বর্তমান বার্তা ডট কম / ০৩ এপ্রিল ২০১৫ /  একসময়ে আমাদের দেশে কান চুলকানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল মুরগি বা কবুতরের পালক। একদিকে এই সামগ্রীটির সহজলভ্যতা, অন্যদিকে কটনবাড তেমন পরিচিত না হওয়ায় এটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো।
বর্তমানে কটনবাড ছাড়াও লোহার তৈরি কান খুচুনি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এগুলো হাতের নাগালে না পাওয়া গেলে ক্লিপ, আলপিন, দিয়াশলাইয়ের কাঠি এমনকি চশমার ডাঁট দিয়েও অনেককে কাজ চালাতে দেখা যায়। কনিষ্ঠ আঙুল তো আছেই। অফিসে হয়তো ভদ্রতা দেখিয়ে অনেকে বিরত থাকেন, বাসায় অনেককেই ভিন্নরূপে দেখা যায়।
কান যেভাবে চুলকায়, তাতে কতক্ষণ আর টেকা যায়? এগুলোর কোনটা নিরাপদ? এককথায় জবাব হলো কোনোটাই নিরাপদ নয়। প্রতিটিই ক্ষতিকর। এমনকি যে কটনবাড বেশ দাম দিয়ে ওষুধের দোকান থেকে কিনতে হয়, সেটাও নিরাপদ নয়, এটাকে যতই জীবাণুমুক্ত ও আধুনিক মনে করা হোক না কেন। এগুলো কানে নানা ধরনের নতুন সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের এককথা : কানে এমন এক ব্যবস্থা আছে যার ফলে কানে কিছু গেলে বা ময়লা জমলে সেটা নিজেই বের করে দেয়। তাদের মতে, খাবার গ্রহণ বা কথাবার্তার সময় মুখ যে নাড়াচাড়া করে, তার ফলেই ময়লা বের হওয়ার প্রয়োজনীয় গতি এনে দেয়। অন্য কিছু দিয়ে সেটা বের করার প্রয়োজন নেই। কটনবাড এবং অন্য কিছু কানে ঢোকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ময়লা বের হওয়ার কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি হয়। ময়লা আবার ভেতরে ঢুকে নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া মুরগির পালক, পিন ইত্যাদির মাধ্যমে কানে জীবাণু ঢুকতে পারে বা ইনফেকশন হতে পারে।
ছত্রাক বা অন্য কিছুর আক্রমণে মাত্রাতিরিক্ত চুলকালে তখন আপনাকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করতে পারবেন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ। তাদের সহায়তা নেয়াই হবে সবচেয়ে ভালো কাজ।
সবচেয়ে বড় কথা, কটনবাডই হোক, আর মুরগির পালকই হোক, কিছুই আপনার কানে ঢোকাবেন না।

Post a Comment

Disqus