আহ্মেদ শাওন /বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৭ এপ্রিল ২০১৫ /
শনিবারের ন্যায় রোববার দুপুর ১টা ১২ মিনিটে নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্প অনুভুত হলে আতংকে হুড়োহুড়ি করে ভবনগুলো থেকে বসবাসকারীরা বের হয়ে আসার সময় অন্ততপক্ষে অর্ধ্বশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। ভূকম্পে বিভিন্ন গার্মেন্টে ও আবাসিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোন কোন ভবন আংশিক দেবে যাওয়াসহ হেলে পড়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করে ক্ষতিগস্ত্র ভবনগুলো থেকে লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। পরে প্রকৌশলী দ্বারা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এসব ভবন গুলো ঝুকিপূর্ণ না হলে ফের বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে নারায়নগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মমতাজ উ্িদ্দন জানান।
জানা যায়, টানবাজারস্থ রাসেল গার্মেন্ট, হাবিব কমপ্লেক্সের সারজা, ফারিয়া, এসিলেন, কেয়া, প্রমিনেন্ট, এসসিক্স, সোনারগাঁয়ের সিনহা গ্রুপের ৬/৭টি বহুতল ভবন, সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ১০/১২ টি কারখানাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গার্মেন্টের কয়েক হাজার শ্রমিক আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে। হুড়োহুড়ি করে নেমে আসার সময় শ্রমিকরা আহত হয়। শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসায় পুরো ১নং রেলগেট এলাকা, টানবাজার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আহতদের মধ্যে সিনহা গ্রুপের সিনহা গ্রুপের হামিদা, সীমা, লাভলী, ববিতা, আমেনা, সেলিনা, আয়েশা, শাহীনুর, শেফালী, রুনা, মর্জিনা, রোকসানা, সুরাইয়া,
ঘনুফা, আমেনা, মাহমুদা, হাসিনা, রোকেয়া, বিউটি, হেলেনা, নুরজাহান, খাদিজা, জয়নব, লিলি, লিমা, ইঞ্জিলা, নুরজাহান, শিউলি, ফরিদার নাম জানা গেছে। আহতদের কাঁচপুর মর্ডান, শুভেচ্ছা ও এ্যাপোলসহ কয়েকটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতের নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবী সিনহা গ্রুপের হাসপাতালে অন্তত আহত আরো ৩০ শ্রমিক রয়েছেন। এ খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা কারখানার হাসপাতালে প্রবেশ করলে চাইলে নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বাধাঁ দিয়ে অশোভন আঁচরন করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার এক ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচ দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউএসজিএ জানায়, প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টা ১৩ মিনিটে। এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিলো নেপালের পোখরায়। সেখানে রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিলো ৭.৯। বাংলাদেশে তা অনুভূত হয় ৭.৫ মাত্রায়। প্রথম ভূমিকম্পের ১৭ মিনিটের মধ্যে ৫.৪ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয় বাংলাদেশে। এরপর ৭ মিনিট পর আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় যার মাত্রা ছিলো ৬.৫। আর তার প্রায় ১০ মিনিট পরে বাংলাদেশ সময় ১২টা ৫৮ মিনিটে চতূর্থ কম্পনটি অনুভুত হয়। যার মাত্রা ছিলো ৫.৮। আর পঞ্চম ভূমিকম্পটি হয় বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা ১৫ মিনিটে। যার মাত্রা ছিলো ৫.২।

Post a Comment
Facebook Disqus