থামেনি স্বজনদের হাহাকার, দুর্ষহ যন্ত্রনায় নিহতের স্বজনরা





আহ্মেদ শাওন /বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৭ এপ্রিল ২০১৫ / 
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের এক বছর পূর্ণ হল আজ। বছর পেরিয়ে গেলেও থামেনি স্বজনদের হাহাকার, দুর্ষহ যন্ত্রনায় সময় অতিবাহিত করছেন  নিহতের স্বজনরা। হত্যাকান্ডের শিকার পরিবারগুলো এখনও স্বজনদের ভুলতে পারে নাই। নিহতের স্মৃতিগুলো এখ
নও তাদেরকে কাঁদায়। পরিবারগুলো এখনও শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে পারেনি। চোখের নোনা জলে বুক বাসিয়ে ১টি বছর পার হলেও নিহতদের পরিবাররা আজও তাদের কথা মনে করে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না। ঘাতকরা তাদের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে। নিহতদের ন্বজনদের অভিযোগ হত্যাকান্ডের পর কিছুদিন সকলে খোঁজ খবর নিলেও এখন আর কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছেনা। সকলে আশার বাণী দিয়ে চলে গেছেন। প্রায় সময়ই অনাহারে, অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। সর্বোপরী নিহতদের আক্ষেপ, হাহাকার, কান্না, মানবেতর জীবন যাপন আর  প্রশাসনের সফলতা এই নিয়ে গত হল সাত খুনের একিিট বছর। পুলিশ অল্প সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের মধ্যে দিয়ে তাদের আন্তরিকতা ও সফলতা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে কাদঁতে কাঁদতে হত্যকান্ডের শিকার তাজুলের মা-বাবার চোখের জল শুকিয়ে গেছে। এখন ছেলের কথা শুনলে ধুকেঁ ধুকেঁ কেদেঁ উঠে। তাদের বর্তমানে চাওয়া পাওয়া একটাই কখন ঘাতকদের বিচার হবে তা দেখে মৃত্যু বরণ করা। 
অন্যদিকে নিহত কাউন্সিলরের স্ত্রী বিউটি আক্তার জানান, সাত হত্যাকান্ডের চার্জশীট দাখিল হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এজাহারভুক্ত ৫ আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বিচারের প্রহসন করা হয়েছে। 
এ বিষয়ে মামলার তদন্তে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিরপেক্ষতা, আন্তরিকতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে কম সময়ের মধ্যে মুল আসামীদের সন্তাক্ত করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, এক্ষেত্রে কোন প্রকার ছলছাাতুর করা হয় নাই। 
মামলার প্রতিবেদনে জানা যায়, ৩৫জনকে মুল আসামি করে হত্যকান্ডের সাথে জড়িত ২২ জন আসামি ও ১৭ জন স্বাক্ষী আদালতে স্বীকৃতি জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া ১২৭ জন স্বাক্ষী ও ১৬২টি আলামত ধারা এজাহার প্রতিবেদন দেওয়া হয়। 
আলোচিত ৭ হত্যকান্ডের মামলার পিপি ফজলুর রহমান জানায়, সরকারের আন্তরিকতা, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সততার কারনে এত বড় মামলাটি দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা গেছে।
বাদীর অভিযোগ প্রসংগে তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার যদি আন্তরিক না হলে তা হলে তিনি মাত্র ৬জনকে আসামী করেছে, কিন্তু চার্জশিটে আসামী করা হয় ৩৫জন কে তা হলে প্রশ্ন উঠা যুক্তযুক্ত মনে হয় না। তিনি ভুল করছেন। 
সাত খুনের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ডঃ খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, হত্যাকান্ডের এক বছরের মাথায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত তথ্য উপাথ্য যাচাই বাছাই করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, এখানে কাউকে অযথায় জড়ানো হয় নাই অথবা কাউকে ছাড়ও দেওয়া হয় নাই। 
উল্লেখ্য, গত বছর ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার সহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং পরদিন আরও একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পৃথক দুটি মামলা হয়। পরবর্তীতে আলোচিত এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এই বছর ৮এপ্রিল পুলিশ ৩৫জন কে আসামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে পুলিশ। 




Post a Comment

Disqus