লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ, বাম্পার ফলনে কৃষকরা খুশি
আশরাফুল আলম/বর্তমান বার্তা ডট কম/ ১১ মার্চ ২০১৫ / নারায়ণগঞ্জ ঃ চলতি রবি মৌসুমে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল চর এলাকায় এ বছর লক্ষমাত্রার চাইতেও প্রায় ২০ ভাগ বেশি জমিতে গোল আলু চাষ করা হয়েছে। যা বিগত বছরের চেয়ে ৩০০ বিঘা
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুরাদুল হাসান জানান, সোনারগাঁ উপজেলায় এ বছর ২ হাজার বিঘা জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল চর এলাকায় ব্যাপক আলুর চাষ করা হয়েছে। চরাঞ্চলের মাটি সাধারণত আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বিশেষ করে চর কিশোরগঞ্জ এলাকার চর হোগলা, মধ্য চর হোগলা, সোনারচর , দড়িগাঁও, বালিয়া পাড়া, দশদোনা, চেলারচর, হোসেনপুর প্রচুর পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়। তিনি বলেন আলু চাষীদের দিন দিন আলু চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তার কারণ চরের মাটি আলুর জন্য বেশ উপযোগী। আলু সংরক্ষণে পরিবহন খরচ কম। খুব কাছাকাছি মুন্সীগঞ্জ মোক্তারপুর হিমাগার রয়েছে এবং আলুতে বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষকরা সেই জন্য আলুর আবাদ বেড়েছে। এবার যে পরিমাণ আলুর আবাদ হয়েছে তাতে ব্যাপক উৎপাদনের মাধ্যমে এ অঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
এদিকে আলু চাষীরা জানান, চরাঞ্চলে সাধারণত ডায়মন্ড, গেনেলা, পেরাটন, ওকামা, বিনালা ও মালটা জাতের আলু চাষ করা হয়। আলু চাষে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং পোকা মাকড় রোগ বালাই কম হওয়ায় চাষীরা আলু চাষে উৎসাহিত হয়েছেন। প্রতি বছরই এ অঞ্চলে আলুর আবাদী জমির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চর কিশোরগঞ্জের আলু চাষী আব্দুল লতিফ, আবু হানিফ, আবুল কাসেম,নোয়াব আলী জানান, তারা প্রতি বছরই আলুর চাষ করেন। এবারও প্রায় ৭৬৫ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৮০ থেকে ৯০ মন দরে আলুর ফলন পাই। আলুর ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আলু তোলার কাজ শেষ হলে ঐ জমিতে আবার তিল, তিশি, কাউন আবাদ করা যায়।
হোসেনপুর গ্রামের কৃষক মাজহারুল ইসলাম জানান, তিনি গত বছর ২০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ৫/৬ লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর তিনি জমি বাড়িয়ে ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। আলুর ফলন বেশ ভাল হওয়ায় তিনিও খুশি। প্রতি বিঘা জমিতে আলু বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ নিরানী সব মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। তিনি আশাবাদী সঠিক সময় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে পারলে ও আলুর বাজার দর ঠিক থাকলে এ বছরও ৮/১০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। কৃষক মাজহারুল ইসলাম অভিযোগের সুরে বলেন, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে যদি কৃষকরা আলু চাষের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাওয়া যেত, তাহলে আলু চাষে অনেক কৃষক উৎসাহিত হয়ে আলু চাষে আগ্রহ বাড়াতেন।
জমি বেশি আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকরাও খুশি। পরিবহন সংকটের কারনে  হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ও বাজার মূল্য নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা । স্থানীয় কৃষকরা জানান গোল আলু চাষীদের চাহিদার তুলনায় হিমাগারের সংখ্যা অপ্রতুল ও মূল্য বৃদ্ধিতে এবং পরিবহন সংকটে আলু নিয়ে শঙ্কিত তারা। অনেক কৃষক আবার সময় মত পরিবহন ব্যবস্থা না পেয়ে জমিতেই আলু সংরক্ষনে বাধ্য হচ্ছেন।তাছাড়া এ বছর বিদ্যুৎ ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, ভ্যাট, বস্তা প্রতি মূল্য বৃদ্ধি সহ নানা কারণে হিমাগার পরিচালনা খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার প্রতি বস্তা আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করিতে খরচ পড়ছে ৩৫০ টাকা যা গত বছরের চেয়ে ৫০ টাকা করে বেশি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত মূল্যে যে ভাবে ধান, চাল, গম ক্রয় ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়ে থাকে, আলুর ক্ষেত্রে সে ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী বলে মনে করেন কৃষকরা।

Post a Comment

Disqus