কাজী রোমান / বার্তা প্রতিবেদক  / ০৬ জুলাই ২০১৬ / দীর্ঘ ৩০ দিন রোজা রাখার পর মুসলমানদের জন্য একটি মহা আনন্দের দিন আসে. সেই দিনটা হলো ঈদের দিন।  ঈদ মুসলমানদের জন্য এমন একটি দিন যেই দিনে সকল মুসলমান হিংসা-বিদ্বেশ ভুলে গরিব্-বড়লোক একত্রিত হয়। ওই দিনে সকল দূরবর্তী আত্মীয়-স্বজন একত্রিত হয়। ঈদ মুসলমানদের জন্য একটি আনন্দদায়ক দিন।  ৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর আমরা ঈদ পাই। 

আমি সাধরাণত ঈদের দিন যা করি ঃ
ঈদের আগের দিন রাতে আমরা সারারাত হাতে মেহেদী লাগাই আবার লাগিয়ে দেই। বাসার সবার সাথে আড্ডা দেই। মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকার পর কারো কারো চোখে ঘুম এসে যায় কিন্তু মেহেদী নষ্ট হওয়ার ভয়ে আর ঘুমানো হয় না। আবার অনেকে হার মেনে নেয় ঘুমের কাছে। ঘুমকেই তারা বেশী আপন করে নেই, আর এই ঘুমের কারণে  তাদের হাতের মেহেদী লেপ্টে যায় মুখে, জামা-কাপড়ে। ঘুমাতে গিয়ে হাতের মেহেদীগুলো লেপ্টে যাওয়ার  মাঝেও তাদের মনে এতোটুকু দুঃখ নেই তাদের মনে, আছে শুধু ঈদের আনন্দ আর হাসি রাশি রাশি। এইভাবেই কেটে যায় পুরো রাত। তারপর সকালবেলা উঠি আমরা। অনেক সকালবেলা উঠার একটাই উদ্দেশ্য কে কার আগে ঈদ মোবারক বলব। এবং অনেক সময় ঘুম থেকে জাগার পরও উঠতাম না কারণ ভয় হতো যদি কেও আগে ঈদ মোবারক বলে ফেলে। এইটার মধ্যে একটা মজা ছিল। যাই হোক এইভাবেই শুরু হতো আমাদের সকাল বেলা । তারপর হাতের মেহেদী ধুয়ে ফেলার পর দেখতাম কার মেহেদী কতো রাঙা হয়েছে। এই নিয়ে ঝগড়াও হয়েছে অনেক সময়, থাক সেসব কথা। এরপরে গোসল করে পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে রওনা হতাম ঈদগাহ ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে । আম্মু কিছু খেয়ে যাওয়ার জন্য বললেও আমি খেতাম না। নামাজ শেষ হওয়ার পর সবাই মিলে কুলাকুলি করি। যাদের আত্মীয় স্বজন দূরে থাকেন তাদের সাথে দেখা হয় এই ঈদ উপলক্ষ্যে। নামাজ শেষ, কুলাকুলি শেষ বাসায় গিয়ে মার হাতের সুঃস্বাধু মজার সেমাই খাই। আমার পছন্দের সেমাই হচ্ছে লাচ্চি সেমাই (বিরা)। সেমাই খাওয়া শেষ হলে পায়জামা-পাঞ্জাবি খুলে নতুন জামা-কাপড় পরে আব্বু-আম্মুকে সালাম করি। তারা খুশি হয়ে আমাকে সালামি দেয়। তারপর শুরু হয় আমার সালামির উদ্দেশ্যে রওনা। সারাদিন দাদা-দাদি, নানা-নানি আরও কাছের আত্মীয়দের বাসায় গিয়ে সালামি নিয়ে আসি। আমার জীবনে সবচেয়ে বেশী সালামি যদি করো থেকে পাই তবে সেটা আমার মা-বাবা আর নানির কাছ থেকে। তাদের কাছে আমি সবচেয়ে বেশি সালামি পেয়েছি। উহ ভুলে গেছি। এখনতো আর আমাকে কেউ সালামি দেয় না। উল্টো আমার থেকে আমার ছোট ভাই বোন নেয়। যাক সেই কথা।
তারপর সালামি তুলা শেষ হলে। ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে বাসায় আসি, খাবার খাই। খাবার খাওয়ার পর আবার জামা-কাপড় পরিবর্তন করে নতুন জামা-কাপড় পড়ি। আবারও বের হই কিন্তু এইবার আর সালামির উদ্দেশ্যে না। এইবার বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর ঘুরাঘুরির জন্য। পুরো দুপুর তাদের সাথে থাকার পর বিকেলে আবার বাসায় আসি। একটু বিশ্রাম নেওয়ার পর ভাই বোন, মামাতো চাচাতো ভাই-বোনকে নিয়ে ঘুরতে বের হই। আসতে আসতে একদম রাত হয়ে যায়। তারপর রাতে সবাই মিলে সারাদিনের অবশিষ্ট টাকা গুনে আম্মুর কাছে জমা দেই। পরে রাতের খাওয়ার পর সারাদিনের ক্লান্ত শরিরটাকে ঢেলে দিই বিছানাতে। তারপর এক সুন্দর ঘুম দেই। এই হলো আমার ঈদ।
আমার ঈদের দিন সবার সাথে ভাগ করলাম । সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। 

                                                         সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিন্দন।
                                                                       ঈদ মোবারক


Post a Comment

Disqus