অলিউল্লাহ নোমান,লন্ডন / বর্তমান বার্তা ডট কম / ০৮ জুন ২০১৬ /  জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত যেন পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। এটাই হয়ত আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের কৌশল। যখন ছাত্র ছিলাম তখন জীবনকে সাজানোর চেষ্টা করেছি এক রকম করে। কিন্তু আমার চিন্তার ধারে কাছেও ভিড়তে পারিনি। কারন আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন নির্ধারন করে রেখেছেন অন্যভাবে। 
ছাত্রজীবনের শেষ ধাপে অর্থাৎ মাস্টার্স পরীক্ষার আগে অনাকাঙ্খিতভাবেই সাংবাদিকতায় যোগ দেই। অতীতে কখনো ভাবিনি সাংবাদিক হব। কিন্তু ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার আগেই পেশাদার সাংবাদিক হয়ে গেলাম। 
অনেক চেষ্টা, পরিশ্রম আর আন্তরিকতার সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছিলাম। পরিচিতি, খ্যাতি দুইটাই আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন আমাকে মঞ্জুর করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতা থাকলে সফল হওয়া যায় এই বিশ্বাস আমার মাঝে ক্রমেই দৃঢ়তর হচ্ছিল। যদিও সাফল্যের ধারে কাছেও পৌছাতে পারিনি। ¯্রফে রিপোটিং-এর জন্য কাউকে সুপ্রিমকোর্ট জেলে পাঠায়নি। ‘চেম্বার মানেই সরকার পক্ষে স্টে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনের জন্য আমাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকেও কারাভোগ করতে হয়েছে আমার এই রিপোর্ট প্রকাশের কারনে। আবারো আমার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন স্কাইপ স্ক্যান্ডাল প্রকাশের কারনে পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আজো কারাগারে। ৩ বছর অতিক্রম করেছে তাঁর বন্দি জীবন। সরকার পত্রিকা বন্ধ করে দেয়ায় ৪ শতাধীক সহকর্মী চাকরি হারিয়েছেণ। তাই মাঝে মধ্যে অনুশোচনা হয়। 
স্কাইপ স্ক্যান্ডাল প্রকাশ করে ভাল করলাম নাকি মন্দ করলাম সেটা আল্লাহপাকই ভাল জানেন। কারন ছোটবেলায় মক্তবেই শিখেছি-‘খাইরিহি ওয়া শাররিহি মিনাল্লাহি তায়ালা’। অর্থাৎ ভাল-মন্দ সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এই বিশ্বাসেই অটুট থাকার চেষ্টায় সর্বদা লিপ্ত আছি। যদিও ঈমানটা আমাদের খুবই দুর্বল। 
জীবনের একটা পর্যায়ে এসে দেশ ছাড়তে হবে, কল্পনায়ও ছিল না। স্বপ্নেও ভাবিনি কোন দিন। মমতাময়ী মা’ ইন্তেকাল করবেন। আমি তাঁর পাশে থাকতে পারবো না, শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকব না কখনো ভাবা যায়!!! এমনি ২০১৪ সালের ৮ রমজানে মা চলে গেলেন শেষ বিদায় নিয়ে। কিন্তু হতভাগা আমি। মা’র পাশে থাকতে পারিনি। রমজান মাসে মা বিদায় নিয়েছেন। তাই রমজান এলেই মনটা আরো বেশি খারাপ হয়ে যায়। 
দেশ ছাড়ার এক মূহুর্ত আগেও জানতাম না আমাকে এভাবে মাতৃভুমি ত্যাগ করতে হবে। আমার সম্পাদক ডেকে বললেন, তোমাকে লন্ডন যেতে হবে। কখন যেতে হবে জানতে চাইলাম। বললেন ,ভিসা থাকলে এখনই রওয়ানা হও। পাসপোর্টে মাল্টিপল ভিসা ছিল। টিকেট পাওয়া গেল। তাৎক্ষণিকভাবে লন্ডনে রওয়ানা হয়ে গেলাম। কবে, কখন ফিরব জানিনা। বা আদৌ জীবনে কোনদিন ফিরতে পারবো কিনা সেটাও আল্লাহপাক জানেন। এই হল জীবনের নিয়তি। 
লন্ডনে এখন জীবন সংগ্রামে লিপ্ত। নিজের জীবন নিয়ে এখন আর চক আঁকি না। কারন আমি চিন্তা করি এক রকম। আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন ভাগ্যে লিখে রেখেছেন অন্য রকম। তাই সবকিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম। আল্লাহই জানেন বাকী জীবন কিভাবে কাটাতে হবে। কতদিন চালিয়ে যেতে হবে সংগ্রাম আর লড়াই । এই লড়াইটা দিন দিন যেন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। লড়াইয়ে জিততে চাই। দোয়া করবেন সবাই।

Post a Comment

Disqus