দীপক সূত্রধর / বর্তমান বার্তা / ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫: সোনারগাঁয়ে গৃহকর্র্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাখে পাঞ্জা লড়ছে মর্জিনা নামের এক গৃহপরিচারিকা। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে পালিয়ে যাওয়ার সময় মর্জিনা সিএনজি অটোরিক্সার ধাক্কায় মারাক্তক আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহপরিচারিকা মর্জিনা জানায়, উপজেলার সাহাপুর কাটপট্টি এলাকায় মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে মুকুল মিয়ার বাড়িতে গত দুই সপ্তাহ আগে সে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয়। কাজ নেওয়ার পর মুুুকুলের স্ত্রী ও মোগরাপাড়া এলাকার মৃত নুরা বেপারীর মেয়ে শশী বেগম প্রথম দু’দিন কোন নির্যাতন করেনি। কাজ নেওয়ার দুইদিন পর থেকেই তার উপর কারনে অকারনে নির্যাতন করতে থাকে। প্রতিদিনই তার উপর চলতো অমানুষিক নির্যাতন। মর্জিনাকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা, রুটি তৈরির বেলুন দিয়ে পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করত। তাছাড়া তার শরীরে গরম পানি ঢেলে দিয়ে নির্যাতন করত বলেও অভিযোগ উঠে।
জানা যায়, বাড়িতে সে ছাড়াও হাসনা বানু নামের আরো একজন গৃহপরিচারিকা তার সাথে কাজ করত। গৃহকর্মীকেও নির্যাতন করত গৃহকর্ত্রী। গত সোমবার রাতে মর্জিনাকে অনেকগুলো কাপড় ইস্ত্রি করতে দেয় শশী বেগম পরে মর্জিনা জানায় সে কাপড় ইস্ত্রি করতে জানে না। এ কথা শুনে শশী বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে তাকে রুটি তৈরির বেলুন দিয়ে বেধড়ক পেটায়। নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে মর্জিনা ও হাসনা বানু বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে পালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তায় গৃহকর্ত্রী শশী তাকে দেখতে পায়। এসময় শশী বেগমকে দেখে মর্জিনা ও হাসনা বানু দৌড় দেয়। তখনই চলন্ত সিএনজি মর্জিনাকে ধাক্কা দিলে সে মারাক্তকভাবে আহত হয়। পরে স্থানীয় দুই রিক্সা চালক মর্জিনাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
মর্জিনা জানায়, আব্দুল করিম নামের এক ব্যাক্তি কাজের লোকের যোগান দেয়। তার মাধ্যমেই সে এ বাড়িতে কাজ নিয়েছিল। মর্জিনা ময়মনসিংহের সুনামগঞ্জ মদিনা নগর এালকার রামপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। তার বাবা একজন দিনমুজুর। ৫ ভাইবোনের মধ্যে মর্জিনা তৃতীয়। অভাবের কারনে সে গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছে বলে জানায়।  
এ বিষয়ে শশী বেগম বলেন, আমি মর্জিনাকে নির্যাতন করিনি। মর্জিনা মিথ্যা বলেছে। সে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে রাস্তা থেকে ধরে সিএনজিযোগে নিয়ে আসার সময় আমার হাতে কাঁমড় দিয়ে সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়। পরে তাকে আমার লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। 
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক দেবব্রত দাস জানান, মর্জিনার ডান পায়ে, বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য কয়েকটি পরীক্ষা-নিরিক্ষা দেওয়া হয়েছে। 
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঁঞা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মর্জিনার সাথে দেখা করে বিস্তারিত জেনে নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  
সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনা আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 




Post a Comment

Disqus