বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৯ এপ্রিল ২০১৫ /নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস ৪০০ বছরের পুরনো। বাংলা নববর্ষের ইতিহাস সৃষ্টিশীলতার ইতিহাস। বিভিন্ন সময় এই উৎসবে যোগ হয়েছে নতুন নতুন মাত্রা, নতুন নতুন আয়োজন। সময়ের পক্রিমায় পুরানো আয়োজন, রীতিনীতি পাল্টে নানা ধরনের উৎসব এসেছে। যোগ হয়েছে নিত্য নতুন মাত্রা। নববর্ষ উৎসবের শুরুর দিকে হালখাতা, পুণ্যাহ এইসব আয়োজন ছিলো। পরবর্তীতে যোগ হয় বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গানের মাধ্যমে নতুন বছর বরণসহ আরো নানা ধরনের আয়োজন। ব্যস্ত প্রবাস জীবনেও বর্ষবরণে এসেছে নানা সৃষ্টিশীল আয়োজন। এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সৃজনশীল মাত্রা নিয়ে আসে উত্তর আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মন্ট্রিয়ল। গত ১৯ এপ্রিল ৪১৯ সেন্টরকে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর এবং বর্ণিল। ৪১৯ সেন্ট রকে যেন সেদিন উপস্থিত ছিল চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা, রমনার বটমূলের ছায়ানটের সঙ্গীত পরিবেশনা আর আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। আর এসব আয়োজন তখনই পূর্ণতা পায় যখন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মন্ট্রিয়ল এর এই আয়োজনে এতই লোকসমাগম হয়েছিল যে আয়োজকদের রীতিমত হিমশিম খেতে হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি। বাঙালি সাজে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রসহকারে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি এমনই উৎসবমুখর ছিলো, মনে হচ্ছিল সেন্টরক যেন শাহবাগ মোড়। স্লোগান দিয়ে, নেচে, গান গেয়ে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা ভাগাভাগি করে নেন আনন্দগুলো। হাজার হাজার মাইল দূরেও মন্ট্রিয়লের বাঙালিরা বাংলা সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে। তারা চেষ্টা করেন বিশ্ববাসীর সামনে বাঙালির সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে। আর তাই তো পার্ক এক্স এর কাউন্সিলর ম্যারি ডরেস শোভাযাত্রায় বাঙালি রমণীর মতো শাড়ী পড়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। বিপুল করতালিতে বাঙালিরা তাকে বরণ করে নেন। সেসাথে প্রথমবারের মতো লম্বা ঝাঁকড়া চুলের একতারা হাতে বাউলকে মাস্কট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। দর্শকদেরকে মানব এ মাস্কটের সাথে ছবি তুলতে দেখা যায়। শোভাযাত্রার পর সরগম মিউজিক একাডেমীর প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীর বৈশাখী আবাহন সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় মূল মঞ্চের অনুষ্ঠান। মূল মঞ্চে রমনার বট গাছ না থাকলেও ছিলো শিল্পীর দৃষ্টিনন্দন তুলির আঁচড়। চিত্রশিল্পী আরিফুর রহমানের হাতে তৈরি মঞ্চটি ভিন্ন মাত্রা নিয়ে আসে বর্ষবরণে। মিলনায়নতনের প্রাঙ্গনে পাশাপাশি জমে উঠে বৈশাখী মেলা। বাহারি সাজে সজ্জিত স্টলগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। বর্ষবরণে বৈশাখী ভোজ হবে না তা কি হয়! হরেক রকম দেশীয় খাবারে আপ্যায়িত হন সবাই। সাথে ছিল নানা পদের মিষ্টি এবং পিঠা। নাজনীন নিশা ও জাকিয়া জান্নাত রিতার সাবলীল উপস্থাপনায় বৈশাখী কবিতা আবৃত্তি করেন তৌফিকুর রহমান রাঙা এবং নৃত্য পরিবেশন করেন ন্যান্সি মাহমুদ ও সামিয়া আমান। লোপামুদ্রা সরকার ও কলামন্দির নৃত্যাঙ্গনের বিশেষ বৈশাখী পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকরা উপভোগ করেন। নিরাশ করেননি অটোয়া থেকে আমন্ত্রিত শিল্পী ডালিয়া ইয়াসমীন এবং উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় শিল্পী ফারহানা শান্তা। বৈশাখী গান, লোক এবং পুরনো গান গেয়ে মাতিয়ে তুলেন দর্শকদের। বাড়তি হিসেবে ছিল বৈশাখী র‌্যাফেল ড্র। আর র‌্যাফেল ড্র এর প্রথম পুরষ্কার ছিলো মন্ট্রিয়ল-ফ্লোরিডার এয়ার টিকেট। আর এ পুরষ্কারটি জিতে নেন সায়রা আকতার। সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক মনিরুজ্জামান ঘোষনা দেন, আগামী বছরের ১৭ এপ্রিল রবিবার বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মন্ট্রিয়ল বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ উদযাপন করবে। সভাপতি মনিরুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান সার্বজনীন এ উৎসবে অংশগ্রহণ করার জন্য। সেসাথে তারা সকল শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক, পৃষ্ঠপোষকদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ড. আঃ মোত্তালিব, নবী হোসেন ও পাপিয়া সমীর।

Post a Comment

Disqus