# মা নারী নেত্রী শাহানা খানম চৌধুরীর কিছু কথা #

সর্বশেষ খবর

সালমান খানের নয়া চমক | পৃথিবী যদি হঠাৎ ঘুর্নন বন্ধ করে দেয় তাহলে কি হবে? | হেটে হেটে দেশ ভ্রমন রহমানের | সোনারগাঁয়ে লাগামহীন আইপিএল জুয়া ধবংস হচ্ছে যুবসমাজ | সোনারগাঁয়ের গোহাট্রায় রাস্তার সংসকার কাজের উদ্ধোধন কালে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা | সোনারগাঁয়ে স্কুলের জমি দখলের পায়তারার প্রতিবাদে মানববন্ধন

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------






বর্তমান বার্তা ডট কম / ১৬ মে ২০১৫ / 
নিজকে নিয়ে ভাবেনি কোনদিন, মানুষের তরে জীবনকে বাজি রেখে যে পথ চলে, সে আর কেউ নয় আমাদের ‘এটিএম কামাল’। তার সাতান্নতম জন্মবার্ষিকীতে মায়ের দু’কলম লিখা।


এ নহে শুধু বুক ফাটা আর্তনাদ, অহংকারে গর্বে মায়ের বুক ভরে যায়, যখন তার অতীতের স্মৃতি একে একে চোখের উপরে ভেসে উঠে। সময় কারো অপেক্ষা করেনা, দিন মাসও কারো অপেক্ষায় থাকেনা কিন্তু অতীত স্মরণ করিয়ে দেয় শোক দুঃখ আনন্দ বেদনার কাহিনী, যা গল্প নয় সত্য। উনিশে একাত্তর ইংরেজী তের বছরের বালক মুক্তিযুদ্ধে গেল, মায়ের কান্না, বাবার আহাজারি তাকে আটকে রাখতো পারলোনা। তখন ছেলে-মেয়ে,স্বামী নিয়ে আমি থাকতাম বারদীর রিবর বালিকা বিদ্যালয়ের কোয়াটারে। ঐ সময় মায়ের কোল খালি করে সব দিকে ছড়িয়ে পরলো নওজোয়ান ছেলেরা, কাঁধে বন্দুক চোখেমুখে কি তেজস্বিতা, জয় করবে তাদের বাংলা মাকে। তাদের কিছু সংখ্যক মুক্তিকামী ছেলেরা আসলো আমাদের স্কুলে। প্রথম যেদিন আসলো, সেদিন তাদের মাঝে কয়েকজন আহত ছিলো। আমার স্বামী ছিলেন ডাক্তার, তিনি অনেক যতœ নিয়ে চিকিৎসা করলেন, আমি তাদের খাবার আয়োজন করলাম। তখন নিজের ছেলের খেয়াল করার সময় ছিলোনা আমাদের। আমার স্বামী অসুস্থ্যদের সেবা দিচ্ছেন, আমি থাকতাম খাবার আর বসবাসের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত।


কিছুদিন পর বাংলার নওজোয়ান ছেলেরা বিজয়ের বার্তা নিয়ে আসলো, রক্ষা করলো তাদের মাতৃভূমিকে।

নৃশংস অত্যাচার, ব্যাভিচার, মায়ের বুক খালি করা এসব ভুলে গিয়ে তারা জয়ধ্বনিতে মেতে উঠলো।

আমার ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে উঠলো, তাই বাধ্য হয়ে বারদীর রিবর গার্লস স্কুল ছেড়ে আসতে হলো আমাদের নারায়নগঞ্জের বাড়িতে। নারায়ণগঞ্জ এসে আমার বড় ছেলে এটিএম কামালের সমাজ সেবা করার উৎসাহ আনন্দ শতগুণ বেড়ে গেল। অন্নহীনকে আন্নদান,বস্্রহীনকে বস্্র দান রোগাক্রান্ত জর্জরিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়ে তাদের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা দিনের বিরাট অংশ জুড়ে থাকতো তার এই কাজে। বাবার চোখ রাঙানী লাঠিপেটা, পাড়া প্রতিবেশীর নালিশ আমাকে পাগল করে তুলতো। ভাল কাজ করছে, এটা প্রতিবেশীদের ভাল লাগছেনা। তাই আমি ও তার বোনেরা চেষ্টা করতাম তার বাবার রোষানল থেকে বাঁচানোর জন্য। তার বাবার কথা ছিল, পড়াশুনা স্কুল বাদ দিয়ে সে কেন অন্য কাজে জড়িয়ে পড়বে?

তার বেশ কিছুদিন পর তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিলাম। র্দীঘ ২০ বৎসর প্রবাসী জীবনে থেকেও তার কাজের পরিধি একটুকুও কমলো না,্্্্্্্ ঐখানে গিয়েও মানুষের উপকার করতো, তার নিজের কাজ বাদ দিয়ে। বিদেশ থেকে পরিচিতজনরা বলতো , আপনার ছেলে ঐখানেও মানুষের উপকার করে বেড়ায়। সে আমাদেরও অনেক করেছে, সত্যি এমন মানুষ হয়না। র্দীঘ বিশ বৎসর বিদেশ থেকে সে দেশে ফিরল, তার প্রথম কথা হলো ‘আম্মা’ আমি আর বাইরে যাবোনা। বাংলাদেশের আবাল বৃদ্ধ বনিতার দুঃখ দুর্দশা দেখে মন কিছুতেই সায় দেয়না বাইরে যাওয়ার। তারপর সে চিন্তা করলো একটি সংগঠন গড়ার। তার এই সংগঠনে সবাই স¦তর্স্ফুত ভাবে যোগ দিল, তার নাম দিল ‘র্নিভীক পরিবেশবাদী সংগঠন’।

সেই সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী সে। মানুয়ের জন্য কাজ করার শপথ নিয়ে রাস্ত্ায় নামলো সে। শীতলক্ষার পানি বর্জ্যতে দুষিত হয়ে গেছে যে পানি পান করে নারায়নগঞ্জের শিশুরা ডায়রিয়া, আমাশয়, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড এই সকল রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছে ও কিছু অকালে মৃত্যুবরণ করছে। শুরু হলো তার সংগঠনের কাজ। আমাকেও ছাড়েনি ‘মানব বন্ধন’, ট্রলারে ফতুল্লা থেকে ঢাকা যাওয়া, সেখানেও অন্যান্য পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সভা, মানব বন্ধন করেছে। একের পর এক টিপাই মুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ কর, সুরমা, কুশিয়ারা, মেঘনা নদী বাচাঁও, বাংলাদেশ বাচাঁও এই শ্লোগান দিয়ে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে পদব্রজে রওয়ানা হলো, দুঃখের বিষয় একজনও সঙ্গী রইলো না, ২৩ বৎসরের বালক নিয়ে সে যখন সিলেট পৌঁছল, তখন তার পা ফেটে রক্ত বেরুচ্ছে, হাটতে পারেনা, লাঠি ভর দিয়ে লিফলেট ও হ্যান্ড মাইক দিয়ে প্রচার করতে করতে চলছে, তখনই লোকজন জড়ো হয়ে দেখল আর বলল, কে এই যুবক! যার প্রাণের মায়া নেই তার পা দিয়ে রক্ত ঝরছে তবুও চলছে তো চলছে; কয়েকজন ধরে সিলেট মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়ে দিল, এইভাবে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছল। ঝড়, বন্যা,জলোচ্ছাস জলাবদ্ধতায় একটি দরদীমন নিয়ে ছুটে যেতো তাদের পাশে। তার পরোপকারের কথা, দেশ ও মানুষের জন্য অনশন মিটিং মিছিল এই সকল লিখে শেষ করা যাবেনা। জনগণের পাশে থাকার জন্য তাদের দুঃখ দূর্দশা দূর করার জন্য সে জাতীয়তাবাদী দল বা বি এন পিতে যোগ দিল। বর্তমানে সে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক।  মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য মাঠে নেমে পড়ল সে, দলীয় কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে বারবার কারাবরণ করেছে সে, অকুতোভয় কামাল কাফনের কাপড় গায়ে দিয়ে মিছিল করার জন্য রাজপথে নামল। তখন শুরু হলো তার উপর নির্যাতন, পুলিশী লাঠির্চাজ, প্রাণঘাতি পেটোয়া বাহিনীর র্নিমম আঘাত। আঘাতের পর আঘাতেও অবিচল হয়ে দাড়িঁয়ে রইল সে, অথচ মিছিলটা ছিল প্রতিবাদ জানানোর, সেখানে কোন নাশকতার লেশ মাত্র ছিল না। সংগঠক হিসেবে সে ছিল অন্যতম। নানা চড়াই উৎরাই পার হয়ে সফল সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। জ্বালাও পোড়াও ভাঙচুর ছিনতাই মানুষ গুম, খুন হত্যা গ্রেফতার এই সকল নাশকতা তাকে খুব কষ্ট দিত। তাই দেশের আবাল বৃদ্ধ বনিতার কিছুটা যন্ত্রনা দুঃখ দূর করার জন্য সে শান্তির মিছিল নিয়ে বেরুত। হায়রে গনতান্ত্রিক অধিকার! তার অধিকারকে পদধলিত করে মিছিল থেকে নিয়ে রাখল অন্ধকার কারাগার প্রকোষ্ঠে। দিন যায়, রাত যায়, মাসের পর মাস যায় সে ধুকে ধুকে জীবন কাটাচ্ছে। কি তার অপরাধ? দেশ ও জাতির কাছে এই অসহায় মায়ের প্রশ্ন? মানুষের উপকার করা, দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য জীবনকে বাজি রেখে পথ চলা, যে নিজের শান্তিকে বির্সজন দিয়ে রাস্তায় নামল, তার এই কি পরিনতি? আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই। আমার আকুল মিনতি ও নারায়নগঞ্জবাসীর একই অভিমত এটিএম কামালের মুক্তি।


Post a Comment

Disqus