বার্তা নিউজ / ২৭ আগষ্ট ২০১৬ / বন্দরে পুলিশ গতকাল শনিবার সকালে সুফিয়া বেগম (৩২) নামে ২ নন্তানের জননী এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত সুফিয়া বেগমের লাশ বাড়ির আঙ্গিনায় একটি মেহেদী গাছ থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার কমে মর্গে পাঠায়। নিহতের স্বামী আবু কালাম পলাতক রয়েছে। নিহত সুফিয়া ও তার স্বামী ২ সন্তান নিয়ে বন্দরের কলাবাগ এলাকার গোলাপ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করত। নিহত সুফিয়ার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদ নগর থানার বাসগাই গ্রামে বলে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ারা জানান। এ ব্যপারে বন্দর থানায় ৫ জনকে আসামী করে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ৫৭(৮)১৬। নিহতের পিতা আঃ করিম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীরা হলো নিহতের স্বামী আবু কালাম, দেবর আবু তাহের, আঃ আলিম, আবু হালিম ও শ্বাশুড়ি ানোয়ারা বেগম।
নিহতের মেয়ে সুমাইয়া জানায়, রাতে তার মা ও বাবার সাথে ঝগড়া হয়েছিল। তার মা অভিমান করে রশি নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে তার বাবা তার মাকে চর থাপ্পর মারে। এর পরের ঘটনা সে আর বলতে পারেনি। লাশটি হাঁটুগাড়া অবস্থায় ঝুলে থাকায় অনেকে এটাকে হত্যা বলে আখ্যায়িত করছে। এটা হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে সৃষ্টি হয়ে ধুমরুজাল। নিহতের স্বামী আবু কালাম নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি হোসিয়ারিতে কাজ করতেন।
বাদী আঃ করিম মামলায় উল্লেখ করেন, ৯ বছর পূর্বে তার মেয়ের বিয়ে হয় কুমিল্লা জেলার মুরাদ নগর থানার মৃদ শহীদুল্লাহ মিয়ার ছেলে আবু কালামের সাথে। বিয়ের সময় জামাতাকে যৌতুক দেয়া হয়েছিল। তার পরেও প্রায় সময় আবু কালামসহ দেবর, শ্বাশুড়ি মিলে তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য মারধর ও নির্যাতন করত। গত শুক্রবার রাতে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। নয়তো তার মেয়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। তার মেয়ে নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। 
এ ব্যপারে বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, সংবাদ পেয়ে সকালে পুলিশ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে। ময়না তদন্তের পর বলা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা। নিহতে পিতা মামলা দিয়েছে। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
এদিকে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের পিতার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ। লাশ নিহতের গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।   


Post a Comment

Disqus