![]() |
| খরগোশের বুদ্ধি |
জলহস্তি বলত, আমার ছানাপোনাদের খুঁজে নিয়ে আসো তো!
দু’জনের ফায়ফরমাশ খাটতে খাটতে পুঁচকে খরগোশটা ক্লান্ত হয়ে উঠল। একদিন সে হাতি এবং জলহস্তিকে শায়েস্তা করার একটা ফন্দি আঁটলো।
দ্বীপেরমাঝখানে ছিল বড় কয়েকটি গাছ। খরগোশ মাঝে মধ্যে সেসব গাছ থেকে ঝুলেপড়া লতায়ঝুল খেলা খেলত। ঘনলতা দু’একটি গাছের গুঁড়ি এবং শাখা-প্রশাখা বেয়ে উপরে উঠেগিয়েছিল। খরগোশ সেখানে গেল। সারাটা সকাল সে ওই লতাগুলো পেঁচিয়ে পেঁচিয়েএকটা শক্ত দড়ি বানালো। তারপর মুচকি হেসে হাতিকে খুঁজতে বের হলো। হাতি তখনদ্বীপের পূর্বদিকে শুঁড় দিয়ে নিজের পিঠে পানি ছুড়ে আনন্দে গোক গোক ডোক ডোককরে ডাক দিচ্ছিল। শুভ বিকেল হাতি ভায়া, বলল খরগোশ। আমাদের মধ্যে কাকে আপনিশক্তিশালী মনে করেন? খরগোশের এমন প্রশ্ন শুনে হাসতে হাসতে হালকা কেশে উঠলহাতি। শুঁড় দিয়ে পানি ছুড়ে সে খরগোশকে মাটিতে শুইয়ে দিল। আচ্ছা বলত, এটাকেমন ধরনের প্রশ্ন বলল হাতি। অবশ্যই আমি তোমার চেয়ে শক্তিশালী। তুমি কি চাওআমি তোমাকে পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলে এটা প্রমাণ করি?
না না। চেঁচিয়ে উঠল খরগোশ। কিন্তু আপনি যে শক্তিশালী তা আমার সঙ্গে দড়ি টানাটানি করে প্রমাণ করতে পারেন।
এবার ঠাট্টাস্বরে হেসে উঠল হাতি। এই দড়ি টানাটানিতে যে সে-ই জিতবে, এতে তার কোনো সন্দেহ নেই।
এইযে দড়ি, এটা আপনার পায়ের চারপাশে বাঁধুন। ততক্ষণে আমি দ্বীপের মাঝখানে যাইকিন্তু আমি জোরে তিনবার টান না দিলে আপনি টান দেবেন না। তিনবার টান দেয়ারপর সর্বশক্তি দিয়ে যত জোরে পারবেন টানবেন। হাতি দড়িটাকে পায়ে বাঁধতে লাগল।আর ততক্ষণে দড়ির আরেক প্রান্ত ধরে বনের মাঝখান দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভবদ্বীপের অপরপ্রান্তে যেখানে জলহস্তি সেখানে চলে এলো খরগোশ।
সমুদ্রপাড়ে শুয়ে শুয়ে জলহস্তি তখন রোদ পোহাচ্ছিল। শুভ বিকেল জলহস্তি আপু, নিরাপদ দূরত্বে থেকে জোরে বলে উঠল খরগোশ।
আমাদের মধ্যে কাকে আপনার বেশি শক্তিশালী মনে হয়?
খরগোশেরকথা শুনে জলহস্তি তার বিশাল লাল মুখের শক্ত সাদা দাঁতগুলো দেখিয়ে হাইতুলল। এটা কেমনতর প্রশ্ন হলো বলল জলহস্তি। অবশ্যই আমি তোমার চেয়েশক্তিশালী। তোমাকে এক গালে খেয়ে তার প্রমাণ দেব নাকি?
না না। চিৎকার করে উঠল খরগোশ। কিন্তু আপনি যে শক্তিশালী তা আমার সঙ্গে দড়ি টানাটানি করে প্রমাণ করতে পারেন।
জলহস্তিবলল, এটা হবে তার শক্তির অপচয়। এটা নিশ্চিত যে, খরগোশকে টেনে পানিতেনামাতে তার কোনো ব্যাপারই হবে না। তবু জলহস্তি দড়িটির এক প্রান্ত নিজেরশরীরের চারপাশে বাঁধতে রাজি হলো। সে সঙ্গে জলহস্তি খরগোশ দড়িতে জোরে তিনবারটান না দেয়া পর্যন্ত দড়ি টানাটানি শুরু না করার কথা দিল। খরগোশ তাড়াতাড়িবনে লুকিয়ে দড়ির মাঝখানে জোরে তিনবার টান দিল। আর যায় কোথায়! শুরু হয়ে গেলদুই হাতি, মানে জলের হাতি আর উপরের হাতির দড়ি টানাটানি। দু’জনের সে কিতর্জন-গর্জন! দু’জনই ছিল সমান শক্তিশালী। তাই কেউ কাউকে খুব একটা নাড়াতেপারল না। একবার হাতির টানে জলহস্তি পানি থেকে কিছুটা উপরে উঠে আসে আবারজলহস্তিও এমন জোরে টান দেয় যে হাতিও পানি থেকে কিছুটা উপরে উঠে আসে। এভাবেহাঁকডাক দিয়ে অনেকক্ষণ তারা দড়ি টানাটানি করল। এমন হাঁকডাক আর তর্জন-গর্জনসে দ্বীপে আগে কখনও হয়নি। খরগোশ শুধু দেখে আর খিলখিল ফিলফিল করে হাসে।হাসতে হাসতে হাতির মতো দু-একটি কাশিও দেয়। হঠাৎ সে একটি কাঁচি দিয়ে দড়িরমাঝ বরাবর কেটে দিল। আর সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ভারি কিছু পড়ার ঝপাং শব্দ শোনাগেল। পুঁচকে ও ধূর্ত খরগোশটি দড়ি না কাটলে হয়তো এই দড়ি টানাটানি আজ পর্যন্তচলত। তবে এ ঘটনার পর খরগোশ এ দুই হাতির ছায়াও মাড়ায়নি।

Post a Comment
Facebook Disqus