মাশরাফি বাহিনীকে খোলা চিঠি..
বর্তমান বার্তা ডট কম / ০৯ মার্চ ২০১৫ / 
প্রিয় মাশরাফি বাহিনী,
ইংল্যান্ডের সাথে মুখোমুখী হওয়ার আগে মনের ভিতর থাকা আত্মবিশ্বাস কি টগবগ করে ফুটছে ? কোয়ার্টার ফাইনাল হাতছানি দিয়ে ডাকছে।আর মাত্র একটি জয় ই পারে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দিতে।স্বপ্ন পূরনের সিঁড়ি থেকে এক পা দূরে থাকতে, স্মৃতির ফ্লাশব্যাকে কি বারবার ভেসে উঠছে গত বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচটি? কিংবা পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে ত্রানকর্তা হিসেব শফিউলের হঠাত নায়ক বনে যাওয়া ? আবেগ প্রকাশে যার বরাবরেই অনীহা সেই সাকিব এর ছল ছল চোখের জল, ক্রিকেট রোমান্টিকদের হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, অত:পর সবকিছু ছাপিয়ে ইংল্যান্ড বধ মহাকাব্য ? ব্যাপারটি যতো সহজে বলা গেলো , জয়টা কি ততোটাই সহজ ছিল ?
মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর সাথে ৫৮ রানের ট্রাজিডির পর, চারদিকে জাত গেলো, জাত গেলো রব উঠে গেলো। হোটেলে ফিরতে থাকা গেইলদের বাসে বাংলাদেশী সমর্থকদের ঢিল নিক্ষেপ, গেইলের তা নিয়ে টুইট করে তুলকালাম কান্ড বাঁধিয়ে ফেলা, কিংবা মাগুরায় সাকিবের বাসায় ঢিল নিক্ষেপ কত অপ্রিয় ঘটনাই না মনে পড়ছে।৫৮ কান্ড ভুলতে তাই বাংলাদেশের দরকার ছিলো একটা বড় জয়ের।ক্ষত জায়গায় প্রলেপ হয়ে এলো ইংল্যান্ডের বিপক্ষ্যে সেই অধরা জয় ! এই জয়ের মাহাত্ম এমনেই ছিলো যে সহজে যিনি আবেগে আপ্লুত হন না সেই সাকিব এর চোখ পর্যন্ত ভিজল আনন্দাশ্রুতে !
সবেই এখন অতীত।আবার নতুন সকাল, নতুন ম্যাচ , নতুন যুদ্ধের দামামা।অতীত রেকর্ড তাই এই ম্যাচ জেতাবে না।তবে যুদ্ধে নামার আগে সুখ স্মৃতি গুলো কপচিয়ে একটু " আত্মবিশ্বাস নামক সঞ্জিবনী সুধা " পান করলেই বা সমস্যা কি ? ঐ ম্যাচের অন্যতম নায়ক শফিউল এবারের বিশ্বকাপে টিমেই ছিলেন না।কিন্তু বিধাতা যে আড়াল থেকে মুচকি হেসে ছিলেন ! আল আমিন কান্ডে তাই তার পরিবর্তে দলে ঢুকলেন শফিউল ! এটা কি কাকতালীয় ? নাকি ক্রিকেট বিধাতার জমজমাট চিত্রনাট্যের অংশ? নতুবা ক্লাইমেক্সে গুরুতর তেমন কিছু না করেও বলির পাঁঠা হয়ে ভিলেন হয়ে যাওয়া আল আমিন ই যে এখন দলের সাথে থাকতেন ! তবে কি ক্রিকেট বিধাতা শফিউল কে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই অষ্ট্রেলিয়া উড়িয়ে নিয়ে গেলেন ? তবে কি আবারো ভালো কিছু অপেক্ষা করছে টিম বাংলাদেশের জন্য ?
অ্যাডিলেড নিশ্চয়েই লাকি গ্রাউন্ড চট্টগ্রাম নয়।তবে প্রবাসি বাঙ্গালিরা সমর্থন দিয়ে প্রতিনিয়ত যে এটাকে ভিনদেশের মাটিতে এক টুকরো লাল সবুজের বাংলাদেশ বানিয়ে দিচ্ছে ।ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগান তাদের দেশের জাতীয় সংগীতের সময় যেখানে ঠোঁট মেলান না সেখানে বাংলাদেশ এর জাতীয় সংগীতের সময় পাল্টে যায় দৃশ্যপট ।আমাদের মাশরাফি বাহিন তো বটেই গ্যালারীতেও " আমার সোনার বাংলা " রবে গলা মেলান প্রবাসী বাঙ্গালিরাও ।
প্রিয় মাশরাফি বাহিনী, আপনাদের একটি জয় এই " আমার সোনার বাংলা " রব যে আরো ছড়িয়ে দিতে পারে বিশ্বে।কোয়ার্টার ফাইনাল হাতছানি দিচ্ছে।স্বপ্ন ছোঁয়ার ঢিল ছোড়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই।হ্যাঁ রনকৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে।
ইংলিশরা বান্ধবীর বাহুলগ্না হয়ে ঘুড়ে বেড়াতে যতোটা পারদর্শী, স্পিন খেলতে ঠিক ততোটাই আনাড়ি।ইংলিশদের স্পিন জুজুতে বেঁধে রাখতে তাই সানি বা তাইজুল কে দলে নেয়াই হয়।
বেচারা মরগান ! কুকের থেকে অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে বড় যন্ত্রনাতেই আছে ।দল হারছে, তিনি নিজেও রানে নেই।ইংলিশ সমর্থকরা তেঁতেই আছে, পারলে তাকে কথার বানে শূলে চড়ায় ! প্রেরনা খুঁজতে স্বয়ং অ্যাডিলেডের সুন্দরী বান্ধবী টারা
রিজ ওয়ের দারস্থ হয়েছেন ।
হোক না দারস্থ সমস্যা কি? বাংলাদেশের প্রেরনা পাওয়ার জায়গার কি আর অভাব আছে? সর্বশেষ ম্যাচে জয়, জয়ের নায়ক শফিউল এর দলের সাথে যোগদান, ইংল্যান্ডের বাজে ফর্মের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের ৪ ম্যাচে ২ জয় ।সবগুলো ব্যাপারকে বিনি সূতোর মালায় এক সূত্রে গাঁথতে পারলেই বাংলাদেশ গলায় পড়ব জয়ের মালা।
ব্যাপারটা হয়তো কিছুটা কঠিন তবে অসম্ভব কিছু না।
আপনাদের জন্য শুভ কামনা।
ইতি
দিবাকর বিশ্বাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,



Post a Comment

Disqus