বার্তা নিউজ/ ২৮ জুলাই ২০১৬/ বন্দরে অপহরণ নাটক সাজিয়ে তালাক দেয়া স্ত্রী ও স্ত্রীর আত্বিয় স্বজনদের ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যাচ্ছে স্বামী আলমগীর ও তার ভাই বাদশা মিয়া। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ জুলাই বন্দরের হালুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ অপহরণ নাটকের হোতা বাদশা মিয়াকে মোবাইল ট্রকিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ধরে নিয়ে আসে।
জানা গেছে, বন্দরের হালুয়াপাড়া এলাকার মৃত আজগর আলীর ছেলে প্রবাস ফেরত আলমগীর ২০০৯ সালে বন্দরের জাঙ্গাল এলাকার মৃত আক্তার মিয়ার ছেলে সুলতানা আক্তারকে বিয়ে করে। তাদের বর্তমানে সামিয়া নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের ৪ বছর পূর্বে সে পুনরায় দেশে এসে স্ত্রী সুলতানাকে তালাক দিয়ে আবার বিদেশে চলে যায়। কয়েক মাস পূর্বে সে বিদেশ থেকে ফিরে এলে স্ত্রী সুলতানাকে পুনরায় নেয়ার আশ্বাস দিয়ে দেহভোগ করে। এতে সে অন্তসত্তা হয়ে গেলে ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এ দিকে সে অন্যত্র বিয়ে করার ব্যবস্থা করে। এ ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে স্ত্রী সুলতানা তাকে পুনরায় নেয়ার জন্য চাপ দিলে গত ২৩ জুলাই তার বড় ভাই বাদশা মিয়াকে বাড়ি থেকে সরিয়ে রেখে স্ত্রী সুলতানা, তার মা শান্তি আক্তার, আত্বিয় আবু তাহের ও রুবেলকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্তু করতে গিয়ে জানতে পারে বিষয়টি অপহরণ নাটক। পরে পুলিশ মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণ নাটকের হোতা বাদশাকে ঢাকা থেকে ধরে আনে। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের অনুরোধে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাবাদ করে ছেড়ে দেয়।
এ ব্যপারে সুলতানা বেগম জানান, তার সন্তানের দিকে চেয়ে সে আলমগীরের কথায় ও পরোচনায় রাজি হয়েছিল পুনরায় তার কাছে যেতে। কিন্তু সে প্রতারনা করবে জানা ছিলনা। সে তাদের মিথ্যা মামলায় হয়রানী করার চেষ্টা করেছে। তিনি এর বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপার ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহাম্মেদ জানান, বাদশা তার বাড়ির পাশের লোক সে অপহরণ হয়নি। পরিবারের সাথে ঝগড়া করে নিজ ইচ্ছায় দুরে সরেছিল। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সালিশ করে সমাধান করা হবে।
এ ব্যপারে অপহরণ নাটকের হোতা বাদশা মিয়ার কাছে জানতে চাইলে সে জানান, তিনি অপহরণ হয়নি। সেচ্ছায় বাড়ির বাইরে ছিলেন। থানায় কেন অপহরণের অভিযোগ দেয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
এ ব্যপারে কামতাল তদন্ত্রকেন্দ্রর ইনচার্জ দারোগা আহসান জানান, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য অপহরণ নাটক সাজানো হয়েছে। আমি সাথে সাথে মোবাইল ট্রার্কিয়ের মাধ্যমে অপহৃতের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে কৌশলে ধরে আনি। তবে এ নাটকে অভিযুক্তদের কোন প্রকার হয়রানী করা হয়নি। অপহরণ বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ সাঁজানো নাটক।

Post a Comment
Facebook Disqus