বার্তা প্রতিবেদক / ০৬ জুলাই ২০১৬ / কাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঈদ উদযাপনে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সামর্থ অনুযায়ী বাহারী খাবারের আয়োজন ও নতুন পোশাক কেনাকাটার পর্বও শেষ। এখন শুধু একটি রাত পোহানোর অপেক্ষা।

ঈদ উৎসবের শুরু হয় মূলত ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে।ঈদের দিন সকালে গোসল করে নতুন জামা পড়ে দল বেধে ঈদগাহে যাওয়া মুসলমানদের ঐতিহ্যের অংশ। বাবার হাত ধরে ছোট্ট শিশু’র ঈদগাহে যাওয়া, আবার ওই শিশু বাবা হয়ে তার সন্তানকে ঈদগাহে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি চর্চা ইসলামের ইতিহাসের শুরু থেকেই চলে আসছে।

ঈদ জামাতের জন্য এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে ঢাকার কেন্দ্রিয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানসহ সারাদেশের সব ঈদগাহ। প্রধান প্রধান ঈদগাহ ছাড়াও পাড়া মহল্লার মসজিদগুলোতেও ঈদ জামাতের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ধনী গরিব, উচু নীচু, ছোট বড় নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শামিল হবেন ঈদ জামাতে। কোলাকুলি করে ভাগাভাগি করে নেবেন ঈদের আনন্দ।

পরিবারের যে যেখানেই থাকুক, ঈদের সময় সবাই এক সঙ্গে মিলিত হওয়া ঈদ ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ। বাবা মা ভাই বোন এক সঙ্গে মিলিত হয়ে আত্বীয় স্বজনের খুব কাছাকাছি থেকে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে এরই মধ্যে কর্মস্থল ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন অধিকাংশ মানুষ। নানা কারণে যারা যেতে পারেননি, তারাও সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন স্বজনদের সঙ্গে।

ঈদের দিন সকালে মিষ্টিমুখের মধ্যদিয়ে শুরু হয়, দিনভর বাহারী খাবার গ্রহণের পালা। সামর্থ অনুযায়ী সব শ্রেনীর মানুষই পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের দিন একটু ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন। আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশি ও পরিচিতজনকে বাসায় আমন্ত্রণ জানিয়ে আপ্যায়ণ করাও ঈদ ঐতিহ্যের অংশ।

গুলশান ট্রাজেডির কারণে এবছর সারাদেশে ঈদ উদযাপন হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে। তারপরও থেমে নেই ঈদ আয়োজন। ঈদ নিয়ে আসুক সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ, সুখ ও সমৃদ্ধি।


Post a Comment

Disqus