বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৩ জুন ২০১৬ / প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও সিগারেটের উপর কাঙ্খিত কর আরোপ করা হয়নি। বরং কর প্রদানের ক্ষেত্রে স্লাব (কর স্তর) বহাল থাকায় সিগারেট কোম্পানিগুলো শত শত কোটি টাকার কর ফাঁকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। এসময় ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির পরিচালক পদে থাকা সরকারের প্রতিনিধিদের পদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তামাকের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট করনীতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তামাকমুক্ত দেশের ঘোষণা দিলেও বাজেটে তার প্রতিফল নেই। প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এক্ষেত্রে কর স্তর তুলে দেওয়া হয়নি। আর এই স্তরের সুযোগ নিয়ে কিছু কিছু কোম্পানি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।
এরআগে এনবিআরের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানিকে ডিমান্ড নোট দেয়া হয় যেখানে তারা ৭০০ কোট টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে জানানো হয়। পরে সেই কোম্পানি আদালতে গেলে আদালত তাদের রাজস্ব ফাঁকির কথা উল্লেখ করে ৭০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলো। পরে তারা উচু স্তর থেকে নীচু স্তরে চলে আসে।
রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সত্ত্বেও সিগারেট কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করার সমালোচনা করে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, কিভাবে এসব বড় বড় কোম্পানীকে ধরবেন? ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোতে বাংলাদেশ সরকারের ১৩ শতাংশ শেয়ার আছে। যেখানে বোর্ড অব ডিরেক্টরে পাঁচজন সচিব পর্যায়ের পরিচালক রয়েছেন। তারা আবার অডিট করে, নিরীক্ষা করে। তাহলে কি দাঁড়ালো একটি কোম্পানিতে যেখানে সরকারের শেয়ার আছে, তারা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এটা লজ্জাজনক।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, চলতি বছরে বাংলাদেশে আইপিইউ ও সিপিএ সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে আমরা বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এতে বিশ্বে দেশ সন্মানিত হবে। যেটা আমাদের অনেক বেশি সন্মানের।
ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সাধারণ আলোচনায় আরো অংশ নেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান, কামরুল আশরাফ খান, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, নুরুল ইসলাম সুজন, মাহজাবিন খালেদ ও নাসিমা ফেরদৌসি এবং বিরোধী দলীয় সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

Post a Comment
Facebook Disqus