শাহীন আহমেদ / র্বতমান র্বাতা ডট কম / ০১ জুন ২০১৫ / নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বন্দর এলাকার বাসিন্দারা বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিল প্রদানে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। শহরের বাসিন্দা হয়েও পল্লী বিদ্যুতের লাইন চাপিয়ে দেয়ায় নাগরিকদের মাঝে দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ দিকে একই সিটির আওতাভুক্ত নদীর পশ্চিম তীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী( ডিপিডিসি)। একই এলাকায় দুই কোম্পানীর বিতরণকৃত বিদ্যুৎ বিলে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। একই সিটিভুক্ত এলাকায় দুই প্রতিষ্ঠানের দু’ধরনের বিদ্যুৎ লাইনে উষ্মা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। ইতিপূর্বে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী
এলাকাবাসী জানান, ১৯২১ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর বন্দরের মদনগঞ্জ , সালেহনগর ,বন্দর. নবীগঞ্জ, নোয়াদ্দা ,আমিরাবাদ, দেউলী চৌরাপাড়া, লক্ষণখোলাসহ কিছু এলাকা পৌর এলাকার অর্ন্তভুক্ত হয়। শুরু থেকেই এ এলাকায় পিডিবি বিদ্যুৎ বিতরণ করে। এরপর আসে ডেসা। ১৯৯৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে বেরিয়ে কদমরসুল নামে কিছু নতুন এলাকা নিয়ে বন্দরে আলাদা একটি পৌরসভা গঠিত হয়। কিন্তু পৌর এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ১৯৯৩ সালের দিকে ডেসাকে হটিয়ে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব নেয়। এরপর কদমরসুল পৌর সভা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত বন্দর। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পল্লী বিদ্যুতের কাছেই থেকে যায়। ডিপিডিসির ইউনিট প্রতি বিল ৪ টাকা ৬৮ পয়সা, অপর দিকে পল্লী বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি বিল ৫ টাকা এক পয়সা।বন্দরের নাগরিকদের প্রায় ৩৪ পয়সা বিল বেশি দিতে হচ্ছে। বন্দর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির সোহেল জানান, আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক হয়েও পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি । বিলও পরিশোধ করছি পল্লী বিদ্যুতের। সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক হয়ে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার আমরা। অথচ একই সিটি ভুক্ত নদীর পশ্চিম পাড়ের নাগরিকরা ডিপিডিসির বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। আমাদের থেকে বিলও তুলনামূলক কম । রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ইয়াদী মাহমুদ জানান, একই সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক হয়েও দুই ধরণের বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে। শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের বাসিন্দারা দিচ্ছেন ডিপিডিসির বিল ,আর নদীর পূর্ব পাড়ের বাসিন্দারা দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুতের বিল। এই বৈষম্য দূর হওয়া দরকার। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা প্রথম ধাপে ১ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ৩ টাকা ৬৮ পয়সা পরিশোধ করেন। ৭৬ ইউনিট উঠলেই তাকে দ্বিগুণ বিল গুণতে হয়। এ ছাড়া রয়েছে ভুতুরে বিলের কারসাঁজি। অভিযোগ রয়েছে, চোরাই লাইনের বিল প্রকৃত গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রদান করা হয়। এতে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও অতিরিক্ত বিল গুণতে হয় গ্রাহকদের।
Post a Comment
Facebook Disqus