
মানুষকে তার নিয়ামতগুলো উপভোগ করার কথাওবলেছেন। আল্লাহ বলেছেন, সব ভালো ও সুন্দর জিনিস মুমিনদের জন্য বৈধ। এঘোষণার মধ্য দিয়ে কোরান সব ধরনের জীবনবিমুখ বৈরাগ্য, সমাজ-সংসার ত্যাগ এবংআত্মনিগ্রহের নিন্দা করেছে। কোরানের সর্বাধিক স্মরণীয় কিছু আয়াতে সেঅন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা আমাদের চারপাশের জগতেআল্লাহর সৃজনশীল কার্যক্রমের অসংখ্য বহিঃপ্রকাশের বিষয়ে চিন্তা করে অর্জনকরা যায়। কোরানে কারিমকে আল্লাহর বাণী হিসেবেই মুসলমানরা বিশ্বাস করেন।কোরানে বলা হয়েছে, সন্ন্যাসব্রত আল্লাহর অনুমোদিত নয়। বলা হয়েছে, ‘তখন আমিতাদের পশ্চাতে পাঠিয়েছি আমার রাসুলগণকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয়ঈসাকে (আ.) এবং তাকে ইনজিল দিলাম আর যারা তাকে অনুসরণ করেছিল তাদের হৃদয়েদিলাম সহমর্মিতা ও করুণা। কিন্তু তারা বৈরাগ্য উদ্ভাবন করল। আমরা তাদের এটাকরতে নির্দেশ দিইনি। কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে তারা এটা করেছে।অতঃপর তারা তা পালন করেনি সঠিকভাবে। তাই তাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে, তাদের আমরা পুরস্কার দিয়েছি; কিন্তু তাদের অনেকেই পাপাচারী।’ -সূরা আলহাদিদ: ২৭ মুসলমানদের মনে রাখতে হয় যে, পার্থিব জীবনের চেয়ে পরকাল বেশিগুরুত্বপূর্ণ। তবে তাদের বলা হয়েছে, নেতিবাচক ধারণা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।কোরান শরিফে আল্লাহ বলছেন, ‘বলুন, আল্লাহ যে সৌন্দর্য দিয়ে থাকেন, যা তিনিতার বান্দাদের জন্য এনেছেন এবং পবিত্র খাবার এগুলো কে নিষিদ্ধ করেছে? বলুন, এসব নিয়ামত এই দুনিয়ার জীবনে যারা ইমানদার ছিল তাদের জন্য এবংপুনরুত্থান দিবসে কেবল তাদের জন্যই।’ এভাবেই আমরা অবতীর্ণ বাণীকেবিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি তাদের জন্য যারা জানে, বোঝে। কোনো ব্যক্তিরসৌন্দর্যানুভূতির বিকাশ ঘটানোর অধিকার এবং মানবজাতির পরিচর্যার জন্য আল্লাহযা দিয়েছেন, তা উপভোগের অধিকারের মূল এভাবেই কোরানের জীবনমুখীদৃষ্টিভঙ্গিতে নিহিত।
লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট
Post a Comment
Facebook Disqus