বর্তমান বার্তা ডট কম /১৭ মার্চ  ২০১৫৩০০ মিলিয়ন ডলার  লেনদেন সংক্রান্ত  মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর একটি মেমো নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।  যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের কাছে থাকা বাংলাদেশের একজন ‘প্রমিন্যান্ট  ফিগার’ এর গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে  এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ দায়ের দায়ে প্রবাসী বিএনপি নেতার পুত্রকে মার্কিন আদালত কারাদন্ড দেওয়ার পর ‘৩০০ মিলিয়ন ডলার লেনদেন সংক্রান্ত এফবিআই মোমোটি’ আলোচনায় আসে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ উল্লা মামুনের  ছেলে রিজভি আহমেদ  সিজার এফবিআইর একজন এজেন্টকে ঘুষ দিয়ে বাংলাদেশের একজন ‘প্রমিন্যান্ট ফিগার’  সম্পর্কে  গোপনীয় দলিলপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। আদালতের রায়ে কিংবা চার্জশিটে বাংলাদেশি এই প্রমিন্যান্ট ফিগারটির নাম বা পরিচয় দেওয়া হয়নি। আদালতের নথিপত্রে  ‘ইনডিভিজ্যূয়াল- ১’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগ সংক্রান্ত নথিতে বেশ চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য এবং আলোচনা পাওয়া গেছে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের স্পেশাল এজেন্ট  কারউইন জন  সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্সট অব নিউইয়র্ক জজের আদালতে যে াভিযোগনামা দাখিল করেন তাতে উল্লেখ করা হয়েছে,  সেপ্টেম্বর ২০১১ বা সেই সময়ে একজন এফবিআই কর্মচারী এফবিআই ডাটাবেজে  ঢুকে সেখান থেকে ‘ইনডিভিজ্যূয়াল ১ এবং ৩০০ মিলিয়ন ডলার’ বিষয়ক এফবিআই মেমো বের করে নিয়েছে।
কারউইন জন ওই রিপোর্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলার লেনদেন সংক্রান্ত এফবিআই মেমো সম্পর্কে  আরো কিছু আলোচনার উল্লেখ  করেছেন। জনাথন থালার এবং রিজভি আহমেদ এর মধ্যকার টেক্সট মেসেজ  হুবুহ উদ্ধৃত করা হয়েছে রিপোর্টে। সেখানে রিজভি আহমেদ বলছে, শেষ ডকুমেন্ট যেটা তুমি আমাকে দিয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার সংক্রান্ত। তদন্ত কদ্দুর গেছে এবং তদন্তে তারা কি পেয়েছে-  এই ব্যাপারেকিছু তথ্য দাও। থালার তাকে আশ্বস্থ করছেন- আমি তোমাকে জানাবো। রিজভি তাকে আবারো বলছেন,’ ৩০০ মিলিয়ন ডলার সম্পর্কিত ফাইল এর আরো কিছু তথ্য এনে দাও।‘
অভিযোগপত্রের ঘটনাক্রম থেকে দেখা যায়, রিজভি আহমেদ ৩০০ মিলিয়ন ডলার সংক্রান্ত ডকুমেন্টটা হাতে পাওয়ার পরই  উৎকোচের  টাকা  দেওয়ার ব্যাপারে গড়িমসি শুরু করে। বরং ৩০০ মিলিয়ন ডলার লেনদেন সংক্রান্ত  তদন্ত এবং তদন্তে কি পাওয়া গেছে তা জানার জন্যই বেশি চাপাচাপি করেছে।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগে এই ৩০০ মিলিয়ন ডলার লেনদেন সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এই সংক্রান্ত এফবিআইর  মেমো  এবং কিছু  ডকুমেন্ট বিএনপিনেতার পুত্র রিজভি আহমেদের হাতে গেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য.বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এক পোষ্টে বলেছেন, সিজারের বিরুদ্ধে আদালতে যেদিন রায় হয়, সেদিন তিনি ওই আদালতে একজন ক্ষতিগ্রস্থ হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি  এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দাবি  করা হয়, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের দায়ে বিএনপি নেতার ছেলেকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

Disqus