বর্তমান বার্তা ডট কম / ০২ জুলাই ২০১৫ / দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের ঈদ বাজারে ভারতীয় পোশাকের দাপটে কোণঠাসা দেশীয় পোশাক। যশোর অঞ্চলের ক্রেতাদের মধ্যে ভারতীয় টেলিভিশন সিরিয়ালের চরিত্রের নামকরণের পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ঈদ বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পোশাক ব্যবসায়ীরা বৈধ, অবৈধ পথে আমদানি করছে ভারতীয় পোশাক। শহরের বিপণিবিতানগুলোতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটার ধুম। চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অভিযান চলছে প্রতিনিয়ত। এক মাসে ৩০ কোটি টাকার ভারতীয় পোশাক জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র অধিনায়ক। তবে অভিযানে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পোশাক জব্দ হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চোরাকারবারিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সূত্র জানায়, যশোরের শার্শা, বেনাপোল, চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় পোশাক অবৈধভাবে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। অবৈধ চোরাকারবারির সঙ্গে দুই দেশের সিন্ডিকেট জড়িত। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে জুন মাসে অন্তত ৩০ কোটি টাকার ভারতীয় পোশাক জব্দ করেছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে। এদিকে যশোর শহরের কালেক্টরেট মার্কেট, মুজিব সড়ক, এইচএমএম রোড, কাপুড়িয়াপট্টি, সিটিপ্লাজা, জেস টাওয়ারের বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়েছে। যশোর অঞ্চলের ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের নাম ও চরিত্রের নামকরণের পোশাক। কিরণমালা, কোজাগিরি, রায়কিশোরী, জলপরী, ঝিনুকমালা থ্রিপিস ও শাড়ি, থান কাপড়, শার্ট, ইমিটেশন সামগ্রী, নরেন্দ্র মোদি কাপড়ের পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক মোটুপাতলু, ডরিমন, সুপারম্যান বাহারি সব নামের পোশাক নজর কাড়ছে ক্রেতাদের।এবারের ঈদ বাজারের নতুন চমক নরেন্দ্র মোদি পাঞ্জাবি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামকরণের সিট কাপড় যশোরের তরুণ থেকে মধ্যবয়সীদের ঈদ বাজারের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। আর বিক্রেতারা এ কাপড়ের দাম হাঁকাচ্ছেন প্রতি গজ ৫০০ টাকা। এইচএমএম রোডের বিশ্বাস টেক্সটাইলে কথা হয় ঝিনাইদহ থেকে আসা এনামুল হক মঞ্জুর সঙ্গে। তিনি জানান, ঈদে ১৫ বছর ধরে পাঞ্জাবি পরে থাকেন। সামনে ঈদুল ফিতর তাই আগাম পাঞ্জাবি বানাতে এসেছি। ভালো মানের কাপড় কিনে দর্জিবাড়ি যাব। শহরের আল-ফালাহ্ টেইলার্সের পাঞ্জাবির কারিগর শহিদুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে অনেক অর্ডার পেয়েছি। আর কিছু কাজ পেলে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেব। তিনি আরও জানান, এবার পাঞ্জাবি তৈরি করাতে এসে অনেকেই ডিজাইন দেখিয়ে দিচ্ছেন। শিশুদের বাহারি পোশাকের তালিকায় রয়েছে মোটুপাতলু, ডরিমন, সুপারম্যান বাহারি, ফ্লোরটাচ। এবারের ঈদ বাজারে ফ্লোরটাচ পোশাক এক হাজার ২০০ টাকা থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও বাজারে বিক্রি হচ্ছে কামিজ, পার্টি ফ্রক, ঘাগড়া চোলি, লেগিংস সিম্পল লুক আর স্যালোয়ার কামিজ। মনির গার্মেন্টের মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান, কার্টনের নামকরণের পোশাক শিশুদের বেশি পছন্দ। নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক বিক্রি বাড়ছে। এবার ফ্লোরটাচ পোশাক শিশুদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। যশোর-২৬ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, যশোরের বাজারে বিক্রি হওয়া সব পোশাক ভারত থেকে অবৈধভাবে আমদানি করা নয়। বৈধ ও অবৈধভাবে ভারতীয় পোশাক দেশের বাজারে ঢুকছে সত্যি। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এক মাসে (জুন) প্রায় ত্রিশ কোটি টাকার ভারতীয় পোশাক জব্দ করা হয়েছে।
Post a Comment
Facebook Disqus