বর্তমান বার্তা ২৪.কম/ জাতীয়/ ২১ ফেব্রুয়ারি/ ১৯৫২সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেখাজা নাজিমুদ্দীন ঢাকায় আসেন এবং ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ভাষণদিতে গিয়ে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করা হবে বলে ঘোষণা দেন।তার এ বক্তব্যে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
সৃষ্টি হয় এবং দেশে একটাপ্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন যারাতাদের কয়েকজনকে নিয়ে লিখেছেন সুরাইয়া নাজনীন আবুল বরকত : বাংলাকেপাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকামেডিকেলের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতারওপর পুলিশ নির্বিচার গুলি চালালে হোস্টেলের ১২ নম্বর শেডের বারান্দায়গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি অবস্থায়রাত ৮টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। আবুল বরকত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরস্নাতকোত্তর শ্রেণীর ছাত্র। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগথেকে ১৯৫১ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীতে চতুর্থ হয়ে বিএ অনার্স ডিগ্রি অর্জনকরেন। আবুল বরকতের জন্ম ১৬ জুন, ১৯২৭ সালে বাবলা গ্রাম, ভরতপুর, ভারতেরমুর্শিদাবাদে। রফিকউদ্দীন আহমদ : ১৯৪৯ সালে রফিকউদ্দীন ম্যাট্রিক পাসকরে মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্রনাথ কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। পড়াশোনাঅসম্পূর্ণ রেখে বাবার সঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে জগন্নাথ কলেজেভর্তি হন। ৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার মিছিলেঅংশগ্রহণরত রফিকের মাথায় গুলি লাগলে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তিনিশহীদ হন। মেডিকেল হোস্টেলের ১৭ নম্বর রুমের পূর্বদিকে তার লাশ পড়ে ছিল।ছয়-সাত জন ধরাধরি করে তার লাশ এনাটমি হলের পেছনের বারান্দায় এনে রাখেন। ডা.মশাররফুর রহমান খান রফিকের মাথার মগজ হাতে করে নিয়ে যান। আবদুস সালাম :২১ ফেব্রুয়ারির দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় আবদুস সালামগুলিবিদ্ধ হন। আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আবদুলজব্বার : আবদুল জব্বার স্থানীয় স্কুলে কিছুকাল অধ্যয়নের পর দারিদ্র্যেরকারণে লেখাপড়া বাদ দিয়ে পিতাকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করেন। পনেরো বছর বয়সেসবার অজান্তে বাড়ি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ গিয়ে সেখানে জাহাজ ঘাটে এক ইংরেজসাহেবের সান্নিধ্যে আসেন। সাহেব তাকে একটি চাকরি দিয়ে বার্মায় পাঠিয়ে দেন।সেখানে আবদুল জব্বার ১০-১২ বছর থাকার পর দেশে ফিরে এসে আমেনা নামের একমেয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সকালে ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষচলাকালে আবদুল জব্বার গুলিবিদ্ধ হন এবং ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
শফিউর রহমান : ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকেমেডিকেল কলেজ হোস্টেলের গায়েবানা জানাজা ও মিছিল ছিল, ঠিক একই সময় নবাবপুররোডে রথখোলার কাছে খোশমহল রেস্তোরাঁর পাশে টহলরত সৈন্যবাহিনীর গুলিতে শহীদহলেন শফিউর রহমান।  হাইকোর্টের তরুণ কর্মচারী ও আইন ক্লাসের ছাত্র শফিউররহমানের পরিবারের ঢাকায় বাসস্থান ছিল লক্ষ্মীবাজার এলাকায়। শফিউর রহমানসেদিন সাইকেলে চড়ে যাচ্ছিলেন রমনা এলাকায়। রথখোলা পেরিয়ে একটু আগে যেতেইতিনি দেখতে পেলেন একদল সৈন্য চলন্ত জিপ আর ট্রাক থেকে রাস্তার দুদিকেরদোকানগুলোতে অবিরাম গুলি করতে করতে এগিয়ে আসছে। শফিউর রহমান দ্রুত খোশমহলরেস্টুরেন্টের পাশের গলিতে ঢুকে পড়লেন। তবুও তিনি রক্ষা পেলেন না। বর্বরসৈন্যরা গলির মুখটাতে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করল।

Post a Comment

Disqus