বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৮ জুন ২০১৫ /  পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্র্নীতি ও কুসংস্কারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে কলেজের শিক্ষক পরিষদের সভায় কলেজের ১৮ জন শিক্ষক ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিন্দা ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এসব অভিযোগ সংবলিত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতিকার চেয়ে মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, ঢাকাকে অবহিত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. দেওয়ান হাফিজউদ্দিন আহমেদ এ বছরের ৫ ফেব্র“য়ারি অত্র কলেজে যোগদান করেন। মাত্র সোয়া চার মাস অবস্থানকালীন তিনি কলেজে নিজের একক প্রভাব ও বিধিবহির্ভূত একের পর এক তুঘলকি কর্মকাণ্ড চালিয়ে কলেজের পুরো পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছিলেন। আর এসব অপকর্মের কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের (অধীনস্থ শিক্ষক) এসিআরর ভয় দেখিয়ে টুঁটি বন্ধ করে রাখার অপকৌশল অবলম্বন করার অভিযোগও করেন ক্ষুব্ধ কলেজ শিক্ষকরা। মহিলা কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবুয়াল কায়সার যুগান্তরকে জানান, কলেজ ক্যাম্পাসে বৃহৎ আকারের কর্তনকৃত দুটি মেহগিনি গাছের ১৭ খণ্ড তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে মাত্র ৪৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন, যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় ৮৩ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ওই অধ্যক্ষ সরকারি বাড়ি ভাড়া যথা নিয়মে উত্তোলন করলেও কলেজ ভবনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি দখল করে সেখানে বসবাস করতেন এবং বাড়ি ভাড়ার মাসিক ১০ হাজার ৭৬২ টাকা নিজের পকেটেই গচ্চিত রাখতেন যা বিধিবহির্ভূত। তিনি তার অনুপস্থিতিতে কলেজের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ডিঙিয়ে ৬নং শিক্ষককে বিধিবহির্ভূত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করে যেতেন। বিধি অনুযায়ী, সরকারি কলেজে একটি ক্রয় কমিটি থাকা সত্ত্বেও দেওয়ান হাফিজউদ্দিন সে নিয়মের আদৌ তোয়াক্কা না করে নিজের অফিস রুমের জন্য প্রায় ১ লাখ টাকা মূল্যের আসবাব পত্র ক্রয় করেন। এমনকি কলেজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং হিসেব সম্পূর্ণ নিজে করতেন। এমনকি আনেক কুসংস্কারও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অধ্যক্ষ তার কর্মকালীন কখনই জাতীয় দিবস ২১ ফেব্র“য়ারি ও ২৬ মার্চসহ সরকারি কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করারও রেওয়াজ ছিল। বরং প্রকাশ্যে দম্ভ করে বলতেন, শহীদ মিনারে ফুল দেয়া বেদাআত। কলেজে তার সময়ে সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ছিল নিষিদ্ধ। তিনি এসব ব্যাপারে দম্ভ করেই বলতেন, এগুলো শরিয়তবিরোধী। তাই প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে এই পাপের দায়িত্ব তিনি নিতে পারেন না। এছাড়া, বিসিএস শিক্ষা সমিতি সম্পর্কে বিষোদ্গারসহ শিক্ষক পরিষদের সভায় উসকানিমূলক এবং অপমানজনক বক্তব্য রাখতেন। মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সংবলিত একটি প্রতিবেদন সদয় অবগতির জন্য শিক্ষা সচিব, মহাপরিচালক, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর প্রয়োজনীয় কার্যার্থে প্রেরণ করেছেন।

Post a Comment

Disqus