হাসু আক্তার  / বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৪ মে ২০১৫ /     সোনারগাঁয়ে ভোক্তাভোগীগন কর্তৃক এক মানব পাচারকারীকে আটক করার ঘটনা সোনারগাঁও থানা পুলিশকে অবগত করার পরও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় অবশেষে আন্তজার্তিক মানব পাচারকারী দল ভোক্তভোগীদের উল্টো পুলিশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছে আটক মানব পাচারকারী আব্দুল রহমানকে। উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের কোবাগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ভোক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, আন্তজার্তিক মানব পাচারকারীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা পেয়ে জনতার হাতে আটককৃত মানব পাচারকারী আব্দুল রহমানকে ছিনিয়ে নিয়েছে এলাকার প্রভাবশালী মহল। গত ১৮ মে থেকে ২০ মে তিন দিন যাবত মানব পাচারকারীকে আটকে রাখার ঘটনা পুলিশ জেনেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বিধায় এলাকাবাসীর মধ্যে পুলিশের এহেন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং পুলিশের প্রতি সাধারন মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ভোক্তভোগীরা জানায়, এ দেশ থেকে মানব পাচার করতে আব্দুল রহমানের একটি বিশাল নেটওর্য়াক রয়েছে। এ নেটওর্য়াক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিঁটিয়ে রয়েছে। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার নিরহ মানুষকে বিদেশ গিয়ে টাকা আয়ের উচ্চ লোভ দেখিয়ে প্রতারনামূলক ভাবে নিয়ে যায় এবং পাচারকারীরা কৌশলে তাদের আটক রেখে লাখ লাখ টাকা স্বজনদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করছে। মানব পাচারকারীদের দাবী অনুযায়ী মুক্তিপণের টাকা দেওয়া হলেও স্বজনদের ফেরত দেয়া হয়না। গত প্রায় দু’মাস পূর্বে সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের কোবাগা গ্রাম থেকে মৃত-জালুর ছেলে হাসু, মহিজদ্দির ছেলে রাজু, মৃত-আক্রম আলীর ছেলে ফালান, বাবুলের ছেলে রহিম, হোসেনের ছেলে নুরুজ্জামান, টুক্কার ছেলে জাহাঙ্গীর, মতলেবের ছেলে সোহেল, হোসেনের ছেলে বিল্লি, আফাজদ্দির ছেলে হাফেজ, মনিরের ছেলে রাসেল, নান্নুর ছেলে শাহ জামালসহ প্রায় ১৫ ব্যক্তিকে একই গ্রামের মৃত-আব্দুল খালেকের ছেলে মানব পাচারকারী দলের অন্যতম সদস্য আনার, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌরাপাড়া গ্রামের হাসেম মোল্যার ছেলে নবী, আদম আলীর ছেলে আব্দুল হাই, আলেক মেম্বারের ছেলে বাবুলসহ একটি মানব পাচারকারী দল তাদের মানব পাচারকারী দলের প্রধান হোতা সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের মৃত-ফজলুর ছেলে আব্দুল রহমানের নিকট  তাদের স্বজনদের তুলে দেয়। পাচারকারী দলের প্রধান হোতা আব্দুল রহমান কক্্রবাজারের কলাতলী মোড়ে নিয়ে আটক রেখে অ¯্র ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে কৌশলে আদমদের পরিবারের নিকট মোবাইল করায় এবং উল্লেখিত আনারের মাধ্যমে জনপ্রতি ২ লাখ ৩০-৫০ হাজার টাকা করে প্রায় ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় পাচারকারীরা। পরে, কলাতলী মোড়ে নুরে আলম নামের অপর পাচারকারীর হাতে এদের তুলে দেয়ার কথা উপস্থিত এলাকাবাসীর নিকট স্বীকার করছে পাচারকারী রহমান। তারা পাচারকারীদের দাবীকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করতে তাদের শেষ সম্বল ভিটে জমি বিক্রি করে নিস্ব হয়ে গেছে। মক্তিপণের টাকা পরিশোধ করার পরও দীর্ঘ দিনে ভোক্তভোগীরা স্বজনদের কোন হদিস না পেয়ে অভিনব কৌশলে প্রধান মানব পাচারকারী আব্দুল রহমানকে এলাকায় এনে তিন দিন আটক রাখার পর এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাচারকারী দলের অপর সদস্যরা ছিনিয়ে নিয়েছে আটক পাচারকারী রহমানকে।            
এখন ্এলাকার প্রভাবশালী মহলটি মানব পাচারকারীদের নিকট থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নিয়ে শান্তনা মূলক আশ্বাস প্রদান করছে ভোক্তভোগীদের টাকা ও স্বজনদের তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এহেন ঘটনায় সোনারগাঁও থানা পুলিশের প্রতি ভোক্তভোগী এলাকাবাসী আস্থা হারিয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে র‌্যাব ও ডিবি পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহীনির নিকট জোর দাবী জানিয়েছে।


Post a Comment

Disqus