বর্তমান বার্তা ডট কম / ২৮ জুন ২০১৫ / দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর শহর মংলায়  যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভার অধিবাসীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছে। প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেন-কাম ফুটপাথ নির্মাণের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হলে অতিরিক্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে; কিন্তু এ অবস্থাতেও কাজ চলছে ধীরগতিতে। এতে করে বর্ধিত সময়ের মধ্যেও এর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ আর অসন্তোষ বিরাজ করছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে শহরের অধিকাংশ সড়কই এখন যেন চাষের ক্ষেত হয়ে পড়েছে। পৌরবাসীকে পানি আর কাদা মাটির মধ্যে দারুণ ভোগান্তির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। এদিকে পুরো শহরের সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে এর প্রভাব পড়েছে আসন্ন ঈদ বাজারে। সড়কের ভগ্ন দশার কারণে ব্যবসায়ীরা তেমন বেচাকেনা করতে পারছে না। জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে প্রথম শ্রেণীর মংলা পোর্ট পৌরসভা প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের প্রধান প্রধান কয়েকটি সড়ক ও সড়কের পাশে ড্রেন-কাম ফুটপাথ নির্মাণের কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পগুলোর কাজ এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলার দরুন কাজ চলতে থাকে অত্যন্ত ধীরগতিতে। এক বছরের নির্ধারিত সময় পার হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাতে অতিরিক্ত আরও তিন মাস সময় বর্ধিত করে নেয়। এ অতিরিক্ত সময়ের এরই মধ্যে এক মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কাজ চলছে ধীরগতিতে। এ অবস্থায় বর্ধিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কের মধ্যে শেখ আ. হাই সড়ক, বিএলএস রোড, মাদ্রাসা রোড, শ্রমিক সংঘ সড়ক, হাজী বাহার উদ্দিন সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও সড়ক সংলগ্ন ড্রেন-কাম ফুটপাথ নির্মাণ কাজ চলছে খুবই ধীরগতিতে। এসব নির্মাণ কাজ বর্ষার আগে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে তা নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি। অধিকাংশ সড়কের বেহাল দশা। সড়কের নানা জায়গায় নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে যত্রতত্রভাবে। সড়কের দুপাশে ড্রেন-কাম ফুটপাথ পুরোপুরি নির্মাণ শেষ করা হয়নি। ড্রেন-কাম ফুটপাথ নির্মাণে সড়কে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি করায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সড়কগুলোতে কবে নাগাদ ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এ অবস্থায় বর্ষায় রাস্তায় পানি জমে চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কাদার মধ্যে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রিকশা ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন এমনকি সাইকেল পর্যন্ত চলাচলে ভোগান্তির শেষ থাকছে না। পথচারীসহ যানবাহন চালকদের প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। অফিসগামী লোকজন কর্দমাক্ত রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। পণ্যবাহী ট্রাকগুলো সড়কের মাঝে গর্তে আটকে যাচ্ছে। এছাড়া অনেক সড়ক পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। এতে করে ওইসব সড়কের অধিবাসীদের কষ্টের আর অন্ত থাকছে না।
মংলা পৌরসভা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের চরম খামখেয়ালিপনার দরুন বর্ষার আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। এ অবস্থায় শহরের যানবাহন চালক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা পর্যন্ত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ ব্যাপারে মংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র জুলফিকার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্ধিত সময়ের মধ্যেই যাতে নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ করা হয় তার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ তদারকি করছে। এরপরও যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের জরিমানা গুনতে হবে।

Post a Comment

Disqus