আব্দুল হালিম নিশাণ,নারায়ণগঞ্জ /বর্তমান বার্তা ডট কম ২৯এপ্রিল ২০১৫ / বিগত বছর ধরে ইংরেজি নববর্ষ পালন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বস্ত্রহরণের শিকার হয়েছিলেন গাজীপুরের মেয়ে শাওন আক্তার বাঁধন। সে ঘটনায় মামলাও হয়, কিন্তু সবাই বেকসুর খালাস পেয়েছে। বস্ত্রহরণের শিকার হওয়া বাঁধন নিজের মান রক্ষায় কোনোদিন আদালতেও যাননি জবানবন্দি দিতে। প্রতিবেশী-স্বজন ও পরিচিতদের কটাক্ষ থেকে রক্ষায় প্রবাসে দিন কাটাচ্ছেন। এবারের ঘটনাটি বাংলা নববর্ষ উৎসবে, দিনের আলো মিলিয়ে যাওয়ার আগেই। একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষ নারীর বস্ত্রহরণ করল। তা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমই কেবল নয়,জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ওয়াল্ড হিউম্যান রাইটস্ ক্রাইম রিপোর্টারস্ সোসাইটির(সি.ই.সি.) (যিৎপৎং) ঢাকা বিভাগিয় কমিটির প্রেসিডেন্ট মো: নাসির, সেক্রেটারী মো: আমির হোসেন, উপদেষ্টা এম. এ. আজিজ, স্বাস্থ্যে বিষয়ক সেক্রেটারী ডা.সালাউদ্দিন ও প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম নিশাণসহ অনন্য আরো সদস্যরা উপস্থিত থাকা কালিণ নববর্ষের নারীনিপীড়ন নির্যাতন উপলক্ষে সাড়া বিশ্বে এই নির্যাতিত ক্লেংকারি হওয়ার কারণে। এ ধরনের নির্যাতিত সন্ত্রাসী সদস্যদের শিঘ্রই গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ স্থানীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবিমত বিচার বিশ্লেষণ কারার আহ্বান জানান। এবং প্রশাসন পর্যন্তও নড়ে উঠেছে এ ধরনের ক্লেংকারির নির্যাতিত কথা ভেবে। কিন্তু বস্ত্রহরণের শিকার হওয়া নারী বা তার স্বামী কেউই আর জনসমক্ষে আসছেন না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার অভাব, সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণœ হওয়ার আশঙ্কা এবং জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি শঙ্কা থেকে প্রকাশ্যে নির্যাতিত হলেও কোনো অভিযোগ করেন না নারীরা। গোপনে নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে অভিযোগ করার বদলে মান-ইজ্জত আর জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার আশায় তা যতটা সম্ভব গোপন রাখতে চান নারী। অনেক সময় নির্যাতনের কথা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আলোচনা করার সুযোগ পান না, পুরুষশাসিত সমাজে পরিবারের লোকজনও প্রায়ই নারীকেই দোষারোপ করে। তাই সমাজে নারী নির্যাতন ও লাঞ্ছনার যত ঘটনা ঘটে, তার খুবই অণু-পরমাণুতম অংশ যায় বিচারালয় পর্যন্ত। ফলে প্রকাশ্যে-অপ্রক্যাশে নারী প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার শিকার হলেও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর খাতায় তাদের সংখ্যা অতি নগণ্য।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৬ ধরনের কাজকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে আছে সরাসরি বা ইঙ্গিতে অশালীন আচরণ, হয়রানি বা নিপীড়নমূলক উক্তি ও মন্তব্য, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা। এ ছাড়া চিঠি, মোবাইল ফোন, খুদে বার্তাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যৌন ইঙ্গিতসহ অপমানজনক কথা লেখা ও চরিত্রহননের জন্য স্থির বা ভিডিওচিত্র ধারণ ইত্যাদি।
মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মার্চ মাসে দেশে মোট ১৯ নারী ও শিশু যৌন হয়রানির শিকার হন। এর মধ্যে দুজন আহত এবং ছয়জন লাঞ্ছিত এবং ১১ নারী ও শিশু বিভিন্নভাবে দুর্বৃত্তদের দ্বারা আহত হন। আর ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’র এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে কোনো যৌন নির্যাতনের মামলা হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে মামলা হয়েছে ২টি ও মার্চে আরও ২টি। কিন্তু জানুয়ারিতে নারী নির্যাতন হয়েছে ২৮৪, ফেব্রুয়ারিতে ৩৩৮ ও মার্চে ৩৪৫টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিষদের তৈরি করা তথ্য মতে, ২০০৮ সাল থেকে গত বছর (২০১৪) পর্যন্ত সারা দেশে খুন, ধর্ষণ ছাড়াও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৪ হাজার ৬২টি নারী-শিশু। তার মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে মাত্র ৪৪৪টি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নারী জানান, দিন দিন নারীদের যৌন হয়রানি বাড়ছে। সাধারণ দিনগুলোয় তো বটেই, যে কোনো উৎসবের দিন যেসব জায়গায় মানুষ সমাগম বেশি হয় সেখানে যৌন হয়রানির ঘটনা বেশি ঘটছে। নারীর প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধে উচ্চ আদালত দিকনির্দেশনামূলক নীতিমালা দিয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত। এমনকি পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকেও নারীরা সহযোগিতা পান না, কিছু ক্ষেত্রে তারা পুলিশের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. ফৌজিয়া মোর্শেদ যৌন নির্যাতনের তথ্য সম্পর্কে বলেন, আমরা বিভিন্ন পত্রিকা থেকে নারী ও শিশু নির্যাতনের তথ্য নিয়ে থাকি। তাই এসব জায়গা থেকে নেওয়া তথ্যই সর্বশেষ হিসেবে তৈরি করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, সরকারের নারী ও শিশুবিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় থাকলেও সেখানে নির্যাতনের সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় না। আইন ব্যবস্থা থাকলেও অনেকে আইন সম্পর্কে অবগত না থাকায় তা মামলা পর্যায়ে যায় না বলেও মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার ও মহিলা অঙ্গনের সম্পাদক রাবেয়া বেবি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়ে মিডিয়া কাজ করলেও সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন সংগঠন পত্রিকার দেওয়া তথ্যকেই সর্বশেষ তথ্য মনে করে জরিপ করে থাকে। যে কারণে সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় না। দিন দিন যৌন হয়রানির মাত্রা বাড়লেও তথ্য না থাকার কারণে আমরা এর সঠিক চিত্র পাচ্ছি না বলেও মনে করেন তিনি।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ অ্যাকশন এইড’-এর ‘নিরাপদ নগর কর্মসূচির ভিত্তিমূলক জরিপ’ থেকে জানা যায়, যৌন হয়রানির শিকার হলেও নারীরা পুলিশের সহায়তা চান না। এই নারীদের ৯৫ শতাংশ আছেন যারা মনে করেন নিজেদের সমস্যার কথা পুলিশকে জানালে সমস্যা বেশি হতে পারে। এদিকে পুলিশও মনে করে, ৬৫ শতাংশ নারীই ঘটনার জন্য দায়ী!
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফাওজিয়া করিম ফিরোজ আমাদের সময়কে বলেন, নারীরা বাস থেকে বাজার সব জায়গায়ই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন থাকলেও তার যথাযথ জ্ঞান সবার মাঝে না থাকার কারণে বেশিরভাগ নারী কোনো মামলা করে না। তাছাড়া মামলা করার পরে যে হয়রানির শিকার হয় তা থেকে পরিত্রাণ পেতেও কেউ সাহসের পরিচয় দেয় না বলে মনে করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিচারের জন্য ঢাকায় হাতেগোনা কয়েকটি কোর্ট। অথচ এখানে লাখ লাখ মামলা বিচারাধীন।
মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত বছর সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২১ হাজার ২৯১টি। ২০১৩ সালে সারাদেশে নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয় ১৯ হাজার ৬শ একটি। অন্য মামলার সঙ্গে তুলনা করলে এ সংখ্যা ৯.৩৬ শতাংশ। এগুলোর ৮০ শতাংশ মামলারই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া ছাড়াও তদন্তের অপেক্ষায় আছে বাকিগুলো রয়েছে বাকিগুলো।
ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, গত রাজধানীতে নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয় ১৫শ ৮৬টি। চলতি মাসে জানুয়ারিতে মামলা হয় ১০২টি, ফেব্রুয়ারিতে ৯৯টি ও মার্চে ১২২টি।
ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, যৌন নির্যাতনের মামলা মূলত সচেতনতার কারণেই হচ্ছে না। যতটা হয় সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক তৎপরতা নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেন । শুধু সমাধান কারার চেষ্টা করলেই নয় এ দেশের আপমার জনসাধারনের পথচলায় কিংবা প্রতিটি সমাজের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা লঘুর ক্ষেত্রে পরিবেশের ভার সাম্য আইনশৃঙ্খলা মোতাবেক রক্ষা কারা উচিত তা হলেই আমা দের দেশের মা বোনেরা উল্লেখিত যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষ পাবে বলে ওয়াল্ড হিউম্যান রাইটস্ ক্রাইম মানবাধিকার সংস্থার এক আনুষ্ঠানিক ভাবে সকল সদস্যদের অভিমত এ ধরনরে অনুষ্ঠান পালিত কারা হয় ।
Post a Comment
Facebook Disqus