
আকাশ /বর্তমানবার্তা ডট কম / ৪ মার্চ২০১৫/ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করতে উনিশ বছর আগের পাস হওয়া বিলে সম্মতি দিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন খাদ্যাভ্যাসের রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়, বরং এটি ব্যক্তির উপরই ছেড়ে দেয়া উচিত। খবর বিবিসি।
মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় আছে যে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ও শিবসেনার জোট, তারা গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও রাজ্যের গোমাংস ব্যবসায়ী সমিতি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতে ২২ শতাংশ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের।
ভারতে এই বিষয়টি কেন ইস্যু হয়ে এলো এমন প্রশ্নের জবাবে কোলকাতার সমাজবিজ্ঞানী ড: রণবির সমাদ্দার বিবিসিকে বলে এটা ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসও বটে আবার সম্প্রদায়ের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “ভারতে শুধু মুসলমানরাই গরুর মাংস খান তা নয়। অনেক মুসলমান গরুর মাংস খাননা। অনেক অমুসলিম সম্প্রদায় যেমন কেরালায় এলভাসরা গো-মাংস খান। উত্তর-পূর্বে খ্রিস্টান কিছু ধর্মাবলম্বী গোমাংস খান।“ তিনি বলেন এসব বিষয়ে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। যতদূর সম্ভব ব্যক্তির পছন্দের উপর ছেড়ে দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
মি. সমাদ্দার বলেন ষাটের দশকে সাধু সন্তরা গো-মাংস বন্ধ করতে আন্দোলন করেছিলো কিন্তু পরে তা কমে এসেছে। এখন আবার হিন্দুত্ববাদী সরকার থাকায় হয়তো সেটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। “বিজেপি সরকার এসেছে। হিন্দু ধর্মের বিষয়টি তাই হয়তো গুরুত্ব পাচ্ছে। তাছাড়া গো-মাংস নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে। তবে কেউ মনে করেন কৃষিকাজের জন্য দরকার বলে গোহত্যা বন্ধ করা উচিত। আবার কেউ মনে করেন কোন বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়”।
Post a Comment
Facebook Disqus