নিজস্ব প্রতিবেদক / বর্তমান বার্তা ডট কম / ৩০ জুন ২০১৬ / বন্দরে আওয়ামীলীগ নেতার ভাই মুদিদোকানী আলহাজ্ব কুতুব উদ্দিন (৭০)কে ছুরিকাঘাত করে হত্যা ঘটনায় ধৃত খুনী রাজমিস্ত্রি শামীম আহাম্মেদ (২৫)কে ৫ দিনের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ অব্যহত রেখেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে ধৃত খুনীকে আদালত থেকে রিমান্ডে আনে পুলিশ। যার মামলা নং-৫৫(৬)১৬। ধৃতখুনী রাজমিস্ত্রি শামীম আহাম্মেদ কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দী থানার সভাহল এলাকার মৃত আবুল বাশার ওরফে মমিন মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, বন্দর থানার সোনাকান্দা সোনা বিবিরোড এলাকার মৃত ইউনুছ আলী মিয়ার ছেলে আলহাজ্ব কুতুবউদ্দিন মিয়া র্দীঘদিন ধরে সোনাকান্দা এলাকায় মুদিদোকান চালিয়ে আসচ্ছে। প্রতিদিনের মত গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় কুতুবউদ্দিন মিয়া মুদি দোকান বন্ধ করে রাতে খাবার খেয়ে তার ৩য় তলার একটি রুমে ঘুমিয়ে পরে। ঘটনার রাত পৌনে ১২টায় ০১৬২৮৪৭৯২৯৯ নাম্বার থেকে সজল নামে এক অচেনা লোক মুদিদোকানী আলহাজ্ব কুতুবউদ্দিনের ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোন ০১৮১৯২৩৮৯৬৮ নাম্বারের ফোন দিয়ে বলে আপনার দোকানের সাটারের তালা খোলা।  উক্ত সংবাদ পেয়ে মুদি দোকানী কুতুবউদ্দিন তার স্ত্রীকে দরজা বন্ধ করতে বলে ঘর থেকে বের হয়। পরে সে তার দোকানের দিকে রওনা দেয়। দোকানের তালা ঠিক আছে দেখে সে পুনরায় বাড়ীতে চলে যায়। এ সুযোগেসোনাকান্দা এনায়েতনগর এলাকার জাপা নেতা আজিজুল হক তার ছোট ভাই সাজু, রাজা মিয়া, শহিদুর রহমান, লিটন, বাচ্চু ও রফিকুলের যোগসূত্রে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দী থানার সভাহল এলাকার মৃত আবুল বাশার ওরফে মমিন মিয়ার ছেলে শামীম আহাম্মেদ কৌশলে মুদীদোকানীর বাড়ীতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে উৎপেতে থাকে। পরে মুদিদোকানী তার বাড়ীতে প্রবেশ করে ৩য় তলায় শয়নকক্ষের দিকে আসলে ওই সময় উল্লেখিতরা কুতুবউদ্দিনের উপর হামলা চালিয়ে তাকে গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারের শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা ঘটনার ওই রাতে রাজমিস্ত্রি শামীম আহাম্মেদ (২৫)কে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। পরে পুলিশ ধৃত খুনী শামীমকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন জানান, প্রকৃত ঘটনা জানতে আমরা জনতা কর্র্তৃক আটক খুনী শামীমকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যহত রেখেছি। এবং হত্যা মামলার বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যহত রেখেছি।  এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে তারা নাম প্রকাশ না করার র্শতে জানায়, মুদিদোকানী আলহাজ্ব কুতুবউদ্দিন হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাভিত করা চেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। সোনাকান্দা পঞ্চায়েত কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আবেদ হোসেন ও জাপা নেতা আজিজুল হকের সাথে পূর্ব বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আজিজুল ও রাজা মিয়াকে অযথায় এ মামলায় জরিয়ে দিয়েছে। আমরা ধরানা করছি কুতুবদ্দিন মিয়ার সাথে রাজমিস্ত্রি শামীমের সাথে টাকা পয়সা লেনদেনের ছিল। এর জের ধরে রাজমিস্ত্রি শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে মুদিদোকানী কুতুবউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনাটি ভিন্ন ক্ষাতে প্রভাবিত করার জন্য সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক ও জাতীয়পার্টি নেতা আজিজুল হক, সোনাকান্দা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মনির হোসেন রাজাসহ ৮ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। 


Post a Comment

Disqus