হল কাউখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে শুধুমাত্র কোমলমতি শিশুরাই নয়, দলমত নির্বিশেষে সকল অভিভাবকদের মধ্যেও উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি ছিলনা। কে জিতবে? কে হারবে? এই নিয়ে সারাদিনের উৎকন্ঠা শেষে অবশেষে “হারজিত চিরদিন থাকবে, তবুও এগিয়ে যেতে হবে”- এই গান গাইতে গাইতে বিজয়ের কেতন উড়াল সাতজন ক্ষুদে শিক্ষার্থী। রায় মেনে নিল সকলেই। সামান্য মন খারাপ হলেও ক্ষনেক পরে সবাই একসাথে হাসতে হাসতে বাড়ি চলে গেল। অনেক অভিভাবকের মুখে বলতে শোনা গেল, বড়রাও যদি এমন হত!
এ নির্বাচনে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই ভোটার এবং ওরাই প্রার্থী। এই বিদ্যালয়ের ভোটার সংখ্যা ছিল ৩২০ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করে ২৩৪ জন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৭৩.১৩%। সকাল ৯.০০টা থেকে দুপুর ১.০০ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল গণনা করা হয়। এতে নির্বাচিত সাতজন কাউন্সিলররা হল- তৃতীয় শ্রেণির ইয়ানুর পায়েল, তাসলিমুল হাসান অর্নব, সুরাইয়া খানম, চতুর্থ শ্রেণির মুনা ইসলাম, তাজুল ইসলাম, পঞ্চম শ্রেণির সিগমা আক্তার ও হাফিজুর রহমান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ ভোট যুদ্ধ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মনোভাব গড়ে উঠবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত রায় বলেন, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শিখবে এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্বদানে উদ্বুদ্ধ হবে। এই নির্বাচনের সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে, শিক্ষার্থীরাই নির্বাচন কমিশনার, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালন করে থাকে। নির্বাচন কমিশনার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার ইসলাম জানান, আজকের এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি। প্রিজাইডিং অফিসার কে.এম নাফিস মাহমুদ ও মেহেরিন ইসলাম নিশা বলেন, আজকের এই কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক ভাল লেগেছে।
Post a Comment
Facebook Disqus