বর্তমান বার্তা ডট কম /  ধর্ম/ ২৭ মার্চ  ২০১৫  / উত্তমকাজ দলভুক্ত হয়ে আদায় করতে হয়। এটা আল্লাহর নির্দেশ। এরশাদ হচ্ছে, ‘এবংতোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত আদায় করো আর রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সূরা বাকারা : ৪৩)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘তোমরামোমিনদের সঙ্গে তাদের উত্তম কর্মগুলো সম্পাদনের ক্ষেত্রে তাদের দলভুক্তহও।
আর উত্তম কর্মগুলোর মধ্যে পরিপূর্ণ ও বিশেষ গুরুত্ববহ কর্ম হলো নামাজ।তাই জামাতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় অনেকআলেম তো বলেছেন, ‘জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা ফরজ।’ অবশ্য আয়াতটিমহিলাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ইবনে কাইয়ুম (রহ.) কিতাবুসসালাতের ১১৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেনযদি বলা হয়জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়করা হলো পুরুষের ওপর ফরজতবে নারীদের এ ব্যাপারে কী করণীয়এ সম্পর্কেআমরা মহান রাব্বুল আলামিনের বাণী লক্ষ্য করলে দেখতে পাই, ‘হে মরিয়ম! তোমারপ্রভুর ইবাদত করোসেজদা করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সূরা আলেইমরান : ৪৩)। এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মরিয়মকে রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করারআদেশ প্রদান করেছেনতাহলে এতে প্রতীয়মান হয়মহিলাদেরও মসজিদে এসেজামাতবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। অথচ মহিলাদের ওপর তো মাসজিদে এসেজামাতে শরিক হয়ে নামাজ পড়া ফরজ নয়?
এর উত্তরে বলা হয়েছেউল্লিখিত আয়াত সব মহিলাকে লক্ষ্য করে বলা হয়নিশুধু মরিয়মকেই আদেশ প্রদানকরা হয়েছে। কেননা মরিয়মের মা মরিয়মকে আল্লাহ ও তাঁর ইবাদত এবং মসজিদেরসঙ্গে সর্বদা সম্পৃক্ত থাকার জন্য মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তাই তিনি কোনো সময়ইতা থেকে দূরে থাকতেন না। তাই তাকে মসজিদে অন্য রুকুকারীদের সঙ্গে রুকুকরতে আদেশ করা হয়েছে।
জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করাই হলোদ্বীনের উদ্দেশ্য ও ইসলামের প্রতীক এবং মুসলিম জাতির বাহ্যিকরূপ। আল্লাহরঘরকে আবাদ রাখতে হবে। যারা মসজিদ আবাদ করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালাঈমানের সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তারা ওইসব লোকের দলভুক্ত যাদের আল্লাহ তায়ালাহক ও সঠিক পথের দিকে হেদায়েত করেছেন। এরশাদ হচ্ছে, ‘নিঃসন্দেহে তারাইআল্লাহর মসজিদ আবাদ করেযারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতিএবং কায়েম করে নামাজ ও আদায় করে জাকাতআর আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় করে না।অতএব আশা করা যায়তারা হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সূরা তওবা :১৮)।
এরশাদ হচ্ছে, ‘আল্লাহ যেসব গৃহকে মর্যাদায় উন্নীত করারএবং সেগুলোতে তাঁর নাম উচ্চারণ করার আদেশ দিয়েছেনসেখানে সকাল ও সন্ধ্যায়তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেএমন লোক যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ওক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকেনামাজ কায়েম করা থেকে এবং জাকাত প্রদানকরা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকেযে দিন অন্তর ও দৃষ্টিগুলোউল্টে যাবে। তারা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করেযাতে আল্লাহ তাদের উৎকৃষ্টতরকাজের প্রতিদান দেন এবং নিজ অনুগ্রহ আরও অধিক দেনআল্লাহ যাকে ইচ্ছাঅপরিমিত রিজিক দান করেন।’ (সূরা নূর : ৩৬-৩৮)।
এমনকিযুদ্ধাবস্থায়ও জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করার কথা বলা হয়েছে। এতেই জামাতেনামাজ আদায় করার সীমাহীন গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। এরশাদ হচ্ছে, ‘যখন আপনি তাদেরমধ্যে থাকেনঅতঃপর নামাজে দাঁড়ান,তখন যেন একদল আপনার সঙ্গে দাঁড়ায় এবংতারা যেন স্বীয় অস্ত্র সঙ্গে নেয়। অতঃপর যখন তারা সেজদা সম্পন্ন করেতখনআপনার কাছে থেকে যেন সরে যায় এবং অন্য দল যেন আসেযারা নামাজ পড়েনি,অতঃপরতারা যেন আপনার সঙ্গে নামাজ পড়ে এবং আত্মরক্ষার হাতিয়ার সঙ্গে নেয়।’ (সূরানিসা : ১০২)।
একদা এক অন্ধ সাহাবি রাসূল (সা.) এর কাছে এসেজামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় না করার অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেনআমার বাড়িবহুদূরে এবং আমাকে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কেউ নেই। তাছাড়া রাস্তায় রয়েছেপোকামাকড় ও আক্রমণাত্মক প্রাণীআরও অন্য কারণ। রাসূল (সা.) তাঁকে বললেনতুমি কি আজান শুনতে পাও। তিনি বললেনহ্যাঁ! আমি আজান শুনতে পাই। রাসূল (সা.) তাঁকে বললেনতবে তুমি তাতে সাড়া দাও। অর্থাৎ তুমি জামাতে এসোনামাজআদায় করো। অন্য বর্ণনায় এসেছেরাসূল (সা.) তাঁকে বললেন,আমি তাঁর জন্যকোনো অনুমতি দেখতে পাই না। আরেক বর্ণনায় এসেছে২৫ গুণ সোয়াব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জামাতে নামাজ পড়া একাকী নামাজ পড়ার চেয়ে ২৭ গুণ সোয়াববেশি।’ (বোখারি ও মুসলিম)।
অন্য এক হাদিসে এরশাদ হচ্ছে, ‘যেব্যক্তি আজান শুনে বিনা কারণে মসজিদে আসবে নাতার কোনো নামাজ হবে না।’ (ইবনে মাজাদারে কুতনি)। রাসূল (সা.) আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই মোনাফেকদের ওপরসবচেয়ে কঠিন হলো ফজর ও এশার নামাজ। মানুষ যদি জানত এ দুই নামাজের মধ্যে কীমর্যাদা রয়েছেতবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে আসত। আমার ইচ্ছা হয়আমি নামাজকায়েম করার আদেশ দিইঅতঃপর একজনকে নামাজের ইমামতি করার আদেশ প্রদান করি।অতঃপর লাকড়ি বা খড়ি বহনকারী একদল লোক নিয়ে যারা নামাজে আসে না তাদেরবাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করে দিই।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

Post a Comment

Disqus