সেদিন বিকেলের দিকে এলাকার গলি দিয়ে হাটতেছিলাম...কিছু দূর হাটার পর নিতু আপাদের বাসার দেয়ালে কিম্ভূতকিমাকার ‘অদ্ভূত’ এক ভূতের ছবি সাটানো দেখলাম ।
তেলরঙে আঁকা ছবি খানা অন্ধকার রাতে লাইটপোষ্টের অলোয় দেখলে আমার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যেত নির্ঘাত । ভাগ্যিস সেদিন দিনের বেলায় দেখছিলাম ছবিটা । কিন্তু এত জায়গা থাকতে ছবিটা নিতু আপাদের দেয়ালে কেন বুঝলাম না । ছবির মর্মার্থ উদ্ধার করতে করতে নিতু আপাকে ফোন করলাম,
নিতু আপাঃ হ্যালো
আমিঃ নিতু আপা তোমাদের দেয়াল তো ভূতে পাহাড়া দিতেছে ! এত ভয়ংকর ভূত ম্যানেজ করলা কিভা......
নিতু আপাঃ বাসায় আয় এক্ষুণি...
( এত শীতল গলায় নিতু আপা কথা বলে না । কাহিনী রহস্যময় ! )
আমিঃ উখে আসতেছি !
রুমে গিয়ে দেখি নিতু আপা সোফায় গম্ভীর হয়ে বসে আছে । আমি বসতেই সে বললো ফোনে কি বলতেছিলি বল !
আমিঃ বলতেছিলাম যে তোমাদের দেয়াল তো ভূতে পাহাড়া দিতেছে ! কিন্তু এত ভয়ংকর ভূত কই পাইলা ? এই জিনিস তো ভূতোফেমের রাসেল ভাইয়ের কালেকশনেও নাই !
নিতু আপাঃ আচ্ছা আগে একটা বিষয় ক্লিয়ার কর । যে ছবিটা দেখলি ঐটা কি ছেলে ভূত না মেয়ে ভূত ?
আমিঃ উমমমম লম্বা চুল ছিলো ছবিতে !
নিতু আপাঃ গুড । তাহলে ওটা কি ভূত না পেত্নী ?
আমিঃ ওহ তাই তো ! পেত্নী ছিলো ঐটা :D
নিতু আপাঃ ভেরি গুড । পেত্নীর কপালে টিপ ছিল ?
আমিঃ হুমম হুমম ছিলো ছিলো...লাল রঙের একটা টিপ !
নিতু আপাঃ হুমমম... পেত্নীর চিবুকের ডান দিকে তিল ছিলো ?
আমিঃ ইয়ে...ছিলো !
নিতু আপাঃ বেশ । এইবার আমার চুলের দিকে তাকা । আমার চুল বড় না ছোট ?
আমিঃ বড় ।
নিতু আপাঃ আমি কোন রঙের টিপ বেশি পড়ি ?
আমিঃ লা...লা...লাল :-/
নিতু আপাঃ আমার চিবুকের কোন দিকে তিল আছে ?
আমিঃ ইয়ে মানে ডান দিকে !
নিতু আপাঃ তারমানে দেয়ালের ঐ ছবিটা কার ?
আমিঃ তোমার !
নিতু আপাঃ নাকি পেত্নীর ?
আমিঃ যাহ্ ! কি বলো এইসব ! আমি বুঝি নাই ঐটা তোমার ছবি । কিন্তু এইকাজ কে করলো কোন হারামজাদা ? একবার নাম বলো...তারপর দেখ ঘুসায়ে আমি কেমনে ওর নাকের বারান্দা ছুটায় দেই !
নিতু আপা আমার হাতে একটা চিরকুট দিলো । তাতে লেখাঃ
প্রিয়তমা নিতুলিসা,
আমার প্রথম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রকর্ম তোমাকে উৎসর্গ করলাম । মোনালিসার আদলে তোমাকে আঁকলাম । আজ থেকে তুমি আমার নিতুলিসা ।
ইতি
তোমার লিওনার্দো দ্যা বল্টু
চিরকুটের লেখা পড়ে আপার দিকে তাকাতেই আপা ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “কিরে ! এই ছবির আর্টিস্টের নাকের বারান্দায় কি যেন করবি বললি ?”
আমি আর কোন কথা না বলে মাথা নিচু করে পিরিজে রাখা কসমস বিস্কুট কসমস করে চাবাতে চাবাতে নিতু আপাদের বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম !
বহুবিধ প্রতিভাধর বল্টু ভাই চিত্রশিল্পেরও বারটা বাজানো শুরু করছেন ! বড় কোন অঘটন ঘটানোর আগে তাকে থামাতে হবে । তাই একবার তার সাক্ষাৎ পাওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠলো । তো সন্ধ্যায় গেলাম ভাইয়ের বাসায়...
ভাই তার রুমটাকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হইছে অলরেডি ! যতভাবে ক্যনভাস, রঙ, তুলি, পেন্সিল, কালির অপচয় করা সম্ভব ভাই তা সবই করছে । আমি ভাইয়ের রুমে ঢুকতেই ভাই আনন্দে লাফায় উঠে বললো, “ছোট ভাই খুব ভালো করছো আইসা । মাথায় যুগান্তকারী আইডিয়া আসছে । কিন্তু মডেল পাইতেছিলাম না । এক মিনিট বসো ।”
আমার কলিজায় কামড় মাইরা উঠলো ! ভাই আমার ছবি আঁকেতে বসবে না তো ! নিতু আপার মত অনিন্দ সুন্দরীকে সে যখন পেত্নী বানাইতে পারছে তাইলে আমারে সে কি বানাবে আল্লাহ মালুম !
এই চিন্তা করতে করতেই ভাই আমার হাতে মেরেন্ডার বোতল ধরাইয়া দিয়া রকিং চেয়ারে বসাইয়া দিলো ! বললো, “ছোট ভাই দোলো আর মেরেন্ডা খাও । আমি তোমার ছবি আঁকি । সময় বেশি লাগবে না । আজকে রাতের মধ্যে হয়ে যাবে ।”
আমার মাথার মধ্যে তখন একটা ভাবনাই আসতেছিলো......দৌড় !
কিন্তু তা করা গেল না । বললাম ভাই টয়লেট যাবো... এমারজেন্সি !
বড় ভাই বললো আমারটায় যাও । ছবি আঁকার মধ্যে আর উঠতে পারবা না । কাজ সাইরা আসো ।
আমি বললাম না ভাই বড়টা পাইছে আমি আমার বাসায় গিয়া করে আসি । অন্যের টয়লেটে আবার আমার ইয়ে বের হয় না ।
ভাই যাওয়ার অনুমতি দিলেন ।
আমি মেরেন্ডার বোতল হাতে নিয়ে প্রথমে ভাইয়ের রুম তারপর এলাকে ছেড়েই অন্য জায়গায় চলে আসলাম !
তার আধাঘন্টা পরে ভাইয়ের ফোন-
ছোট ভাই কই তুমি ?
-ভাই আমি টয়লেটে ।
মোবাইল নিয়া গেছ ?
– ইয়ে মানে জ্বি ভাই !
টয়লেটে কি করো এখনো ?
- ভাই হাগু বের হয় না ।
ছোট ভাই ক্যোঁৎ দাও জোড়ে জোড়ে ক্যোঁৎ দাও......বের হবে ।
- জ্বি ভাই দিতেছি !
আর বের না হইলে ছাইড়া দাও । ক্যোঁৎ দেয়া বন্ধ কর । আমি ইসুফগুলের ভুসি আনাইতেছি । ছবি আঁকার পরে খাওয়ায় দেব তোমার পেট ক্লিয়ার হইয়া যাবে ।
- আচ্ছা ভাই......আসতেছি !
সব সময় আসি বললেই আসা হয় না । কখনো কখনো এই আসিটাই ফাসির মত হয়ে যায় ! আর আমি তখন ফাসতে আগ্রহী ছিলাম না !
কাজেই এরপর ক্যোঁৎ দেয়া বন্ধ না হলেও আমার ফোন এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে গেলো !!
রিয়াজ রহমান
Post a Comment
Facebook Disqus