বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৮ জুন ২০১৫ / সেই কোপা আমেরিকা, সেই কোয়ার্টার ফাইনাল, সেই টাইব্রেকার। এমন অনেক সাযুজ্যের পরও চার বছর আগের ছবিটার খোলনলচে বদলে গেল এবার। রুদ্ধশ্বাস কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে নাটকীয়ভাবে জিতে কোপার সেমিফাইনালে চলে গেল আর্জেন্টিনা। গত আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারেই হেরেছিল আলবিসেলেস্তারা। পেনাল্টি মিস করেছিলেন কার্লোস তেভেজ। ফুটবল বিধাতার কী অদ্ভুত খেয়াল, চার বছর আগের সেই খলনায়কই এবার বাঁচিয়ে রাখলেন মেসিদের কোপা স্বপ্ন! টাইব্রেকারে সাডেন ডেথে জয়সূচক গোলটি করে যেন শাপমোচন করলেন তেভেজ। শনিবার ভোরে চিলির ভিনা দেল মারে শেষ আটের মহারণ গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। অতিরক্ষণাÍক কৌশল বেছে নিয়ে ৯০ মিনিট আর্জেন্টিনাকে আটকে রেখেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি কলম্বিয়া।
গোলের অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জিততে না পারা মেসিদের জন্য অবশ্যই পীড়াদায়ক। তবে কৃতিত্ব দিতে হবে কলম্বিয়ার গোলকিপার ডেভিড অসপিনাকে। তার কাছেই আটকে যেতে হয় আর্জেন্টিনার ভয়ংকর ফরোয়ার্ড লাইনকে। গোটাছয়েক অবিশ্বাস্য সেভ করেছেন অসপিনা। একমাত্র ফাইনাল ছাড়া কোপার কোনো ম্যাচে অতিরিক্ত সময় না থাকায় ৯০ মিনিট শেষে সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ায় খেলা। সেখানে আর কলম্বিয়াকে বাঁচাতে পারেননি অসপিনা। বরং পুরো ম্যাচে অলস সময় কাটানো আর্জেন্টাইন গোলকিপার সার্গিও রোমেরো টাইব্রেকারে একটি শট ঠেকিয়ে দলকে সেমিতে তুলতে বড় অবদান রাখেন। তবে টাইব্রেকারে কম নাটক হয়নি। দু’দলই প্রথম পাঁচ শটের চারটিতে লক্ষ্যভেদ করে। আর্জেন্টিনার লুকাস বিগলিয়া পঞ্চম শটটি মিস না করলে সাডেন ডেথের প্রয়োজন হতো না। সেখানেও নাটক। সাডেন ডেথে গিয়ে পেনাল্টি নষ্ট করেন কলম্বিয়ার মুরিয়ো ওজুনিগা। একই পথে হাঁটেন আর্জেন্টিনার মার্কোস রোহো। তবে তেভেজ কোনো ভুল করেননি। প্রচণ্ড চাপের মুখে ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে চার বছর আগের সেই খেদ মেটান তিনি।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা যে গতিময় ফুটবল খেলেছে তাতে টাইব্রেকারে গড়ানোর কথা নয় ম্যাচটি। মেসি ঠিক মেসির মতোই খেলেছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান অসপিনা।
পাস্তোরে, আগুয়েরো, মেসি ও ডি মারিয়ার সব আক্রমণই থমকে যায় তার কাছে এসে। একবার ‘ডাবল সেভ’ করে যেভাবে আগুয়েরো ও মেসিকে গোলবঞ্চিত করেন অসপিয়ানা, এককথায় তা অবিশ্বাস্য। প্রতি আক্রমণে সুবিধা করতে না পেরে পেশিশক্তির প্রদর্শনীতে নামে কলম্বিয়া। ফলে প্রথমার্ধেই দু’দলের ছয় খোলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার খেলায় ছন্দপতন ঘটলেও ম্যাচের লাগাম ছিল মেসিদের হাতেই। কিন্তু অসপিনার প্রতিরোধ আর পোস্ট-দুর্ভাগ্যে গোলের দেখা আর পায়নি আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে সেই আক্ষেপ মুছে দেন তেভেজ।
চার বছর আগের একটি ব্যর্থতায় প্রায় সাড়ে তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছিল তেভেজকে। তারপরও সাডেন ডেথে শট নিতে কোনো দ্বিধা করেননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তবে শাপমোচনের চেয়ে দলের জয়কেই বড় করে দেখছেন তেভেজ, ‘আমার মনে কোনো দ্বিধা ছিল না। ফুটবলে সব সময়ই আপনি দ্বিতীয় সুযোগ পাবেন। তবে আজ রাতটি আমার নয়, আমার সতীর্থদের। তারাই দলকে জিতিয়েছে এবং এই দলের একজন সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত।’ কোচ জেরার্ডো মার্টিনো কিন্তু প্রথমে আস্থা রাখতে পারেননি তেভেজের ওপর, ‘এটাই ফুটবল। নাটকের চেয়েও নাটকীয়। টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচটি শটের জন্য আমি তাকে বাছাই করিনি। কারণ গত আসরের সেই পেনাল্টি মিসের ঘটনাটি মাথায় ঘুরছিল। ভেবেছিলাম সে চাপ নিতে পারবে না। কিন্তু সাডেন ডেথে আমাদের আস্থার প্রতিদান দিয়ে নিজের দায় মোচন করেছে সে।’
আজ ভোরে ব্রাজিল-প্যারোগুয়ে ম্যাচের বিজয়ী দল সেমিতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।

Post a Comment
Facebook Disqus