বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৮ জুন ২০১৫ / সোনারগাঁ উপজেলার বরাব ও জামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। বরাব ভূমি অফিসের নায়েব মো: আবু ছায়েদ ও সহকারী নায়েব কামরুল হাসান উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাংঙ্গিয়ে ভূমি মালিকদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপর দিকে জামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেরও একই অবস্থা। তাদের দাপটে অতিষ্ট হয়ে পড়ছে স্থানীয় ভূমি মালিকরা। ভূমি মালিকরা তাদের সম্পত্তি নামজারি করতে গিয়ে নায়েবদের দিতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ। আর উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে নামজারির জন্য হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে ভূমি মালিকদের। বরাব ভূমি অফিসের নায়েব ও সহকারী নায়েবের উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি যেন নিয়ম রিতীতে পরিনত হয়েছে। তাই প্রকাশ্যে তারা ভূমি মালিকদের কাছে উৎকোচের টাকা নিয়ে দর কষাকষি করে নামজারি করে থাকেন। ওই নায়েবরা উৎকোচের একটি অংশ সোনারগাঁও উপজেলা ভূমি অফিস ও জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ে দিয়েই কাজ করেন বলে জানান। ভূমি মালিকরা অভিযোগ সুরে জানান বাংলাদেশ সরকার অর্পিত (খ) তফসিল ভূক্ত সম্পত্তি অবমুক্তি দিলেও ওই দূর্নীতিবাজ নায়েবদের কাছ থেকে মুক্ত হয় নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি মালিকরা অভিযোগ করে জানান, বরাব ভূমি অফিসের নায়েব মো: আবু ছায়েদ ও সহকারী নায়েব কামরুল হাসান অর্পিত (খ) তফসিলের সম্পত্তি প্রতি শতাংশের নামজারির জন্য নুন্যতম ২ থেকে ৩ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে থাকেন। তবে জমির পরিমান ২০ শতাংশের কম হলে ভূমি মালিকদের ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে হয়। আর ২০ শতাংশের উপরে হলে প্রতি শতাংশের জন্য ২ হাজার টাকা দিতে হয়। চাহিদা অনুযায়ী উৎকোচ দিলে সম্পত্তির কাগজ পত্রে ত্র“টি থাকার পরও তার সমাধান দিয়ে দেয় ওই দূর্নীতিবাজ নায়েবরা। নায়েবদের বেধে দেয়া উৎকোচের টাকা কম দিলে অথবা উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালেই হয়রানির শিকার হতে হয় ভূমি মালিকদের। স্থানীয় দালাল সিরাজ ও নূরুল ইসলাম মাধ্যমে টাকার লেনদেন করেন বরাব ভূমি অফিসের নায়েবরা।

উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিবি মরিয়মের ১২২৬৮/১৪-১৫, আব্দুল কাদিরের ১২১৬৬/১৪-১৫, বাদল চন্দ্র সেনের ১২১৬৭/১৪-১৫, মানিক সরকারের ১২১৬৫/১৪-১৫, আব্দুল কাদির মিয়ার ১২৪৭৫/১৪-১৫, ১২৪৭৬/১৪-১৫, সুমন্ত রায়ের ১২৫৬৩/ ১৪-১৫ ইং নামজারি মামলা গুলো প্রস্তাব দেয়নি।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি খ তফসিল ভূক্ত একটি নামজারির জন্য বরাব ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আবু সাঈদ ও কামরুল ইসলামকে ভরৎ মৌজায় ২০৭৯/১৪-১৫ নম্বারে নামজারীর জন্য ৩৫০ শতাংশ জমির জন্য ১০ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিতে হয়েছে এক ভূমি মালিককে। তারা সম্পত্তিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্য দেখিয়ে ও উদ্ধতন কর্তৃপক্ষেও নাম ভাংঙ্গিয়ে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সাদিপুর ইউনিয়নের ভরৎ গ্রামের সুভাষ চন্দ্র ভৌমিক জানান, আদালতে মামলা থাকার পরও ১০ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি প্রতিপক্ষের নামে নামজারি করে দেয় বরাব ভূমি অফিসের দূর্নীতিবাজ নায়েব মো: আবু ছায়েদ ও সহকারী নায়েব কামরুল হাসান।এব্যাপারে অভিযুক্ত নায়েব আবু ছায়েদ ও কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে উৎকোচের বিষয়ে তারা বলেন, এলার ফান্ডের জন্য এ টাকা নেয়া হয়। তারা আরো বলেন, আমাদের সেবায় ভূমি মালিকরা খুশি হয়ে যদি আমাদেরকে কিছু দিয়ে থাকে সেটা তো আমরা নিতেই পারি। এলার ফান্ডের টাকা কোথায় জমা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে আবু ছায়েদ ও কামরুল ইসলাম বলেন, সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) স্যারের অফিসে জমা হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান  বলেন, ওই অফিসের ব্যাপারে একাধিক বার মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


Post a Comment

Disqus