![]() |
| সোনারগাঁয়ে অবরোধ ও হরতালের কারনে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি |
আশরাফুল আলম/বর্তমান বার্তা ডট কম/ ০৫ মার্চ ২০১৫ / ২০ দলের টানা অবরোধ ও হরতালকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ উপজেলার সর্বত্র নিত্যপণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ক্রেতা সাধারন। দীর্ঘ ৫৯ দিনের টানা অবরোধের কারনে ব্যবসায় স্থবিরতা পাশাপাশি সাধারন মানুষের মাঝে প্রায় সকল ক্ষে
ত্রে দেখা দিয়েছে হতাশা ও অচলাবস্থা।বিখ্যাত পর্যটন নগরী সোনারগাঁয়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে প্রায় শূন্যতা বিরাজ করছে। অপর দিকে অবরোধের কারনে নাশকতার আশংকায় ভয়ে পরিবহন মালিকরা তাদের যানবাহন রাস্তায় নামাতে পারছেনা । যেকোন সময় নাশকতার আশংকায় পরিবহন শ্রমিকদের জীবনের সাথে মূল্যবান যানবাহনও হারাতে পারে বলে এ আশংকায় অনেক পরিবহন মালিকরা তাদের যাত্রীবাহি বাস পণ্য পরিবহন ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন বসিয়ে রেখে ব্যাংকের কিস্তি ঋনের সুদের টাকা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। এর মধ্যে কোন কোন পরিবহন মালিক শ্রমিক হরতাল অবরোধ উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ভাড়ায় আদায় করে পণ্য আনা নেয়ার কাজে যানবাহন চলাচল করছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন চালু থাকলেও পরিবহন সংকটের কারনে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেনা। চলতি মৌসুমে বাজারে কাঁচা তরকারী ও নানা রকম সবজির এবং নিত্য পণ্যের প্রচুর সরবরাহ থাকার কথা থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পরিবহন সংকট দেখিয়ে সরবরাহ কম থাকায় বিক্রয় মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করে চলছে। যা ইতিমধ্যে সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে। সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন হাট-বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ৩০ টাকার পিয়াজ ৪৩ টাকা, ৭০ টাকার রসুন ১২০ টাকা, ১০০ টাকার আদা ১৫০ টাকা,৩২০ টাকার গরুর মাংস ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঠিক একই ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে চাল-ডাল, গরম মসলা, তেলসহ সকল পণ্যের দাম। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলা থেকে পণ্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে পরিবহন খরচ যা ছিল তা এখন ৫গুন বেশি হারে ভাড়া নিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা । স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী আকবর জানান তার পরও পণ্যের যথেষ্ট সরবরাহ না থাকায় এবং পরিবহন সংকটের কারনেও ভাড়া কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে। হরতাল ,অবরোধের কারনে উপজেলা সদরের প্রায় পাঁচ শতাধিক মটর শ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়ে নিদারুন কষ্টের মাঝে রয়েছে। পরিবারের অভাব অনটনের কারনে কোন কোন পরিবহন শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস ট্রাক নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছে। মেঘনা এলাকার একজন ট্রাক মালিক জানান,গাড়ীতে আগুন দেওয়ার ভয়ে নাশকতার ভয়ে ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখায় একদিকে ব্যাংক ঋনের কিস্তি দিতে সমস্যা হচ্ছে এবং সুদ বেড়েই চলছে। তাছাড়া গাড়ী অলস পড়ে থাকায় ব্যাটারীসহ গাড়ীর অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবীতে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান ।

Post a Comment
Facebook Disqus