শিক্ষার্থীদের কথা কেউ ভাবছে না, লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা


ষ্টাফ রিপোর্টার / বর্তমান বার্তা /চট্টগ্রাম/ ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫: চলমান অবরোধের সঙ্গে হরতাল যোগ হওয়ায় দুই ফেব্রুয়ারির এসএসসি পরীক্ষা দু’দিন পিছিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু হরতালের সময় বেড়ে যাওয়াতে বুধবারও শুরু হয়নি পরীক্ষা। বারবার পরীক্ষা পেছানোর কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনে জন্ম নিয়েছে চরম হতাশা। শিক্ষার্থীদের মত হতাশ তাদের অভিভাবকরা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরাও। 


শিক্ষক-অভিভাবকরা বলছেন, পরীক্ষা নিয়ে চরম হতাশায় কোমলমতী শিক্ষার্থীরা। ফলে প্রস্তুতি নিয়েও ভাল ফলাফলের আশা করা যাচ্ছে না। 



দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি স্বাধীন দেশে এই ধরণের পরিস্থিতি দুঃখজনক, অনাকাঙ্খিত এবং অপভিপ্রেত। কেউই সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা পর্যন্ত ভাবছেন না। লক্ষ্য কেবল ক্ষমতায় যাওয়া অথবা থাকা।



তাদের মতে, দুই পক্ষ জনগণের কথা বললেও মূলত ক্ষমতার রশি টানাটানিতে পিষ্ট জনগণ এখন অসহায়। 



চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবুল হক বাংলানিউজকে বলেন, একটি দেশের অগ্রগতি নির্ভর করে শান্তিময় জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশের মাধ্যমে। আর এজন্য সু্ষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ দরকার। 



তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা চিন্তা করবেন। তাদের আন্দোলন সংগ্রাম নানা পন্থায় হবে এটা আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু নাশকতা করে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা মেনে নেওয়া যায় না। 



নাশকতার নামে বর্তমানে যে বিভৎস মরণ খেলা শুরু হয়েছে তা দেখে একাত্তোরের কথা মনে পড়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘তখনও বড় সংকটে ছিলাম, যদিও তা সৃষ্ট সংকট। এখনও সৃষ্ট সংকট তৈরি হয়েছে।’ 



যারা গণতন্ত্র ভালবাসে, দেশের অগ্রগতি চায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে চান তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে।



নাশকতার বিরুদ্ধেও ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার উপরে দেশ ও দেশের মানুষ। দেশ এগিয়ে গেলেই বিশ্ব দরবারে আমাদের অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। 



দুই দলের ক্ষমতায় যাওয়ার রশি টানাটানিতে দেশের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ আনোয়ারা আলম বাংলানিউজকে বলেন, দুই দলেরই দেশপ্রেম নেই। কেবল ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। জনগণের জন্য কারো দরদ নেই। 



নাশকতা বন্ধে সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের নামে একদল নাশকতা চালাচ্ছে। আর সরকার ঠেকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। 



১৯৯১ পর থেকে কোন বিরোধী দলই সংসদে ভূমিকা রাখতে পারেনি অভিযোগ করে তিনি বলেন, জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্যই তাদের ভোট দেন। কিন্তু তারা যথাযথ ভূমিকা রাখেন না। 



মনোবল হারাচ্ছে পরীক্ষার্থীরা: 
এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী আয়শা আক্তার শেফা। বার বার পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার কারণে মনোবল হারাচ্ছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। 



শেফার মা জেসমিন আকতার বাংলানিউজকে বলেন, আমার মেয়ে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রথমদিনের পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় পরের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু সেটিও পিছিয়ে যায়। ফলে এখন আর পড়তেই চাচ্ছে না। 



বার বার পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার কারণে পড়ার ইচ্ছে থাকছে না। 



নিরাপত্তাহীনতায় ক্লাস বন্ধ: 
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানি স্কুল এন্ড কলেজ। ভালো ফলাফল এবং শিক্ষার মানের কারণে সন্তানদের পড়ানোর আগ্রহ সচেতন অভিভাবকদের। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানেই এখন নিয়মিত ক্লাস নিতে পারছেন না। 



কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, সব পাবলিক পরীক্ষার আগে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শতভাগ পাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের প্রস্তুতির খোঁজ খবর রাখা হয়। কিন্তু এবার এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছি না। 



গত বছরও এ প্রতিষ্ঠানটি সেরা প্রতিষ্ঠানের একটি নির্বাচিত হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এখন নিয়মিত ক্লাসও নিতে পারছি না। কারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না। 



উভয় পক্ষকে বসে এ পরিস্থিতির সমাধান করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, এভাবে মানুষ মরছে, তারপরও তারা বসে সমাধান করছে না কেন। তারা এভাবে প্রজন্মকে ধ্বংস করতে পারে না।
 


Post a Comment

Disqus