লেখক ও শিক্ষানুরাগী হাজী মোঃ মহসীন ঃ /১২মে ২০১৫ / শৈশবকাল থেকেই গ্রামের কাঁদা-মাটি, চারপাশের ফসলের মাঠ,     পাখির কল্লোল আওয়াজে মুখরিত হয়েছি। সবুজের সমারোহে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে বড় হয়েছি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়টি। এই বিদ্যাপীঠেই আমার হাতে খড়ি। বিদ্যালয়ের ফটোকের অল্প একটু দক্ষিণে সুবিশাল বট গাছটি দাঁড়িয়ে আছে। দেখতে মন্দ না। মানুষের মনকে ছাঁয়া মায়ায় মুগ্ধ করে। বটগাছটির দুই নামেই সকলে চিনে। কেউ কেউ বলে বৌ-গাছতলা। আবার কেউ বলে কালিগাছতলা। বটগাছটি প্রায় দুই বিঘা জমির উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গাছের বয়স আনুমানিক ৫০০ থেকে ৭০০ বছর হতে পারে। উচ্চতা ১২০ ফুটের মতো। অগনিত ঝুরির ভিতরে এর মূল কান্ড।
ঈশাখাঁর পংখিরাজ খালের পূর্বপাড় ঘোষাই দাসের ভিটামাটির উপর ছিল মূল কান্ডটি। তাতেই বিস্তৃত বলে মানুষের মুখে শুনা যায়। পালাক্রমে পিতা-মাতার কাছ থেকে শুনেছে। এই বট গাছের নীচে কত নামিদামী লোকের আগমন ঘটে। এম.পি থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা অফিসাার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জ্ঞানী-গুনী, সাধক, যুগী-মুণী ঋষী অবলোকন করে দেন এই বটগাছটি। উক্ত অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে কানে আওয়াজ আসে বউ কথা কও, নানা রকমের পাখির কলকাকলীতে মুখরিত ও বিমোহিত হতে দেখা যায়। 
 সোনারগাঁওয়ের কালিগাছ, বৌউগাছতলার চেয়ে বড় বটগাছের সন্ধান আছে। ভারতের কলকাতার বোটানিক্যাল গার্ডেনের বটগাছ প্রথিবীর বৃহত্তম বটগাছ বলা হতো। ২০০ বছরের পুরনো এই গাছটি ৩ একর বা  ৯ বিঘা জায়গা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারচেয়েও বড় প্রমাণিত হয়েছে যে  বাংলাদেশের ঝিনাইদাহের বটগাছ সবচেয়ে বড় , তারপর প্রমাণিত হয়  যশোরের বটগাছই পৃথিবীর বৃহত্তম বটগাছ।
পরিশেষে সোনারগাঁওয়ের কালিগাছতলার এই বটগাছের গোড়ায় গোলাকার করে বসার স্থানটি তৈরি করলে দৃষ্টিনন্দন হবে। উপজেলা পরিষদের একটু উত্তর দিকে হলেও প্রশাসনিই সুনামের অধিকারী হবেন। তবে প্রশাসন দৃষ্টি দিলে আমরা সকলেই গর্বে গবীত হবো।পরিচর্যার অভাবে হয়তো একদিন গাছটি শেষ হয়ে যাবে কিন্তু ইতিহাস হয়ে থাকবে  গাছটি ।
আমার মনে হয় সোনারগাঁওয়ে বটগাছটিই সবচেয়ে বড় বটগাছ ।



Post a Comment

Disqus